যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ভারতীয় মিডিয়া জগতে নতুন করে ‘মি টু’

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
17

যৌন নিপীড়ন ও যৌন হয়রানির প্রতিবাদে পৃথিবী জুড়ে, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে সাড়া জাগানো ‘মি টু’ হ্যাশট্যাগ আন্দোলন এবার জোরেশোরে ছড়িয়ে পড়েছে ভারতে। সেখানকার নারীরা টুইটারের সাহায্য নিয়ে কৌতুকশিল্পী, সাংবাদিক, লেখক, অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতাসহ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের নামে যৌন হয়রানির অভিযোগ করছেন। আমেরিকায় মি টু আন্দোলন শুরু হয়েছিল অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্য দিয়ে। ভারতে অবশ্য বিষয়টা এমন নয়। সেখানে বরং গত কয়েকদিন ধরে এ নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেরিয়ে আসছে নানা তথ্য আর অভিযোগ। সেগুলোকে আরও বেশি করে তুলে ধরছেন সাংবাদিকরাই। ভারতের এই আন্দোলন বেশি আঘাত করেছে মিডিয়া জগতকেই।
হঠাৎ করে কেন ভারতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের এমন জোয়ার দেখা দিলো তা বলা মুশকিল। তবে ধারণা করা হচ্ছে, গত ৪ অক্টোবর থেকে এর শুরু। ওইদিন এক ভারতীয় তরুণী কৌতুকশিল্পী ৩৩ বছর বয়সী আরেক কৌতুক অভিনেতা উৎসব চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, উৎসব তাকে ইনবক্সে নিজের যৌনাঙ্গের ছবি পাঠিয়েছেন। টুইটারে ওই তরুণীর এ অভিযোগের জবাবে আরও অসংখ্য নারী সেখানে কমেন্ট করে নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরেন। অনেকে আবার প্রাইভেট মেসেজে তাকে জানান, উৎসব তাদের অনেককে যৌনাঙ্গের ছবি পাঠিয়েছেন। অনেককে আবার বলেছেন নিজেদের নগ্ন ছবি তুলে তাকে পাঠাতে। সেসব প্রাইভেট মেসেজের স্ক্রিনশট তুলে ওই তরুণী নিজের টুইটার পেজে শেয়ার করেন (প্রেরকদের নাম ও ছবি ব্লার করে)। এর পরদিনই উৎসব চক্রবর্তী নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং একের পর এক টুইটবার্তায় নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে থাকেন। কিন্তু ততক্ষণে ভারতের সামাজিক মাধ্যম জগতে শুরু হয়ে গেছে এক বিশাল ঝড়, যেখানে একের পর এক নারী তাদের সঙ্গে হওয়া যৌন হয়রানি, এমনকি নির্যাতনের কাহিনী সবাইকে জানাতে শুরু করেন। এই নারীদের অনেকেই ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক।
বিবিসি জানায়, পরবর্তী তিন দিন ধরে এমন আরও বহু কৌতুকশিল্পী, সিনিয়র রিপোর্টার, সম্পাদক, জনপ্রিয় লেখক, অভিনেতা এবং চলচ্চিত্র নির্মাতার ‘মুখোশ’ খুলে যায় অসংখ্য নারীর মুখ খোলার মধ্য দিয়ে। হাজারো টুইটে অসংখ্য হয়রানিমূলক কথাবার্তার স্ক্রিনশট একের পর এক মিলে বিশাল একেকটি টুইট-রিটুইটের থ্রেড তৈরি করেছে। এর মধ্য দিয়ে বিতর্ক উঠেছে যৌন হয়রানি, এ ধরনের প্রস্তাবে সম্মতি ও সহযোগিতা করা আসলে কাকে বলে, এ নিয়ে। ভারতে জনসম্মুখে কারও নামে যৌন হয়রানির তথ্য ফাঁস করার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০১৭ সালে আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ক্রাউডসোর্স করা তালিকা প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে অর্ধশতাধিক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছিল। ওই তালিকায় অভিযোগকারীদের নাম গোপন রাখা হলেও এবারের আন্দোলনে বেশিরভাগ নারীই নাম-পরিচয় গোপন রাখেননি। আর যারা পরিচয় গোপন করেছেন, দেখা গেছে তারা যাদের নামে অভিযোগ তুলেছেন তারা আরও অনেকের দ্বারাই অভিযুক্ত। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো মনে করছে, নারী সাংবাদিকরা এবারের মি টু আন্দোলনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন। তারা নিজেরা যেমন ব্যাপক হারে নিজেদের সঙ্গে হওয়া যৌন হয়রানির কথা ফাঁস করেছেন, তেমনি অন্যের সঙ্গে হওয়া এমন ঘটনার খবরও ছড়িয়ে দিয়েছেন নিজ দায়িত্বে।

x