যে সব খাবার কিশোর -কিশোরীদের বিশেষ প্রয়োজন

প্রফেসর ডা. প্রণব কুমার চৌধুৃরী

শনিবার , ২৪ নভেম্বর, ২০১৮ at ৮:১১ পূর্বাহ্ণ
180

আমিষ
দেহের কাঠামোগত বৃদ্ধির জন্য আমিষ জাতীয় খাবার অত্যন্ত প্রয়োজন। আমিষ পাওয়া যায় মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ছানা, পনির, শুটকিমাছ, ইত্যাদি খাবার থেকে। বিভিন্ন ধরণের ডাল যেমন: মুধ, মুসুর, মাসকলাই, ছোলা, সীমের বিচি, মটরশুটি, চীনাবাদাম, সয়াবীন ইত্যাদি থেকে আমার উদ্ভিজ আমিষ পেতে পারি। দেহের সঠিক বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণের জন্য এ জাতীয় খাবার নিয়মিত খেতে হবে।

আয়রন
বাংলাদেশের কিশোরীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই রক্ত-স্বল্পতার শিকার। কৈশোরকাল শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। আয়রনের অভাবে এই বৃদ্ধি বিলম্বিত হতে পারে। বিশেষ করে কিশোরীদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মাসিক ঋতুস্রাবের কারণে শরীরে আয়রনের চাহিদা বেড়ে যায়। ভবিষ্যতে সুস্থ মা হিসেবে নিজেকে তৈরি করার জন্য কিশোরীদের শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন জমা থাকা প্রয়োজন। প্রাণিজ খাবার যেমন: মাংস, মাছ, কলিজা, ডিমের কুসুম, শুটকিমাছ ইত্যাদি। উদ্ভিজ্জ খাবার যেমনঃ- কচুশাক, পুঁইশাক, লালশাক, পালংশাক, মিষ্টিকুমড়াশাক, সাজনাশাক, ধুনয়াপাতা, ফুলকপিপাতা, ছোলাশাক, হেলেঞ্চাশাক, ডাল, খেজুর, খালোপজাম, তরমুজ, পাকাতেঁতুল, গুড় ইত্যাদি।

ক্যালসিয়াম
হাড়ের বৃদ্ধি ও দাঁতের সুগঠিত করতে ক্যালসিয়াম জরুরী। ডিম, দুধ দই, পানির, শুটকিমাছ, মাথা, ও কাঁটাসহ ছোটমাছ থেকে প্রচুর ক্যলসিয়াম পাওয়া যায়।

আায়োডিন
আয়োডিন কিশোর-কিশোরীদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। আয়োডিযুক্ত লবণের ব্যবহার কিশোরীদের মেধাবী এবং স্বাস্থ্যবান হিসাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তাদের বুদ্ধি বাড়াতে সামুদ্রিক মাছ ও আয়োডিনযুক্ত লবণ খেতে হবে।

ভিটামিন-সি
কিশোর-কিশোরীদের প্রতিদিন ভিটামিন-সি প্রহণ করতে হবে। আয়রনযুক্ত খাবারের সাথে ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার গ্রহণ করলে আয়রন শোষণ বৃদ্ধি পায়। এ চাহিদা পূরণের জন্যে তারা কমলা, পেয়ারা, আমলকি, জামবুরা, আনারস, বরই, কামরাঙ্গা, লেবু, টমেটু, কাঁচামারিচ ইত্যাদি খেতে পারে। এছাড়া পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন কিশোর-কিশোরীদের প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি পান করা এবং সেই সাথে নিয়মিত ব্যায়াম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, বিশ্রাম ও খেলাধূলা করা প্রয়োজন।
নিম্নে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের তালিকা উল্লেখ করা হলো

পুষ্টি উপাদান পরিমাণ

১১-১৪ বছর ১৫-১৮ বছর
শক্তি ২২০০ কি. ক্যালরি ২২০০ কি. ক্যালরি
আমিষ ৪৬ গ্রাম ৪৪ গ্রাম
লৌহ ১৫ গ্রাম ১৫ গ্রাম
ক্যালসিয়াম ১২০০ মাইক্রো গ্রাম ১২০০ মাইক্রো গ্রাম
জিংক ১২ গ্রাম ১২ গ্রাম
ভিটামিন এ ৮০০ গ্রাম ১০০০ গ্রাম
ভিটামিন ডি ১০ গ্রাম ১০ গ্রাম
ভিটামিন সি ৫০ গ্রাম ৬০ গ্রাম

এছাড়াও কিশোরীদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার থাকা বাঞ্চনীয়। কিশোরীরা ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী সপ্তাহে ২ টি করে আয়রন ফলিক এসিড ট্যাবলেট এবং ছয় মাস অন্তর কৃমিনাশক বড়ি খাবে।
এছাড়া খাদ্যকে আকর্ষণীয় করতে শিশুর রুটি অনুযায়ী খাদ্য নির্বাচন করা দরকার। এই খাদ্য সহজপাচ্য ও তৃপ্তিকর হওয়া প্রয়োজন। পাকস্থলীর তুলনায় বেশী খাদ্যের প্রয়োজন বলে যে সকল খাদ্য বস্তু ঘনীভত ক্যালরির উৎস সেগুলি কিছু কিছু দৈনিক আহার্যে সন্নিবেশিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি আপেক্ষা ১৭/১৮ বৎসরের ছেলের খাদ্য চাহিদা বেশী হয়।
লেখক : বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

x