রবীন্দ্র জীবনে মৃত্যুর অভিজ্ঞান

দিলীপ কুমার বড়ুয়া

শুক্রবার , ১০ আগস্ট, ২০১৮ at ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ
59

সৃষ্টির আলোয় ছুঁয়েছিলেন বাঙালীর মনপ্রাণ। তাঁর হাত ধরেই বাংলা সাহিত্য স্বদেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বৈশ্বিকতায় স্থান করে নিয়েছিল । শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রকে রবীন্দ্রনাথ তাঁর সৃষ্টির ঐশ্বর্যে আলোকিত করেছেন। মৃত্যুর এত বছর পর ও তিনি এমনই

মহীরূহ, যার শাখাপ্রশাখা বাঙালি এবং বাংলা ভাষা

ও সংস্কৃতিকে নবতর সৃষ্টির পথ দেখায়। আমাদের প্রতিদিনের আনন্দ, বেদনায়, দ্রোহে ও প্রেমে রবীন্দ্রনাথের নান্দনিক সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রেরণা

সঞ্চারিত করে ।

বাঙালির অস্তিত্বের অফুরান উৎস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যার সূর্যের মতোই দীপ্তি, উত্তাপ আর ঔজ্জ্বল্য। আপন সৃষ্টির নির্যাসে প্রতিনিয়ত নির্মাণ করেছেন আমাদের জাতিসত্তার মননকে। পরিণত হয়েছেন বাঙালীর প্রাণের মানুষে। শিল্পসাহিত্যের আলোকধারায় ছড়িয়েছিলেন রবির কিরণ। সৃষ্টির আলোয় ছুঁয়েছিলেন বাঙালীর মনপ্রাণ। তাঁর হাত ধরেই বাংলা সাহিত্য স্বদেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বৈশ্বিকতায় স্থান করে নিয়েছিল । শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রকে রবীন্দ্রনাথ তাঁর সৃষ্টির ঐশ্বর্যে আলোকিত করেছেন। মৃত্যুর এত বছর পর ও তিনি এমনই মহীরূহ, যার শাখাপ্রশাখা বাঙালি এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে নবতর সৃষ্টির পথ দেখায়। আমাদের প্রতিদিনের আনন্দ, বেদনায়, দ্রোহে ও প্রেমে রবীন্দ্রনাথের নান্দনিক সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রেরণা সঞ্চারিত করে । সাহিত্যের বিশাল অঙ্গনে রবি প্রভা দীপ্যমান, চির অম্লান। তাইতো এখনও সমান প্রাসঙ্গিক রবীন্দ্রনাথ।

রবীন্দ্রনাথ বাঙালি মননে সতত দ্যুতিময় তাঁর অসীম প্রতিভার বদৌলতে। তাঁর সৃষ্টির ক্ষেত্র নির্মাণে জীবনমৃত্যুর সীমানা পেরিয়ে সীমার মাঝেই অসীমের অনুসন্ধানে নিমগ্ন ছিলেন আজীবন । অল্প বয়স থেকেই মৃত্যুবিরহ কাতর হৃদয়ের একটি আর্তনাদ তাঁকে ভাবিয়েছে। জীবনের প্রবহমানতায় মৃত্যু অনিবার্য , ধ্রুব সত্য। কবি তাই মৃত্যুর মধ্যে বিচ্ছিন্নতাকে স্বীকার করেননি! মৃত্যুও প্রবাহমান জীবনের প্রধানতম অনুষঙ্গ। ব্যক্তি জীবনের মৃত্যুশোকের বলয়ে মৃত্যু মানেই বিলুপ্তি নয়! নয় শূন্যতা! নয় রিক্ততা। মৃত্যুই জীবনকে পূর্ণতা প্রদান করে।

কবি মৃত্যু সম্বন্ধে বহু কবিতা লিখেছেন। জীবন ও মৃত্যুর মাঝে সেতু নির্মাণ করার চেষ্টা করেছেন । মৃত্যু ভাবনায় অন্তর্গত উপলব্ধি দিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন মৃত্যু ও নশ্বরতার সীমানা। তাঁর কাব্যে মৃত্যুর প্রতিধ্বনি বারংবার অনুরণিত হয়েছে। প্রতিবারই মৃত্যুকে জয়ের এক আরাধনাপ্রতিম প্রয়াস ছিল তাঁর । তিনি মৃত্যুকে বন্দনা করেছেন এভাবেমরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম সমান। / মেঘবরণ তুঝ, / মেঘ জটাজুট! / রক্ত কমলকর, / রক্ত অধরপুট, / তাপ বিমোচন করুণ/ কোর তব মৃত্যুঅমৃত করে দান। রবীন্দ্র কাব্যে মৃত্যুচেতনার প্রবল স্রোতধারা পাঠককেও নিয়ে গেছে মৃত্যুর কল্পনার জগতে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উচ্চারণ করতে পেরেছিলেন, “মৃত্যু দিয়ে যে প্রাণের মূল্য দিতে হয়/ সে প্রাণ অমৃতলোকে / মৃত্যুকে করে জয়!” নৈবেদ্য কাব্যের দুটি কবিতাজন্ম ও মৃত্যু । জন্মজীবনের সিংহদ্বারে পশিনু যে ক্ষণে/ এ আশ্চর্য সংসারের মহানিকেতনে/ সে ক্ষণ অজ্ঞাত মোর। মৃত্যুমৃত্যু ও অজ্ঞাত মোর। আজি তার তরে/ ক্ষণে ক্ষণে শিহরিয়া কাঁপিতেছি ডরে। রবীন্দ্রনাথের মধ্যবয়সে লেখা এ কবিতা দুটিতে তিনি প্রকাশ করেছেন জন্মমৃত্যু কোনো এক অজ্ঞাত অনুভূতির উপলব্ধ বিষয়। মৃত্যু রবীন্দ্রনাথের জীবনে ছায়া ফেলেছিল প্রবল ভাবে । কিন্তু মৃত্যু তাঁর দীপ্র চেতনাকে ঢেকে দিতে পারেনি আঁধারে। কারণ মৃত্যুকে তিনি অন্তরে লালন করেছেন অমৃত রূপে। মৃত্যু সেখানে জীবনের নতুন শিল্প। কাছের মানুষের মৃত্যুতে সাময়িক শোকবিহ্বল হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ব্যক্তিজীবনে মৃত্যুকে বড় গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন । বালক বয়সে মায়ের মৃত্যুর সাথে প্রথম সাক্ষাৎকারের অনুভবটুকু বরাবরই তাকে যন্ত্রণা কাতর করতো। প্রথম দেখা মৃত্যুর এই শান্ত সমাহিত রূপটিই তাঁর চেতনায় মৃত্যুর একটা স্থায়ী ভাবনা গড়ে তুলেছিল। জীবনস্মৃতিতে কবি উদ্ধৃত করেছেন শোককে ভুলবার শক্তি শৈশবেই প্রবল থাকে! শৈশব কোনো আঘাতকেই গভীরভাবে গ্রহণ করে না! “এইজন্য জীবনে প্রথম যে মৃত্যু কালো ছায়া ফেলিয়া প্রবেশ করিল তাহা আপনার কালিমাকে চিরন্তন না করিয়া ছায়ার মতোই একদিন নিঃশব্দপদে চলিয়া গেল!” “কিন্তু আমার চব্বিশবছর বয়সের সময় মৃত্যুর সঙ্গে যে পরিচয় হইল তাহা স্থায়ী পরিচয়!” কবি বলেছিলেন তাঁর প্রিয় বৌঠাকুরানী কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুর কথা ! কাদম্বরীর আকস্মিক মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল রবীন্দ্রনাথকে। রবীন্দ্রনাথ উপলব্ধি করেছিলেন মৃত্যশোকের সুতীব্র যন্ত্রণা, প্রিয়জনের বিয়োগ ব্যথা। রবীন্দ্রনাথের প্রিয় ছুটিমৃণালিনী দেবী সংসার জীবন থেকে একদিন ছুটি নিয়ে পাড়ি জমালেন অমৃতলোকে । সমাপ্তি ঘটল মাত্র ১৯ বছরের দামপত্য জীবনের। শান্তিনিকেতন গড়ে তোলার প্রথম পর্বেই কবি হারালেন তাঁর অন্যতম সহযোগীকে! শুরু হল আবার তাঁর একাকীত্বে বসবাস। আক্ষরিক অর্থে মৃত্যু এতদিন তাঁর আশেপাশেই ঘোরাফেরা করেছে, তবু সরাসরি তাঁর নিজের সংসারের মধ্যে প্রবেশ করেনি। এবার এ মৃত্যু আঘাত হানল সরাসরি তাঁর নিজের সংসারেই । রবীন্দ্রনাথের জীবনের বিভিন্ন স্তরে অনেক প্রিয়জনের মৃত্যুর শোক সয়েছিলেন। শৈশবে কবি হারিয়েছিলেন মমতাময়ী মাকে। তারপর প্রথম যৌবনে বৌঠান কাদম্বরী দেবীর মৃত্যু। এরপরে প্রিয়তমা পত্নী মৃণালিনী দেবী, মধ্যমা কন্যা রেণুকা, কনিষ্ঠ পুত্র শমীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জেষ্ঠ্যা কন্যা বেলার অকাল মৃত্যু। অবশেষে কবির বার্ধক্য জীবনে এসে মৃত্যুশোক আসে ভ্রাতুষপুত্র সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনাবসানে। বার বার মৃত্যুশোক আলিঙ্গন করেছিল কবিকে। তিনি তাকে সামলেছেন প্রকৃতির সাবলীল ধারণা দিয়েই। কবির জীবনে স্ত্রীর মৃত্যু বিশেষ ভাবে অভিঘাৎ ফেলে । তার পরিচয় রয়ে গেছে স্মরণ কাব্যগ্রন্থের ছত্রে ছত্রে! রয়ে গিয়েছে সমকালীন অনেক গানের কলিতে স্বপন যদি ভাঙ্গিলে রজনী প্রভাতে, মনমোহন গহন যামিনী শেষে, আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, দুঃখরাতে হে নাথ কে ডাকিলে, শুন্যহাতে ফিরি হে নাথ, নিবিড় ঘন আঁধারে জ্বলিছে ধ্রুবতারা, আমারে কর জীবন দান, গভীর রজনী নামিল হৃদয়ে । স্মরণ গ্রন্থে লিখছেনআজিকে তুমি ঘুমাও, আমি জাগিয়া রব দুয়ারে/ রাখিব জ্বালি আলো।/তুমি তো ভালো বেসেছ, আজি একাকী শুধু আমারে/বাসিতে হবে ভালো।/আমার লাগি তোমারে আর হবে না কভু সাজিতে, /তোমার লাগি আমি/এখন হতে হৃদয়খানি সাজায়ে ফুলরাজিতে/………তোমার বাহু কতনা দিন শ্রান্তিদুখ ভুলিয়া/গিয়েছে সেবা করি, /আজিকে তারে সকল তার কর্ম হতে তুলিয়া/রাখিব শিরে ধরি।/এবার তুমি তোমার পূজা সাঙ্গ করি চলিলে/সঁপিয়া মনপ্রাণ, /এখন হতে আমার পূজা লহো গো আঁখিসলিলে/আমার স্তবগান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনের প্রথম প্রভাতে দাঁড়িয়ে মৃত্যুকে অমৃতের স্বরূপ বলেই আহ্বান করেছিলেন ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলীতে । আবার, আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে/তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে গানটির আলোকে সহজে অনুমান করা যায় রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুচিন্তায় নান্দনিকতার সফল উপস্থিতি আছে। মানুষের জীবনের সবচেয়ে চিরন্তন সত্য এবং নির্লঙ্ঘনীয় সহজ সংঘটিত ঘটনা হলো মৃত্যু। মৃত্যু আর এক জীবন, সে জীবনে সার্থক সমর্পণই মৃত্যু। নৈবেদ্য কাব্য গ্রন্থে মৃত্যু কবিতায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেনমৃত্যু অজ্ঞাত মোর/আজি তার তরে/ক্ষণে ক্ষণে শিহরিয়া কাঁপিতেছি ডরে/এত ভালোবাসি/বলে হয়েছে প্রত্যয়/মৃত্যুরে আমি ভালো/বাসিব নিশ্চয়। এভাবেই একদিন পার্থিব জীবনের সমাপ্তি টেনে তিনি লিখেছেনআমার দিন ফুরালো, ব্যাকুল বাদলসাঁঝে …… রবীন্দ্রনাথ মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে ২২শে শ্রাবণে পাড়ি জমান অস্তাচলে । শ্রাবণবর্ষণে তিনি যেন পেয়েছিলেন মুক্তির ডাক।

রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর সত্তর দশক পার হয়েও যেন মৃত্যুহীন অনন্ত জীবনের আলোকধারায় মৃত্যুচেতনাকে কেন্দ্র করে সৃজিত কিছু অবিস্মরণীয় পঙক্তিমালায় আমরা খুঁজে পাই তাঁর মৃত্যুর অভিজ্ঞান মরণের মুখে রেখে দূরে , যাও দূরে যাও চলে ,মরণ বলে, আমি তোমায় জীবনতরী বাই , আবার যদি ইচ্ছা করে আবার আসি ফিরে , পেয়েছি ছুটি বিদায়/ দেহো ভাই/ সবারে আমি প্রণাম করে যাই/ ফিরায়ে দিনু ঘরের চাবি/ রাখি না আর ঘরের দাবি/ সবার আজি প্রসাদ বাণী চাই, আবার যাবার বেলাতে সবাই জয়ধ্বনি কর , জানি গো দিন যাবে/ এ দিন যাবে/ একদা কোনো বেলা শেষে/ মলিন রবি করুণ হেসে/ শেষ বিদায়ের চাওয়া/ আমার মুখের পানে চাবে ।

স্রষ্টার অপার মহিমাকে মননে অনুধাবন করে কবি লিখেছিলেনহে সুন্দর, হে সত্য, তুমি আমায় এ মোহ বাঁধন থেকে মুক্ত করো শূন্য করে দাও ,আমার হৃদয় আর এই শূন্যতার মাঝে আমার হৃদয় আসনে তুমি সুপ্রতিষ্ঠিত হও। দুঃখের অনলে দহনে মধ্য দিয়ে শোধন করে আমায় সুন্দর করো, গ্রহণ করো। সাহিত্যিক জীবনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় রবীন্দ্রনাথ অনেক ঘাতপ্রতিঘাত সহ্য করেছেন। মৃত্যুর বেদনাবহ ঘটনা যেখানে সমগ্র মানব সত্তাকে আলোড়িত করে দিতে সক্ষম, সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একান্ত স্বজন হারিয়েও নিজেকে স্থির রেখেছিলেন। তবে কাব্যসাহিত্যে কবির মৃত্যুদর্শন নানা অনুষঙ্গে বিকশিত ও সমন্বিত হওয়া থেকে উপলব্ধ হয়।তারও অন্তর্দেশ জুড়ে প্রচুর ভাঙচুর চলেছে। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বতানকে জীবন গানে মেলাবার চেষ্টা করেছেন। তিনি রচনা করেছেন দুঃখের গান যা মানুষের মন অনন্তর পানে ধেয়ে যায়। এ অনাবিল অনন্তের ধারা মৃত্যু পরবর্তী অবস্থায় পর্যবসিত। তিনি বলেনজীবন যখন শুকায়ে যায় করুণা ধারায় এসো। /সকল মাধুরী লুকায়ে যায়, গীতসুধারসে এসো, /কর্ম যখন প্রবলআকার গরজি উঠিয়া ঢাকে চারি ধার, /হৃদয়প্রান্তে, হে জীবন নাথ, শান্ত চরণে এসো। মৃত্যুর পরম সত্যকে উপলব্ধিতে এনে রবীন্দ্রনাথ তাঁর রচনায় নান্দনিক জীবনদর্শন বিধৃত করেছেন । তিনি লিখেছেন, জীবনেরে কে রাখিতে পারে, আকাশের প্রতি তারা ডাকিছে তাহারে। কবি অনন্যসাধারণ শিল্পময়তায় মৃত্যুচিন্তার ভেতর থেকে মৃত্যুর নান্দনিক দিক উন্মোচন করেছেন । মৃত্যুর সৌন্দর্য আস্বাদন করে তিনি সেই পরম উপলব্ধির অমিয়ধারা ছড়িয়ে দিয়েছেন কবিতা ও গানে, সাহিত্যের নানা শাখায়আমার পৃথিবী তুমি বহু বরষের/তোমার মৃত্তিকা সনে/আমারে মিশায়ে লয়ে অনন্ত গগনে/অশ্রান্ত চরণে/করিয়াছ প্রদক্ষিণ সবিতৃমণ্ডল/অসংখ্য রজনী দিন যুগযুগান্তর ধরি ।

মৃত্যুর এত বিশাল জলধি পেরিয়ে এমন বিপুল সৃষ্টির ধারাকে অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টায় রোগশয্যায় শুয়ে শুয়েও কবি অবিরাম সৃষ্টি করেছেন তাঁর অভিজ্ঞতার অমেয় ঐশ্বর্যময় ভূবন। কবির বিষণ্ন হৃদয়ের আকূতি ভারী করে তোলে আমাদের চারপাশআমার দিনের শেষ ছায়াটুকু /মিশাইলে মূলতানে/ গুঞ্জন তার রবে চিরদিন/ ভুলে যাবে তার মানে। আমি জানি, যাব যবে/ সংসারের রঙ্গভূমি ছাড়ি/ সাক্ষ্য দেবে পুষপবন ঋতুতে ঋতুতে/ এ বিশ্বেরে ভালোবাসিয়াছি/ এ ভালোবাসাই সত্য, এ জন্মের দান/ বিদায় নেবার কালে/ এ সত্য অম্লান হয়ে মৃত্যুরে করিবে অস্বীকার। বাস্তববাদী কবি রোগশয্যায় ও শেষ লেখার পঙক্তিতে প্রকাশ করেছেন জীবনব্যাকুল অনন্য অনুভব। তাঁর কবিতা দ্যুতি ছড়ালো মানব অভিজ্ঞানের ।

বাঙালিকে, বিশ্ববাসীকে আজো পথ খুঁজতে হয় কবিগুরুর কর্মের স্ফুলিঙ্গ ধরে। তাই তাঁর মৃত্যুদিনে যতই ব্যথা থাক, জেগে ওঠে পুষপধ্বনি। তাঁর ভাষায়, মৃত্যু হতে জাগো পুষপধনু/হে অতনু, বীরের তনুতে লহো তনু। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে অসীম, অতলসম সৃষ্টিসম্ভার রেখে গেছেন তা আমাদের পরম পাথেয়। তাই আমাদের প্রতিদিনের চিন্তায়চেতনায় ভাবনায় রবীন্দ্রনাথ সদা উজ্জ্বল ধ্রুবতারার মতো দেদীপ্যমান। কবির মহাপ্রয়াণ দিবসে কবির প্রতি অনিঃশেষ শ্রদ্ধা।

লেখক ঃ রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ইউএসটিসি কলামিস্ট,

প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যসেবী

x