রংপুর রাইডার্সকে থামিয়ে দিল খুলনা টাইটান্স

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শনিবার , ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ at ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ
103

দু দলই জয় নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে এসেছে। এর মধ্যে রংপুর রাইডার্স টানা দুই ম্যাচে জিতে হ্যাটট্রিক জয়ের আশায় ছিল। তবে তাদের সে আশা পুরণ হতে দেয়নি খুলনা টাইটান্স। থামতে হলো রংপুরকে। জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গেইলম্যাককালামদের থামিয়ে দিল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দুই বিশ্ব সেরা ব্যাটসম্যানের ব্যাটে ঝড় না উঠলেও ঠিকই নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন খুলনা দলপতি মাহমুদুল্লাহ। আর তাতেই আরো একটি জয় তুলে নিয়েছে খুলনা। গতকাল মাশরাফির দলকে ৯ রানে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার প্রথম স্থানে উঠে এসেছে খুলনা টাইটান্স। শেষ ওভারে নাটক জমে উঠলেও শেষ হাসিটা হাসে মাহমুদুল্লার দল। এ জয়ের ফলে ৮ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এলো খুলনা। আর সাত ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে রংপুর রাইডার্স।

টসে হেরে ব্যাট করতে নামা নামা খুলনার শুরুটা ছিল ঝড়ের বেগে। ৭ বলে ১৪ রান তুলে নিয়ে অষ্টম বলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। যেখানে ১১ রানই ছিল রিলে রুশোর। মাত্র ৪ বলে একটি চার এর একটি ছক্কার সাহায্যে ১১ রান করে সোহাগ গাজির বলে বোল্ড হন রুশো। তৃতীয় ওভারে বল হাতে নিয়ে এবার আঘাত হানেন রুবেল হোসেন। তার দুর্দান্ত ইয়র্কারে ছত্রখান হয়ে যায় তরুণ আফিফের স্টাম্প। অথচ ৭ বলে ৯ রান করে ভাল কিছুর ইঙিত ছিল আফিফের। এরপর শান্তর সাথে জুটি বাধেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু দীর্ঘ হলোনা এ জুটিও। মাত্র ২৫ রান যোগ করতে পেরেছে দুজন মিলে। এবার ফিরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় স্পেলে বল করতে এসে শান্তকে ফেরান মাশরাফি। রুবেল হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ২০ বলে ২০ রান করেন এই ওপেনার। ৪৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে যখন খুলনা টাইটান্স তখন হাল ধরেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। আর এবার সঙ্গী হিসেবে পেলেন নিকোলাস পুরানকে। কিন্তু ৪৩ রানের বেশি আসলনা এ জুটিতেও। জেঁকে বসার আগেই এ জুটি ভাঙেন মালিঙ্গা। ফিরেন নিকোলাস পুরান। খেলেন ২০ বলে ১৬ রানের ধীর গতির এক ইনিংস। এরপর মাহমুদুল্লাহর সাথে যোগ দেন আরিফুল হক। খুলনাকে একাধিক ম্যাচ জেতানো এ জুটি চেষ্টা করেছিলেন দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেওয়ার। কিন্তু ৩৬ রানের বেশি আসল না এ জুটিতেও। দুই বল আগে হাফ সেঞ্চুরি পুরণ করা মাহমুদুল্লাহ ফিরলেন এবার। রুবেল হোসেনের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে একেবারে সীমানার কাছে ক্যাচ ধরেছিলেন ম্যাককালাম। কিন্তু তিনি ব্যালান্স রাখতে না পারায় বল ছুড়ে দেন নাহিদের দিকে। আর সহজেই তালু বন্দি করেন সে ক্যাচ। ফিরলেন মাহমুদুল্লাহ। তবে ফিরে আসার আগে অধিনায়কোচিত হাফ সেঞ্চুরি করে। তার ৩৬ বলে ৬টি চার এবং ২টি ছক্কার সাহায্যে করা ৫৯ রানের ইনিংসটি থামল যখন তখন দলের সংগ্রহ ১৩০। সে ওভারের শেষ বলে আরিফুলকে ফেরান রুবেল। এই হার্ড হিটার এলবিডব্লিউর শিকার হন। তার ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ১৬ রান। এরপর কার্লোস ব্রেথওয়েট এবং জোফরা আর্চার বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও দুটি ছোট অথচ কার্যকর ইনিংসের উপর ভর করে ১৫৮ রান সংগ্রহ করে খুলান টাইটান্স। ব্রেথওয়েট ৬ বলে করেন ১১ রান। আর আর্চার ৮ বলে ১০ রানে অপরাজিত থাকেন। রংপুর রাইডার্সের পক্ষে সফল বোলার রুবেল হোসেন ৩৫ রানে নেন ৩ উইকেট। ২৭ রানে ২টি উইকেট নিয়েছেন লাসিথ মালিঙ্গা।

চট্টগ্রামের মাঠে ১৫৯ রান খুব কঠিন কোন টার্গেট নয়। তার উপর দলটিতে যদি থাকে গেইলম্যাককালামের মত ব্যাটিং বিস্ফোরণ তখন রংপুর রাইডার্সের জন্য এই লক্ষ্য কঠিন হওয়ার কথা নয়। যথারীতি গেইল আর ম্যাককালামই নামেন রংপুরের ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে। শুরুটা যথারীতি ধীর স্থির। কিন্তু ঝড় তুলতে পারলেননা এই জুটি। পূর্বাভাসেই যে শেষ এই ঝড়। ইনিংসের আবু জায়েদের করা ইনিংসের প্রথম ওভার থেকে এ জুটি নিলেন মাত্র ৪ রান। পরের ওভারটি করতে এলেন আফিফ হোসেন। ম্যাককালামের মত ব্যাটিং দানবের সামনে এক তরুণ। এ যেন বাঘের খাঁচায় হাত ঢুকিয়ে দেওয়া। তবে আফিফের বুদ্ধির কাছে হার মানতে হলো বিশ্ব সেরা ব্যাটিং দানব ম্যাককালামকে। ওভারের দ্বিতীয় বলটিকে উড়িয়ে মারতে গিয়েছিলেন ম্যাকালাম। কিন্ত টাইমিংটা ঠিকমত হলো না। লংঅনে ধরা পড়লেন আরিফুলের হাতে। দলের রান তখন চার আর ম্যাককালামের ২। পার্টনারের এমন বিদায় যেন আঘাত হেনেছে গেইলের অহমে। না হয় কেন পরের ওভারে আবু জায়েদের উপর এভাবে চড়াও হবেন এই ক্যারিবীয়ান। প্রথম বলটা ডট। পরের দুই বলে দুটি চার। পরের বলটাকে লং অন দিয়ে পাঠালেন একেবারে গ্যালারিতে। তিন বলে তুলে নিলেন ১৪ রান। তবে কে জানতো পরের বলটাতে প্রাণ যাবে গেইলের। একটু বেরিয়ে যাওয়া বলটাকে কাট করতে গিয়েছিলেন গেইল। বল তার ব্যাটে লেগে চলে যোয় সোজা উইকেট রক্ষকের হাতে। আবু জায়েদের আনন্দ আর দেখে কে? অবশ্য এমন উচ্ছ্বাসতো তাকেই মানায়। যে কিনা গেইলের মত ক্রিকেটারকে বোকা বানাতে পারে। থামল গেইল ঝড়। দলের রান তখন ২০। ৯ বলে দুটি চার এবং একটি ছক্কার সাহায্যে ১৬ রান করেন গেইল। ফুঁসে উঠা ঝড় দুর্বল হয়ে গেলে যা হয় রংপুরের ইনিংসের রানের গতিও ঠিক তেমনই হলো এই দুই ব্যাটিং দানবের বিদায়ে। মিথুন ফিরলেন ৩ রান করে। আর প্রথমবারের খেলতে নামা ফজলে রাব্বি ফিরলেন ৬ রান করে। ৪৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে যখন ধুকছিল রংপুর তখন হাল ধরেন দলের হয়ে প্রতিটি ম্যাচেই ভাল খেলা রবি বোপারা। সঙ্গে পেলেন নাহিদুলকে। এ দুজন মিলে গড়েন ১০০ রানের জুটি। তবে সেটা তাদের দলের জয়ে কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি। দলকে ১৪৫ রানে পৌঁছে দিয়ে ফিরেন নাহিদুল। শেষ ওভারে যখন ১৫ রান দরকার তখন ওভারের দ্বিতীয় বলে ফিরেন নাহিদুল। জুনায়েদের করা শেষ ওভার থেকে বোপারা একরান নিলেও পরের বলে আউট হয়ে যান নাহিদুল। ফেরার আগে ৪৩ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৫৮ রান করেন নাহিদ। তৃতীয় বল থেকে নিয়েছেন দুই রান। পরের তিন বল থেকে দুই রান নিলেও শেষ বলে আউট হয়ে যান বোপারা। ফলে আর ম্যাচ জেতা হয়নি রংপুরের। ১৪৯ রানে থামে রংপুরের ইনিংস। বোপারার ব্যাট থেকে আসে ৪৪ বলে ৫৮ রান। খুলনা টাইটান্সের পক্ষে সফল বোলার ২ উইকেট নেওয়া আফিফ হোসেন।

x