যুক্তরাষ্ট্রে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি

বুধবার , ৯ মে, ২০১৮ at ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
167

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছে ‘তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সংগ্রাম পরিষদ’। স্থানীয় সময় গত ৬ মে রোববার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গত ৮ ফেব্রুয়ারি যে সাজার রায় দেয়া হয়েছে তাতে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাননি। মামলার অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েও বে-আইনিভাবে খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য আসামীদের সাজা দেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের যুক্তরাষ্ট্রস্থ তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি পারভেজ সাজ্জাদ তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত ৯ বছর ৪ মাস যাবত দেশে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার দুঃশাসন চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী দল-বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে এবং বিএনপিকে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার জন্য রাজপথে পর্যন্ত নামতে দেয়া হচ্ছে না। তারা বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সকল অঙ্গকে সরকারের তাবেদার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। বিএনপিকে নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য এবং জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য তারা সরকারের আজ্ঞাবহ আদালতকে ব্যবহার করছে। তথাকথিত সাজানো মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট দুর্নীতি মামলায় তিন বারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত কারাদ- দিয়েছে এবং গত তিন মাস যাবত তিনি কারান্তরালে কাটাচ্ছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিক্ষেপ করার পেছনে বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটার বিহীন নির্বাচনে ক্ষমতায় আসীন এ আওয়ামী শাসক চক্রকে দেশের গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহল ‘অবৈধ’ সরকার হিসেবেই গণ্য করে আসছে। কিন্তু সেদিকে তাদের ভ্রক্ষেপ নেই। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য তারা ক্ষমতার উৎস জনগণের উপর নয় দলীয় অস্ত্রধারী ক্যাডার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উপর নির্ভর করছে। ক্ষমতা অব্যাহতভাবে কুক্ষিগত করে রাখার লক্ষ্যে দেশের সবচেয়ে বৃহৎ ও জনপ্রিয় দল বিএনপিকে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাইরে রাখতে তারা সকল অপকৌশল প্রয়োগ করতে শুরু করেছে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি বিশৃংখলার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। বিএনপি আন্দোলনে রয়েছে এবং দেশনেত্রী খালেদার জিয়ার মুক্তির জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশে ও প্রবাসে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী শত প্রতিকূলতার মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ ও অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেয়ার দাবির মধ্য দিয়ে তার ও বিএনপির প্রতি এবং সর্বোপরি গণতন্ত্রের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে চলেছেন। দেশনেত্রী কারাগারে যাওয়ার আগে দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলে গেছেন সকলকে ধৈর্য ধরতে, শান্ত থাকতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যেতে। আমাদের সকল কর্মসূচি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার জন্য এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য। বিএনপি মুক্ত খালেদা জিয়াকে নিয়েই আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং দেশনেত্রীকে ছাড়া দেশে কোনো অর্থবহ নির্বাচন হবে না। আমরা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার চাই, আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন চাই, যারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশের জনগণের আশা-আকাংখার বাস্তবায়ন ঘটাবে।
বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনে দেশের মতো তারা প্রবাসেও সক্রিয় এবং ঐক্যবদ্ধ জানিয়ে দলীয় চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে তারা রাজপথের আন্দোলন ও আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বতোভাবে সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, সাবেক ছাত্র নেতা আব্দুস সবুর, জাকির এইচ হাওলাদার, এবাদ চৌধুরী, খলকু রহমান, মার্শাল মুরাদ ও মতিউর রহমান লিটু প্রমুখ।

x