রমজানে জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে

রবিবার , ২৯ এপ্রিল, ২০১৮ at ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ
74

রমজান সমাগত। রমজান মাস এলেই এক শ্রেণির ব্যবসায়ী উৎফুল্ল হয়ে ওঠে। রমজান মাসকে পুঁজি করে কয়েক দফা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ানো যায়। এসব ব্যবসায়ী সমাজ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বর্তমান মূল্যের দ্বিগুণ তিন গুণ বাড়িয়ে দেয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া নিয়ন্ত্রণে (কয়েকটি পণ্য বাদে) রাখতে পারে নি। রমজান মাসে সব সমস্যার মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। এসব পণ্যের মধ্যে ডাল, গম, ভোজ্য তেল, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, আদা, ছোলা, মটর, শুকনো মসলা, বরবটি, করলা, চালকুমড়া, লাউ, লেবু, খেঁজুর, আপেল, কমলা, কলা, মুড়িসহ গুড় চিনি ইত্যাদি। আমরা দেখেছি সরকার প্রতি বছর রমজান উপলক্ষে বিদেশ থেকে শুকনো ফলমূলসহ নানা ধরনের ইফতার সামগ্রী আমদানির জন্য আমদানিকারকদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকেন। কিন্তু এ সুবিধা থেকে জনগণ সব সময়ই বঞ্চিত থাকেন। মাঝখানে এ সুফল ভোগ করে মধ্যস্বত্বভোগী আমদানিকারকরা। রমজান উপলক্ষে প্রদত্ত ছাড় ভোগ করে পণ্য আমদানি করা হবে আর উল্টো খেসারত দেবে জনগণ এটা কি করে হবে? এ ব্যাপারে সরকার যদি নির্লিপ্ত প্রায় ভূমিকা পালন করে তাহলে জনমনে সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন দেখা দেবে। এমনিতে আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা কুঅভ্যাস আছে। তাহলএকটু সুযোগ পেলেই দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেয়।

হালালহারাম বৈধ অবৈধের কোন তোয়াক্কাই করে না। আমাদের দেশে রমজান মাসে সব ধরনের ভোগ্য পণ্যের মূল্য বেড়ে যায়। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য হয়ে যায় আকাশচুম্বী। এ উপলক্ষে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের জন্য অনেকে সব পণ্যাদি মাসের পর মাস গুদামজাত করে রেখে বাজারে কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করে। অথচ মূল্য বৃদ্ধির আশায় ভোগ্যপণ্য (বিশেষ করে খাদ্য শস্য) ৪০ দিনের বেশি গুদামজাত রাখা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। হাদিসে আছে কোন ব্যক্তি যদি মূল্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাদ্য শস্য ৪০ দিনের বেশি মজুত রাখে তার কাফ্‌ফারা (ক্ষতিপূরণ) হবে না। অথচ আমাদের সমাজে ধার্মিক অধার্মিক নির্বিশেষে সবাইএ কাজ করে যাচ্ছে। মহানবী (.)-এর সতর্ক বাণীটি টিভিতে বেশি বেশি প্রচার করা উচিত। এ ব্যাপারে সরকারের কাছে আমাদের সবিনয় আবেদন রমজান উপলক্ষে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য (ইফতারির পণ্য) আমদানির সঙ্গে সঙ্গে আমদানিকৃত সামগ্রীর ন্যায়সঙ্গত মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া অর্থাৎ রমজান মাসে নিয়ন্ত্রণ রাখা। আর ব্যবসায়ীরা যাতে অযৌক্তিকভাবে জনগণের অর্থ হাতিয়ে নিতে না পারে সে বিষয়ে সরকারি নজরদারির আহ্বান জানাচ্ছি।

এম. . গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণপশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x