রঙ্গিপাড়ায় রাতের অন্ধকারে ভরাট হচ্ছে প্রাচীন পুকুর

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ
236

নগরীতে পুরনো একটি পুকুর ভরাটের কাজ চলছে রাতের অন্ধকারে। জানা গেছে, সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের রঙ্গিপাড়ায় শত বছরের এই পুকুরটি স্থানীয়ভাবে কাদেরি পুকুর নামে পরিচিত। এটি এখন নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। পুকুরের মালিক সেটি এখন ভরাট করে ফেলছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পুকুর ভরাট করে সেখানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করার পরিকল্পনা করেছেন মালিক ফয়েজ আহম্মদ।

এদিকে পুকুর ভরাটের কারণে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সেখানকার বাসিন্দাদের। ভরাটের কাজ চলায় পুকুরের পানি উপচে পড়ে তা অলিগলির সড়কগুলো প্লাবিত করছে। ফলে কর্মজীবী থেকে শুরু করে স্কুলকলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের চলাফেরায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় এক গৃহিনী অভিযোগ করে বলছেন, প্রতিদিন সকালে সংসারের সকল ধোয়া পালার কাজ সারতাম পুকুরে। কিন্তু ভরাটের কারনে এখন সবকিছু বন্ধ হয়ে গেল। এতদিন পুকুরটি থাকার কারনে পানির সমস্যাটা তেমন অনুভব করিনি। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থানীয় একজন বলেছেন, আমরা ছোট বেলায় এই পুকুরটিতে বন্ধুদের নিয়ে গোসল করতাম। কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে এখানে। সম্প্রতি এখানে ময়লা আবর্জনা ফেলে আস্তে আস্তে তা ভরাট করে একটি ডোবায় পরিনত করা হয়েছে। এখন দেখলে বোঝার উপায় নেই এটা একটা পুকুর ছিল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুকুর ভরাট কাজ নিরাপদে চালানোর লক্ষ্যে দক্ষিণে এক পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলায় কর্পোরেশনের কর্মচারী দিয়ে নালার মাটি উত্তোলন করে পুকুরটিতে ফেলা হচ্ছে। রাতে স্কেভেটর দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে পুকুর। নিয়ম অনুযায়ী, পুকুর ভরাট করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, সিডিএ, সিটি কর্পোরেশনসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু পুকুরটির মালিক কোন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়নি বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে পুকুরটির মালিক ফয়েজ আহম্মদের সাথে মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পুকুর ভরাট আইনত অপরাধ। আমাদের কাছে এ ধরণের কোন খবর জানা নেই। তবে যখন খবর পেয়েছি অবশ্যই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

x