রমজানে করণীয় ও বর্জনীয়

শনিবার , ১১ মে, ২০১৯ at ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
45

আপনি ভাগ্যবান, জীবনে আপনি আরও একটি রমজান পেয়েছেন। তাই রমজানকে স্মরণীয় করে রাখতে কোরআন ও বিজ্ঞানের আলোকে এ সম্পর্কে করণীয়, বর্জনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে নিন। নবীজি (দ.) বলেন, হে মানুষ তোমাদের কাছে এসেছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতপূর্ণ একটি মাস। রমজানের সময় নফল ইবাদত ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব। আর একটি ফরজ ইবাদত সত্তরটি ফরজ আদায়ের সমান সওয়াব। রমজান মাসে রোজা রাখা সব সুস্থ সক্ষম মানুষের জন্য ফরজ করা হয়েছে। রোজা সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। রোজা শরীরের জন্য ক্ষতিকর, রোজা শরীরকে দুর্বল করে দেয়, আলসার থাকলে রোজা রাখা যায় না, এ সব ভুল ধারণা।
রোজা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় বরং আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে রোজা বা উপবাসে সাময়িক খাদ্য সংকটকালে দেহকোষের অভ্যন্তরে সৃষ্ট টক্সিনগুলোর বিনাশ ঘটে। এই প্রক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক নাম অটোফেজি। জাপানের চিকিৎসাবিজ্ঞানী ইউশিনোরি ওসুমির গবেষণা অনুসারে অটোফেজি চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকে যখন দেহ ১২-১৬ ঘণ্টা না খেয়ে থাকে।
তাই গ্রীষ্মকালীন রোজা পালনে দীর্ঘ অনাহারে একদিকে দেহে যেমন শুদ্ধি অভিযান চলে, অন্যদিকে মুক্ত থাকে ঝগড়া-ফ্যাসাদ এবং গীবতের মতো ধ্বংসাত্মক চর্চা থেকে।
তাই রমজান মাসে করণীয়-বর্জনীয় মেনে চললে আপনি লাভবান হতে পারবেন। আসুন এ মাসকে আত্মশুদ্ধি ও সৃষ্টির সেবার মাধ্যমে কাজে লাগাই।
রমজানের উপকারীতা

রোজা রাখার মাধ্যমে রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টরেল কমে যায়। স্মৃতিভ্রম বা মস্তিষ্কের বয়সজনিত রোগগুলোর ঝুঁকি কমায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনে। ইনসুলিন দেহে ছড়িয়ে পড়ে ভারসাম্যপূর্ণ মাত্রায়।
এছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি কমায় এবং আলসারের সমস্যা কমে যায়। দেহ মনের বিষন্নতা কমায়। রমজানে ভাজা পোড়া বাদ দিয়ে প্রাকৃতিক খাবার খেলে আপনার বাড়তি ওজন কমে যাবে। দেহ মনে আসবে সতেজতা।
রমজানে যা বর্জন করবেন

রমজান সংযমের মাস। তাই রমজানে খাদ্য উৎসব থেকে দূরে থাকুন। খাওয়া দাওয়া কথা বার্তাসহ সব বিষযে সংযমী হতে হবে। ইফতার সেহেরীতে প্রোটিন জাতীয় খাবার ( মাংস, মাছ, ডিম) ও ভাজা পোড়া কম খাবেন। দাওয়াতের গেলেও ভাজা পোড়া তৈলাক্ত খাবার নীরবে এড়িয়ে যাবেন।
মনে রাখবেন প্রোটিন জাতীয় খাবার পানির তৃষ্ণা বাড়ায়। ছোলা, খেজুর পানিসহ হালকা কিছু দিয়ে ইফতার করুন। খেজুর শরীরে সুক্রোজ তৈরি করবে, যা খেলে শরীরে শরবতের প্রয়োজন হবে না। এরপর মাগরিবের নামাজ পড়ে রাতের খাবার খেয়ে নিবেন। ভাত, শাক-সবজি ও ডাল দিয়ে রাত এবং সেহরীর খাবার খান।
ইফতারে প্যাকেটজাত জুস বা ব্রান্ডের তৈরি রসের পরিবর্তে দেশীয় মৌসুমী ফল খান। রমজানে টিভি ও মোবাইল স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন। এছাড়াও স্মার্টফোন থেকে ইউটিউব, ফেসবুকসহ যাবতীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

x