যৌতুক বিরোধী সমাবেশ: একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত

শুক্রবার , ১৫ মার্চ, ২০১৯ at ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
24

গত ৯ মার্চ লালদিঘি মাঠে আনজুমানে রজভীয়া নুরীয়া বাংলাদেশের যৌতুক ও মাদক বিরোধী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম নাছির উদ্দিন বলেছেন-যৌতুক ও মাদক আজ জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সামাজিক কুসংস্কার ও অবক্ষয় প্রবণতা থেকে বাঁচতে হলে জাতীয় জাগরণ ও সম্মিলিত সচেতনতা জরুরি। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে যৌতুক ও মাদকের গস্নানি থেকে নিষ্কৃতি মিলবে বলে আশা করা যায়। আলস্নামা নূরী এ ধরনের গণমুখী উদ্যোগ নেয়ায় মেয়র তাকে ধন্যবাদ জানান এবং সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সভাপতির বক্তব্যে যৌতুক ও মাদক বিরোধী আন্দোলনের পুরোধা আলস্নামা আবুল কাশেম নুরী বলেন-দ্বীনি দায়িত্ব, বিবেকের তাড়নায় ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমি যৌতুক ও মাদক বিরোধী আন্দোলন শুরু করেছি চট্টগ্রাম থেকে। পর্যায়ক্রমে এ আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে ইনশালস্নাহ। মহাসমাবেশে লাখো যুবক যৌতুকমুক্ত বিয়ের শপথ করেছে। সেই সংগে তারা সমস্বরে মাদককে না বলে মাদকমুক্ত সুন্দর পরিচ্ছন্ন জীবন গড়ার শপথ নিয়েছে।
যৌতুক ও মাদক বিরোধী এরকম একটি সমাবেশ করার জন্য আনজুমান রজভিয়া নূরীয়া বাংলাদেশের আয়োজকদের আনত্মরিক অভিনন্দন জানাই। সবাই যদি এ ধরনের বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে তাহলে যৌতুক ও মাদক প্রথা বিলোপ হবে। এটা সত্য যে, দেশের ঘরে ঘরে আজ কন্যাদায়গ্রসত্ম পরিবারের কর্তাদের মাঝে নীরব রক্তক্ষরণ ঘটছে। যৌতুকের মতো সামাজিক অনাচার ব্যাধি ও নিষ্ঠুরতা থেকে গরীব পরিবারগুলো রেহাই পাচ্ছে না। তাই বিয়ে নামক ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধনের ড়্গেত্রে কুসংস্কার ও অন্যায় দিন দিন বাড়তে থাকায় লাখ লাখ পরিবারে নেমে এসেছে অশেষ দুর্ভোগ। বাংলাদেশে যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা থাকলেও তা কার্যকর হয় না। যৌতুক প্রথা ধর্মীয়ভাবেও নিষিদ্ধ। সমাজের কতিপয় উচ্চবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের অর্থ লিপ্সার কারণে যৌতুক ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতায় দেখতে পাই নারীদের প্রতি নির্যাতন চালাবার খবর। প্রায় প্রতিটি ড়্গেত্রে এর কারণ অর্থনৈতিক। দেখা যায় যৌতুকের অভাবে বিয়ে দিতে না পারার দরুণ কত কুমারী মাতা বিপদগামী হবার করুণ ইতিহাস। তাই প্রতিটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান যৌতুক প্রথা বিরোধী ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসলে কিংবা যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে সরকার সঠিক পদড়্গেপ গ্রহণ করলে সমাজের দুষ্টক্ষত ও যৌতুক প্রথা বিলোপ হতে পারে। নইলে দেশের নারী সমাজের এবং কন্যা দায়গ্রসত্ম পিতার আর্তি কোনদিন শেষ হবে না। আমরা মনে করি আনজুমান রজভিয়া নূরীয়া এ কাজ অব্যাহত রাখলে যৌতুক বিহীন বিয়ে সমাজে প্রসার লাভ করবে। তাদের দৃষ্টান্ত জনকল্যাণমূলক সংগঠনগুলোর অনুকরণীয় হওয়া উচিত।
এম. এ. গফুর, বলুয়ার দিঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

- Advertistment -