রহস্যময় বন হোইয়া বাসিও

আরিফ রায়হান

বুধবার , ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ
95

হোইয়া বাসিও। বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় এক বনের নাম। এটি রোমানিয়ার ট্রানসিলভানিয়ায় অবস্থিত। বনটি যেন রহস্যের এক আধার। ১৯৬৮ সালে জীববিজ্ঞানী আলেকসান্দ্রু সিফট একটি ছবি তোলেন। ছবিতে ধরা পড়ে গোলাকার কালো কিছু একটা উড়ে যাওয়ার অস্তিত্ব। ছবিটি দেখে অনেকে ভাবতে শুরু করে, এ হয়তো ভিনগ্রহের কোনো আকাশযান। স্থানীয় লোকজন এই বনে যেতে সাহস করে না। আবার যারা গেছে তারা কখনো সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। জঙ্গলটির ভেতরে ঢুকলেই নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে থাকে। কারো গায়ে ফুঁসকুড়ি, কারো মাথা ঘোরে, বমি বমি লাগে, মাথা ব্যথা করে, শরীর জ্বালাপোড়া করে। এভাবে কোনো না কোনো সমস্যা হয়েছে। অনেকে আবার বনে গিয়ে কখনো আর ফিরেনি। বনটি নিয়ে অনেক গল্প-কাহিনি রয়েছে। এর মধ্যে প্রচলিত একটি গল্প রয়েছে- এক রাখাল ছেলের প্রায় দুই শত ভেড়া ছিল। ভেড়ার সেই বিশাল পাল চড়াতে একদিন গেল সেই জঙ্গলে। সেই যে ছেলেটা গেল আর ফিরে এলো না। পরে সেই ছেলের নাম থেকে জঙ্গলটির নাম দেওয়া হলো হোইয়া-বাসিও বন।
হোইয়া-বাসিও বনে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা এখানেই শেষ নয়। এর পরও বনটিতে অনেক মানুষ হারিয়ে গেছে। ভয়ে মানুষ এখনো ওই বনে প্রবেশ করে না। একবার একটি পাঁচ বছরের মেয়ে ওই বনে ঢুকে হারিয়ে গিয়েছিল। পরে মেয়েটি বেরিয়ে আসে পাঁচ বছর পর। কিন্তু এই পাঁচ বছর মেয়েটি বনের ভেতরে কী করেছে, তার কিছু মনে নেই। সে যেন এক ভুতুড়ে কাণ্ড।
এই বনের গাছগুলোও যেন কেমন কেমন। কোনো কোনো গাছ পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে সাপের মতো এঁকেবেঁকে উঠে গেছে। আবার কোনো গাছের আকৃতি এমন, দেখলেই গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। আর বনজুড়ে এমন রহস্যময় পরিবেশ, কেউ একা গিয়ে চুপটি করে দাঁড়িয়ে থাকলে শিউরে উঠবে।
রোমানিয়ার এই বন নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে। সেখানে একে একে আসতে লাগলেন বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা। কিন্তু তাঁরাও নানা অদ্ভুত ঘটনার মুখোমুখি হতে লাগলেন। সব মিলিয়ে রোমানিয়ার এই হোইয়া-বাসিও জঙ্গলের রহস্য দিন দিন আরো ঘনীভূতই হয়েছে, কিন্তু রহস্যভেদ হয়নি। অনেক বিজ্ঞানী অবশ্য এক ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁরা বলছেন, সেখানে বেশ কিছু শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র রয়েছে। সেগুলোর জন্যই এমন অদ্ভুতুড়ে কাণ্ডকারখানা হয়। তবে আরেক পক্ষ বলছে, ওখানকার চৌম্বকক্ষেত্রগুলো এতটা শক্তিশালী নয়, যার ফলে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে পারে। এই পক্ষ আবার দাবি করে, ওই জঙ্গলে মানুষ হারিয়ে যাওয়ার কাহিনিগুলোও কেবল গল্প, সত্যি নয়। তবে বিষয়টি যদি একেবারেই সত্যি না হয়, তাহলে এত দিন ধরে এই জঙ্গলকে ঘিরে এত গল্পই বা হবে কেন?

Advertisement