যুগ্ম চ্যাম্পিয়নই ছিল সঠিক সমাধান

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার , ১৭ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
14

এবারের বিশ্ব্‌কাপের পর্দা নেমেছে গত রোববার ইংল্যান্ডের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। সন্দেহাতীতভাবেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা ফাইনাল ম্যাচটা হয়েছে গত রোববার ক্রিকেটের মক্কা খ্যাত ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। যেখানে টাই হয় ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের মূল ম্যাচ। পরে মীমাংসা করার জন্য সুপার ওভারে গেলে, টাই হয় সেখানেও। সুপার ওভারের নিয়মানুযায়ী ম্যাচে বেশি বাউন্ডারি হাঁকানোর কারণে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয় স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে। এমন একটি শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচ জিতে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ জিতেছে ইংল্যান্ড। অবশ্য প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ ছিল নিউজিল্যান্ডের সামনেও। কিন্তু ভাগ্যের কাছে হার মানতে হয়েছে তাদের। ফলে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে গিয়েও শিরোপা জেতা হলোনা নিউজিল্যান্ডের।
এদিকে বিশ্বকাপের এবারের ফাইনাল ম্যাচের পর থেকেই চলছে এ নিয়মের পক্ষে-বিপক্ষে নানান আলোচনা। যার বেশিরভাগই মূলত বাউন্ডারি সংখ্যার ওপর জয়ী দল নির্ধারণ করার নিয়ম রাখায়। এই নিয়মের সমালোচনা চলছে সর্বত্র। কারণ বাউন্ডারি সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে জয়ী নির্ধারণের নিয়মটি করা হয়েছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য। যেখানে ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ের গুরুত্বই থাকে বেশি। সেই একই নিয়ম ওয়ানডে ক্রিকেটের সুপার ওভারের জন্যও রেখে দেয়ায় তা মানতে পারেনি অনেকেই। মানতে পারছেন না ফাইনাল ম্যাচে এ নিয়মের ভুক্তভোগী নিউজিল্যান্ড কোচ গ্যারি স্টিডও। তবে তিনি সরাসরি বিরোধিতা করেননি। আইসিসিকে সুপারিশ করেছেন নিয়মটি পুনরায় ভেবে দেখতে।
সংবাদ মাধ্যমে স্টিড বলেন, আসলে এমন পরাজয়ের পর অনুভূতিটা কেমন সেটা বোঝানো সম্ভব নয়। আপনি পুরো ১০০ ওভার খেললেন এবং বিপক্ষ দলের সমানই রান করলেন। তবু ম্যাচটা হেরে গেলেন। এগুলো আসলে খেলার টেকনিক্যাল ব্যাপার। যা মেনে নেয়া বেশ কঠিন। এসময় তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে, আইসিসি নিশ্চিতভাবেই নিয়মটি বদলাবে। স্টিড বলেন, পুরো টুর্নামেন্টই পর্যালোচনা করা হবে। আমি নিশ্চিত তারা যখন নিয়ম লিখেছে, তখন চায়নি যে কোনো ফাইনাল ম্যাচের সমাপ্তি এমন হোক। তারা নিয়মটি পর্যালোচনা করবে এবং ভিন্ন ভিন্নভাবে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করবে।
সুপার ওভারের নিয়মের কারণে ফাইনাল ম্যাচে না হেরেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। অথচ ম্যাচটি সুপার ওভারে যাওয়ারই কথা ছিল না। কারণ মূল ম্যাচে আরো একটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটে। ইংল্যান্ডের শেষ ওভারের সময় মার্টিন গাপটিলের ওভার থ্রো থেকে যে ৬ রান দেয়া হয়েছে তা নিয়েও চলছে সমালোচনা। অনেকেই এই ছয় রানের সমালোচনা করছেন। সেটিতে মূলত ৫ রান পাওনা ছিলো তাদের। আম্পায়ারের ভুলে তখন ১ রান বেশি পায় ইংল্যান্ড এবং পরে ম্যাচটি গড়ায় সুপার ওভারে। সে রানটি না হলেও হয়তো এক রানে জিততে পারতো নিউজ্যিলান্ড। আবার হয়তো নাও জিততে পারতো। তবে সেটা অন্য বিতর্কের বিষয়। কিন্তু সুপার ওভারেও দু দলের স্কোর সমান হয়ে যাওয়ায় বাউন্ডারি মারার বিচারে একটি দলের জয় কিংবা পরাজয়ের ব্যাপারটিকে অনেকেই দেখছেন নেতিবাচক দৃষ্টি ভঙ্গিতে। এভাবে একটি ম্যাচের ফল নির্ধারণ করা যায়না। এদিকে আম্পায়ারের ভুলে একরান বেশি দেওয়ার বিষয়টিকে বড় করে দেখতে রাজি নন কিউই কোচ। তার মতে আম্পায়ারদের এমন ভুল হতেই পারে। স্টিড বলেন, আমি নিজেও এ ব্যাপারটি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতাম না। দিন শেষে আম্পায়াররাই খেলা পরিচালনা করবেন। খেলোয়াড়দের মতো তারাও মানুষ, যাদের মাঝেমধ্যে ভুল হয়েই যায়। এটাই খেলাধুলার মানবিক দিক। কিন্তু সুপার ওভারের নিয়মটি বদলানো উচিত। তিনি বলেন আমি আশা করি আইসিসি এই নিয়মটি নিয়ে আবারো ভেবে দেখবেন।

x