রমজানে বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে হবে

শনিবার , ৪ মে, ২০১৯ at ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
35

পবিত্র রমজান মাসে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে সময়টা অতিবাহিত করতে চান। সংযমের মাসটি পালনে বিশেষ মনোনিবেশ প্রত্যক্ষ করি আমরা। ধর্মীয় নিয়ম ও বিধিবিধান মতো এবাদত-বন্দেগীতে সময় অতিবাহিত করেন তাঁরা। মসজিদে মসজিদে শুরু হয় খতমে তারাবি, ঘরে-বাইরে সর্বত্রই চলে ব্যাপক প্রস্তুতি ও নানা রকম আয়োজন। বাজার ভর্তি নানাবিধ পণ্যদ্রব্যের সমারোহ। কমতি নেই কোনো কিছুর। অথচ কোনো কোনো নিত্যপণ্যে কেন যেন চলছে অকারণে অস্থিরতা।
অন্যদিকে, রমজান মাসে ঘরে ঘরে এবং মসজিদগুলোতে বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদা বেড়ে যায়। গ্যাসের চাহিদাও বৃদ্ধি পায় ঘরে। তবে এসব ক্ষেত্রেও তেমন সুসংবাদ নেই বলে পত্রিকার প্রতিবেদনসূত্রে জানা গেছে। দৈনিক আজাদীর ২৭ এপ্রিল সংখ্যার প্রথম পাতায় ‘রমজানে গ্যাস বিদ্যুৎ পানি নিয়ে শঙ্কা থাকছেই’ শীর্ষক প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, সারা বছরই নগরবাসীর অভিযোগ থাকে, তাদের চাহিদা অনুযায়ী পূরণ হয় না নাগরিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তিন অনুষঙ্গ। এগুলো হচ্ছে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস। সাধারণ মানুষ বিগত বছরগুলোর কোনো না কোনো সময়ে সুপেয় পানি সরবরাহ করতে না পারার অভিযোগ করেন ওয়াসার বিরুদ্ধে। আবার গ্যাসের অভাবে চুলা না জ্বালানোর চিত্রও দেখা গেছে অনেক এলাকায়। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ার দাবিও আছে সমানভাবে। এমন পরিস্থিতিতে ঘনিয়ে আসছে পবিত্র মাহে রমজান। বছরের বিভিন্ন সময়ে দুর্ভোগ পোহানো নগরবাসীর প্রত্যাশা, রমজান মাসে যেন অন্তত তাদের চাহিদা পূরণ হয়। সাধারণ মানুষ বলছে, রমজান মাসে অন্তত চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ করে ইফতার ও সেহেরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও পানি সরবরাহ করা হয়। একই সময়ের পাশাপাশি তারাবির নামাজের সময়ও লোডশেডিং থেকে মুক্তি চান চট্টগ্রামবাসী। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কতটা প্রস্তুত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তথা চট্টগ্রাম ওয়াসা, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)? এ প্রশ্নের উত্তরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেছেন, রমজানের জন্য তাদের প্রস্তুতি আছে। নগরবাসীর চাহিদা পূরণে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তবুও নগরবাসীর মনে আছে শঙ্কা।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ খুব চেষ্টা চালাচ্ছে বলে চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যা যা দরকার তা করছি। রমজান মাসে সেহেরি, ইফতার এবং তারাবির সময় শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করব। তবে দিনের বেলায় মাঝেমধ্যে আমাদের ‘মেনটেনেন্স’ কাজ করতে হয়। অবশ্য এই সংস্কার কাজ সব জায়গায় না, দুই এক জায়গায় হবে। রমজান মাস বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য মনিটরিং করা হবে জানিয়ে তিনি বলেছেন, প্রত্যেক দপ্তরে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে কমিটি গঠন করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবে সেন্ট্রাল কমিটি এবং বিভাগওয়ারি কমিটিগুলো থাকবে নির্বাহী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে। আর সবকিছু সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করবেন প্রধান প্রকৌশলী। কমিটি পুরো রমজান মাস এবং ঈদের সময় মনিটরিং করবেন।
দেশে এতো বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, তারপরও যদি সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ না পায়, বিশেষ করে রমজানে, তাহলে তা হবে দুঃখজনক। একই কথা বলা যায় গ্যাস ও পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে।
দেশজুড়ে চলমান গ্যাস-সংকটের নিরসন সহজে হচ্ছে না। আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভর করে সংকট নিরসনের যে আশা দেখানো হয়েছিল, পাইপলাইনের সমস্যায় তা-ও ক্রমে দুরাশায় পরিণত হচ্ছে। দেশের বিদ্যমান কিংবা নতুন কোনো ক্ষেত্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগেও অগ্রগতি নেই। দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সার কারখানা, সিএনজি স্টেশন, আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকেরা এমনিতেই ক্রমবর্ধমান গ্যাস-সংকটে জর্জরিত। পবিত্র রমজানে গ্যাসের চাহিদা বাড়বে বলে সংকট আরও বেড়ে যাবে। এই আশংকা সংশ্লিষ্টদের।
আসলে বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির মতো জরুরি সেবাগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। বিশেষ করে রমজানকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস জরুরি এসব সেবার সরবরাহে যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে, তার ব্যবস্থা করা অত্যাবশ্যক। পবিত্র রমজান মাসে বিদ্যুৎ- গ্যাস-পানির সরবরাহ যথাসম্ভব নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষভাবে তৎপর থাকতে হবে সংশ্লিষ্টদের।
এ কথা অনস্বীকার্য যে, জনসংখ্যা অনুপাতে সীমিত সম্পদ নিয়ে এসব সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে সরকারকে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে চাহিদাও বাড়ছে দিন দিন। রাতারাতি একযোগে সব সমস্যার সমাধান করা যাবে না। সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন নেই। গত ক’বছরে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে যথেষ্ট সাফল্য লক্ষ্য করা গেছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সমস্যারও সমাধান হবে। সে অবস্থায় ধৈর্য ধরতে হচ্ছে জনসাধারণকে। এতোসব বোঝার পরও আমরা রমজান মাসে বিদ্যুৎ গ্যাস আর পানি নিয়ে শংকায় থাকতে চাই না। এর জন্য যা যা করা দরকার, তার ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে।

x