যেখানে শুধু ইফতার নয় আছে সেহরির ব্যবস্থাও

গরীব উল্লাহ শাহ্‌ (র) দরগাহ

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১৫ মে, ২০১৯ at ৫:০২ পূর্বাহ্ণ
732

ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসছে। গরীব উল্লাহ শাহ মাজারের মূল ফটক থেকে উঁচু সিড়ি দিয়ে পাহাড় বেয়ে ইফতারে সমবেত হতে এগিয়ে যাচ্ছেন রোজাদাররা। কেউ সিঁড়িতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইফতারের। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রোজাদাররা ইফতার নিয়ে বসেছেন। মাজারের মূল চত্বরেও বসেছেন কয়েকশ রোজাদার। রোজাদারদের জন্য প্রতিদিন ইফতার আয়োজন থাকে এখানে। ধনী গরিব, ফকির মিসকিন সবাই ইফতারে মিলিত হচ্ছে একই ছাদের নীচে। শুধু ইফতার নয়, সেহরি পর্যন্ত চলে রোজাদারদের আহার। প্রায় তিন শতাধিক মানুষের জন্য ইফতার ও সেহরির ব্যবস্থা করে থাকেন গরিব উল্লাহ শাহ ওয়াকফ ব্যবস্থাপনা কমিটি। ঐতিহ্যবাহী গরীব উল্লাহ শাহ মাজারের মসজিদে পুরো রমজানের জন্য চলে এ আয়োজন। ইফতার ও সেহ্‌রির আতিথেয়তা থেকে বাদ পড়েন না মাজারে আসা ভক্তরাও। প্রতিদিন ইফতার শুরুর ৩০ মিনিট আগে থেকেই মূল ফটকে ইফতার সংগ্রহের জন্য ভিড় করেন প্রতিবন্ধী, নারী, পুরুষ, শিশু। প্রতিদিন দানশীল ব্যক্তিরা গেইটে দাঁড়িয়ে ভাসমান এসব মানুষদের ইফতার বিলি করেন। মঙ্গলবার এক ব্যক্তি প্লাস্টিকের গ্লাসে করে ম্যাংগো জুস বিলি করছেন। তবে ওই ব্যক্তি নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি।
গরীব উল্লাহ শাহ মাজারের আঙিনায় গিয়ে দেখা গেছে, ইফতার বিলি ও সাজাতে ব্যস্ত রোজাদাররা। পঞ্চাশোর্ধ খায়েজ মিয়া প্লাস্টিকের বোতলে বরফ পানির সাথে টেস্টি স্যালাইন মিশাচ্ছেন। এ বৃদ্ধ বলেন, শহরের বিভিন্ন স্পটে ভিক্ষা করি। ইফতারের সময়ে মাজারে চলে আসি। এখানেই থাকি, খাই।
মঙ্গলবার মাজারের ইফতারে ছোলা, চিড়া ভাজা, বেগুনি, পেঁয়াজু, জিলাপির সাথে দুধ রূহআফজা মিশ্রিত শরবত। রয়েছে মৌসুমী ফল কাঁঠালও। সাথে যুক্ত হয়েছে বাইরে থেকে আসা বিরিয়ানিও। ইফতারে শরীক হওয়া আবুল কাসেম বলেন, এখানে বাইরের বিত্তশালী ব্যক্তিরা মাজারের ভক্ত রোজাদারদের জন্য খাবার পাঠিয়ে দেন। ইফতারের সাথে এসব খাবার রোজাদারদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হয়।
পঞ্চগড় জেলার বাসিন্দা আজিম উদ্দিন। প্রায় ১৫ বছর ধরে গরীব উল্লাহ শাহ মাজারে আসেন। তিনি বলেন, মাঝে মধ্যে দেশের বাড়িতে বেড়াতে যাই। দুই চারদিন থাকি, তারপর চলে আসি। মাজারেই থাকি। এখানে যা পাই খাই। আল্লাহর অলির দরবার, কোন কিছুরই অভাব হয় না। রমজানেও কোন সমস্যা হয় না। কারণ সেহরির সময়ে এখানে খাবারের ব্যবস্থা থাকে।
গরীব উল্লাহ শাহ মাজার ব্যবস্থাপনায় জড়িত ওয়াকফ পরিবারের সদস্য মুহম্মদ আবু তালেব দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘প্রতিদিন তিনশ রোজাদারের জন্য ইফতার ও সেহরির ব্যবস্থা করা হয়। যে কেউ আমাদের ইফতারে শরীক হতে পারে। সেহরির জন্য প্রতিদিন আমরা গেইটে টোকেন দিয়ে দিই। সেহরির সময়ে বাবুর্চি এসব টোকেন দেখে রোজাদারদের সেহরির খাবার বিলি করেন।’
তিনি বলেন, ‘গরীব উল্লাহ শাহ (র) মাজার চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দরবার। এখানে ধনী-গরীর সকল শ্রেণির ভক্তরা আসেন। রোজার ইফতারে আমরা সবাইকে আপ্যায়ন করার ব্যবস্থা করি। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এবং বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তিদের সহযোদিতায় আমরা এ আয়োজন করে থাকি।’

x