রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকুক

রবিবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৫:০৩ পূর্বাহ্ণ
32

একটি দেশের অর্থনৈতিক খাতে সমৃদ্ধি অর্জনের অন্যতম প্রধান নিয়ামক হচ্ছে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করা। বিগত সাড়ে ৯ বছরে রপ্তানি খাতে ধারাবাহিক উন্নতির ফলস্বরূপ আমাদের দেশের অর্থনীতি বর্তমানে সমৃদ্ধির পথে রয়েছে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ১৫.৫ মিলিয়ন ডলার। তারপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
আমাদের জন্য আনন্দের সংবাদ যে, রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক ধারা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। টানা পাঁচ মাস ধরে বাড়ছে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচক। আজাদীতে গত শুক্রবার প্রকাশিত খবরে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-জানুয়ারি) বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ দুই হাজার ৪১৮ কোটি (২৪.১৮ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে। এই অংক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি। আর গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আয় বেশি এসেছে ১৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। সর্বশেষ জানুয়ারি মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি অর্থ দেশে এসেছে। ভোটের পর স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করায় আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি আয় আরো বাড়বে বলে আশা করছেন অর্থনীতির বিশ্লেষক, ব্যাংকার এবং রপ্তানিকারকরা।
বাংলাদেশ যেসব সেবা পণ্যের রপ্তানি থেকে আয় হয়ে থাকে, এগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যানুফ্যাকচারিং সার্ভিসেস অন ফিজিক্যাল ইনপুটস, মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার, ট্রান্সপোর্টেশন, কনস্ট্রাকশন সার্ভিসেস, ইনস্যুরেন্স সার্ভিসেস, ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেস, চার্জেস ফর দি ইউজ অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি, টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস, অন্য ব্যবসায়িক সেবা, পার্সোনাল-কালচার-রিক্রিয়েশনাল ও গভর্নমেন্ট গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস। পত্রিকান্তরে প্রকশিত তথ্যে জানা যায়, মোট রপ্তানির ৯৮.১৩ শতাংশই এসেছে সরাসরি সেবা খাত থেকে। বাকিটা দেশের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কেনা পণ্য ও সেবা এবং মার্চেন্টিংয়ের অধীনে পণ্য বিক্রির আয়। কোনো অনাবাসীর কাছ থেকে পণ্য কিনে একই পণ্য কোনো অনাবাসীর কাছে বিক্রি করাকে মার্চেন্টিং বলে। এই প্রক্রিয়ায় মোট বিক্রি থেকে মোট ক্রয় বাদ দিয়ে নিট মার্চেন্টিং রপ্তানি আয় হিসাব করা হয়।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি থেকে ২ হাজার ৪১৭ কোটি ৯৬ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এই অংক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। এই ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।
জুলাই-জানুয়ারি সময়ে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল দুই হাজার ২৪০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত বছরের এই সাত মাসে আয় হয়েছিল দুই হাজার ১৩২ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। জানুয়ারিতে ৩৬৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার রপ্তানি আয় দেশে এসেছে। এই মাসে লক্ষ্য ধরা ছিল ৩৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত বছরের জানুয়ারিতে আয় হয়েছিল ৩৪০ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। এ হিসাবে জানুয়ারি মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসভিত্তিক) আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
ইপিবির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুলাই-জানুয়ারি সময়ে মোট রপ্তানি আয়ের ৮৩ দশমিক ৬১ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। অর্থাৎ ২৪ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারই এসেছে এ খাত থেকে। এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে এক হাজার ১৪ কোটি ৫ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ওভেন পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে এক হাজার ৭ কোটি ৭৬ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক।
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, তৈরি পোশাকের হাত ধরে সামগ্রিক রপ্তানি আয় বেড়েছে গত অর্থবছরে। তৈরি পোশাকের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এগুলেও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত থেকে রপ্তানি আয় বাড়ছে না। ফলে প্রবৃদ্ধির সমান তাল বা সামঞ্জস্যতা দেখা যায়নি সম্ভাবনাময় অন্য খাতগুলোতে। অর্থনীতির বিশ্লেষকরা এমন প্রবৃদ্ধি নিয়ে এরই মধ্যে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। রপ্তানিতে একক নির্ভরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের পরিসংখ্যানে। যেখানে দেখা যায়, সম্ভাবনাময় অনেক খাতের রপ্তানি আয় বাড়েনি বরং আগের বছরের তুলনায় কমেছে।
তবে বর্তমান সরকার রপ্তানিখাতে বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা যেভাবে ধরে রেখেছে তা বজায় থাকলে অচিরেই রপ্তানি খাতে বাংলাদেশ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে থাকবে বলে দেশি বিদেশি অনেক অর্থনীতিবিদ মতামত দিয়েছেন।

x