যৌতুক বিরোধী সেমিনার প্রসঙ্গে

শুক্রবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৮ at ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ
13

গত ২০ অক্টোবর আনজুমানে রজভীয়া নুরীয়া বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর এর উদ্যোগে রাজধানীর বিএমএ অডিটোরিয়ামে যৌতুক ও মাদক বিরোধী সেমিনারে আল্লামা আবুল কাশেম নুরী বলেছেন দেশে গরীবের সংসারে আগুন জ্বলছে। যৌতুক দিতে না পারায় দেশে প্রতিদিনই শত শত বিয়ে ভাঙছে। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা মাতার আর্তনাদ ও আহাজারি থামাতে কেউ সত্যিকার অর্থে এগিয়ে আসছে না। তাই যৌতুক দেয়া নেয়া বন্ধে বিদ্যমান আইন প্রয়োগে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। যৌতুক বিরোধী এরকম একটি সেমিনার করার জন্য আনজুমানে রজভীয়া নূরীয়া বাংলাদেশের আয়োজকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। সবাই যদি এ ধরনের বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে তাহলে যৌতুক প্রথা সহসা বিলুপ্ত হবে বলে মনে করি। দেশের ঘরে ঘরে আজ কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারের কর্তাদের মাঝে নীরব রক্তক্ষরণ ঘটছে। যৌতুকের মতো সামাজিক অনাচার, ব্যাধি ও নিষ্ঠুরতা থেকে গরিব পরিবারগুলো রেহাই পাচ্ছে না। তাই বিয়ে নামক ধর্মীয় এ সামাজিক বন্ধনের ক্ষেত্রে কুসংস্কার ও অন্যাচার দিন দিন বাড়ছে লাখ লাখ পরিবারে নেমে এসেছে অশেষ দুর্ভোগ। বাংলাদেশে যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা থাকলেও তা কার্যকর হয় না। যৌতুক প্রথা ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ। সমাজের কতিপয় উচ্চবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষের অর্থলিপ্সার কারণে যৌতুক প্রথা ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতায় দেখতে পাই নারীদের প্রতি নির্যাতনের খবর। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর কারণ অর্থনৈতিক। যৌতুকের অভাবে বিয়ে দিতে না পারার দরুন কত কুমারী মাতা বিপদগামী হবার করুণ ইতিহাস। কত বিবাহযোগ্য কন্যার আত্মহননের সামাজিক পরিণতির কথা। কত দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদ। স্বামী ও শাশুড়ির হাতে অকথ্য লাঞ্ছনা-গঞ্জনা ও নির্যাতনের কথা। কত অসহায় বিধবা মায়ের ও দরিদ্র পিতার কন্যা দায় হতে উদ্ধার পাওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা প্রার্থী হওয়ার ঘটনা ও কাহিনী। তবুও এর প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে বৈ কমছে না। সমাজের ধনী উচ্চ মধ্যবিত্ত থেকে শুরু থেকে এ প্রথা সমাজের নিম্নশ্রেণির ও কৃষক শ্রেণির মধ্যে বিস্তৃতি লাভ করেছে। ১৯৮০ সালে যৌতুক বিরোধী আইনপাস হওয়া সত্বেও যৌতুক দেয়া নেয়া ঠিকই হচ্ছে। যৌতুক প্রথা দূর করতে হলে মেয়েদের শিক্ষিতা, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। পূর্বের চেয়ে আমাদের দেশে শিক্ষার্থী মহিলার হার অনেক বেড়েছে। অথচ নারীর আইনগত মর্যাদার বা অধিকারের তেমন পরিবর্তন হয়নি। পুরাতন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার কোন পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক মূল্যবোধের ও নৈতিকতার অবক্ষয় ও সর্বোপরি আমরা এ পরিস্থিতির জন্য কতটুকু দায়ী নিরূপন করতে হবে। আইনগত সামাজিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা পর্যালোচনার সাথে আমাদের আত্মবিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। নারীরা সামাজিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। সুতরাং বাংলার ঘরে ঘরে যৌতুকের বিরুদ্ধে সোচ্চার কন্ঠস্বর উঠলে এ প্রথা সমাজ থেকে দূর হতে পারে।
– এম. এ গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x