যুদ্ধাপরাধীগণের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়োজিত সাক্ষীগণকে পুরস্কৃত করুন

রবিবার , ১১ মার্চ, ২০১৮ at ৬:০১ পূর্বাহ্ণ
47

বাংলাদেশে ১৯৭১ সনের মুক্তি সংগ্রামের সময় যারা পাকহানাদার বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করেছিল তাদেরকে যুদ্ধাপরাধী বলা হয়। বিগত ৩/৪ বছরের পূর্বে ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা অত্যন্ত জরুরি। কেননা তাদের অধিকাংশ কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক। অধিকন্তু যে চারটি মূলনীতির ওপর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত তন্মধ্যে সমাজতন্ত্র অন্যতম।

সমাজতন্ত্র হচ্ছে সমাজকে শোষণমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও সম্পদের সুষম বণ্টন ব্যবস্থা। সমাজতন্ত্র মানে ধর্মহীনতা নহে। বাংলাদেশের বর্তমানে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত মিলিতভাবে দুই কোটি লোক বেকার। এটা বাংলাদেশের মোট লোকসংখ্যার বিরাট একটা অংশ বিশেষ। বেকারত্বের ফলে দেশে চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। এতে মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার যদি ভবিষ্যতে সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে পরাজিত হয় এবং বর্তমান সরকারের বিরোধী দল যদি ক্ষমতাসীন হয় তা হলে যুদ্ধাপরাধীগণের বিচারের জন্য নিয়োজিত সাক্ষীগণের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তাহীনতা ভোগ করবে। বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের বেতন ভাতা দ্বিগুণ করেছে। শুধু তাই নয় অন্যান্য ক্ষেত্রে দেশের জনসাধারণকে পুরস্কৃত করেছে। যেমন দুই/তিন মাস পূর্বে বাংলাদেশে আগত অস্ট্রেলিয় ক্রিকেট টিমের বিরুদ্ধে এক খেলায় জয়লাভ করায় বাংলাদেশের খেলোয়াড়গণকে কয়েক লক্ষ টাকা পুরস্কার দিয়েছে।

কিন্তু ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য নিয়োজিত একশত সাক্ষীগণকে মোটা অঙ্কের পুরস্কার দেন নাই। অথচ সাক্ষীগণ আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষী দেওয়ায় যুদ্ধাপরাধীদের যথোপযুক্ত শাস্তি হওয়ায় দেশ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।

উপরিউক্ত বিষয়গুলোর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সরকার যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও সাক্ষীগণের পুরস্কারের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিলে দেশ কলঙ্কমুক্ত হবে এবং পৃথিবীর সর্বত্র সরকারের সুনাম ছড়িয়ে পড়বে।

পরিতোষ কুমার পালিত, থানা: রাউজান, উপজেলা: রাউজান,

ডাকঘর: রাউজান, জেলা: চট্টগ্রাম।

x