রঙ আর তুলি

সঞ্জয় সূত্রধর

বুধবার , ৯ অক্টোবর, ২০১৯ at ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
13

সোহাগ তার বন্ধুদের কাছে খুবই প্রিয়। স্কুল তার সবথেকে প্রিয় জায়গা। ভালোবাসে পড়তে,খেলতে এবং আঁকতে। তার বাসায় যেমন বিভিন্ন বইপত্র আছে তেমনি আছে আঁকাআঁকির সব প্রয়োজনীয় জিনিস। বিশেষ গুণ আছে তার। স্কুলে কোন কাজ একা করেনা। যেকোন ভালো কাজ সে সবাই মিলে করাকে পছন্দ করে। শহরে লেখাপড়া করে।স্কুল বাসা থেকে বেশ দূরে। তবে গাড়িতে যাওয়া আসার কারণে তার দূরত্ব তেমন কষ্ট মনে করে না। গাড়ি ব্যক্তিগত নয়। গণপরিবহন। বেশ উপভোগ করে। বিভিন্ন রকমের মানুষ আর বিভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়। খুব উপভোগ করে। একটা জিনিস প্রতিনিয়ত দেখে আর কষ্ট অনুভব করে। আর তা হলো বিভিন্ন গাড়ির পিছনে বিভিন্ন উক্তির ভুল বানান। সে তার স্কুল বন্ধুদেরকে জানালো কিছু করা যায় কিনা এই বিষয়ে। সবাই একটা দিনপর তাদের জানাবে বললো সাথে সমস্যার সমাধানসহ। পরের দিন কোন কারণে স্কুল তাড়াতাড়ি ছুটি হয়ে গেল। এই সুযোগে বন্ধুরা মিলিত হলো। বিভিন্নজন বিভিন্ন সমাধান দিল। সবাই একটা সমাধান গ্রহণ করলো আর তা হলো সোহাগের সমাধান। বিষয়টা হলো রঙ আর তুলি দিয়ে গাড়ির পিছনের ভুল বানান শুদ্ধ করা। টাকার বাজেট ৩০ জন বন্ধুরা মিলে করবে।শু ধু ৩০ জনই টিমের সাথে থাকবে। একমাস পরে শুরু করবে তাদের কাজ। কারণ এই একমাসে তার বাজেটের জন্য টাকা জমাবে এবং তা করবে তাদের নাস্তা থেকে বাঁচানো টাকা দিয়ে। চলতে থাকলো লেখা পড়া আর বিভিন্ন কাজের ফাঁকে নিজেদের্‌ ভাবনার জন্য একটা টাকা সঞ্চয়ের কাজ। দেখতে দেখতে মাস অতিক্রম করলো।সবাইমিলে একসাথে হলো আর সঞ্চয়ের টাকা মিলালো। গুনে দেখলো ২০০০ টাকা হলো। তারপর দুজন মিলে মানানসই রঙ আর তুলি কিনলো। মনের মধ্যে তারা আনন্দ অনুভব করতে লাগলো। এরপর শুরু হলো তাদের ভাবনার বাস্তবায়নের কাজ। তারা তাদের এলাকায় যেসব বানানভুলের গাড়ি দেখে সেগুলো থামানো অবস্থায় চালকের সাথে কথা বলে ভুল বানান বিষয়ে।তারপর রাজি করার সাপেক্ষে ভুল বানান শুদ্ধ করে দেই।ওর প্রয়োজনীয় সবধরনের রঙ রেখেছে।তাদের কাজে এলাকার অনেকের কাছ থেকে প্রশংসিত হয়েছে। তাদের কাজ অব্যাহত রাখলো।দুমাস পর হিসাব করে দেখলো তারা প্রায় ২শ গাড়িতে বানান শুদ্ধ করেছে। মন আনন্দিত।

x