যানজটমুক্ত অচেনা এক নগরী

হাসান আকবর

বৃহস্পতিবার , ২২ মার্চ, ২০১৮ at ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ
111

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে ঘিরে গতকাল অন্তত এক লাখ লোক নগরী ছেড়েছিলেন। সকাল থেকে মানুষজন নগরী ছাড়তে শুরু করেন। একই সাথে হাজার হাজার গাড়িও। এতে করে বেলা সামান্য বাড়ার সাথে সাথে নগরজুড়ে যেন ঈদের ছুটির আবহ বিরাজ করছিল। চিরচেনা যানজটের স্পটগুলো দেখে যেন চেনাই যাচ্ছিল না। প্রতিদিন যেখানে যানজটের কারণে গাড়ি নিয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকত হতো, গতকাল সেখানে নিমিষেই পার হওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল পটিয়ায় জনসভা করেছেন। জনসভা পটিয়ায় হলেও পুরো চট্টগ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ যোগ দেন। তবে সবচেয়ে বেশি মানুষ ছুটেছেন শহর থেকে। পটিয়ার যেসব মানুষ নগরীতে বসবাস করেন তাদের পাশাপাশি দলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী সকাল থেকে পটিয়ামুখী ছুটতে থাকেন। পটিয়ার বহু মানুষ দলীয় রাজনীতি না করলেও নিজের এলাকায় আসা প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনতে সমাবেশে যোগ দেন। বিশেষ করে পটিয়াকে জেলা ঘোষণা করার একটি দাবি গত কয়েকদিন ধরে যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল তাতে স্থানীয়দের কৌতূহল ছিল অনেক বেশি। পটিয়াকে জেলা ঘোষণা করা হচ্ছে এমন একটি আশাও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ছিল।

নগর আওয়ামী লীগ, নগর যুবলীগ, নগর ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে ৪১ ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের হাজার হাজার নেতাকর্মী গতকাল পটিয়ায় ছিলেন। একাধিক রাজনীতিবিদ বলেছেন, চট্টগ্রাম থেকে অন্তত এক লাখ মানুষ গতকাল পটিয়ার জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন।

পটিয়ার বাসিন্দা মোটর ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হারুন নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় ব্যবসা করেন। রাজনীতিতে মোটেই সক্রিয় নন। কিন্তু গতকাল ভোরে ঘুম থেকে উঠে নিজের গাড়ি নিয়ে আরো দুই বন্ধুসহ পটিয়ায় চলে যান। জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনেছেন। পটিয়াকে জেলা ঘোষণা করা হবে আশা করে তিনি সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন বলেও জানান।

যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আজীজ চৌধুরী গতকাল দৈনিক আজাদীর সাথে আলাপকালে বলেন, বিষয়টি পটিয়াকে জেলা ঘোষণা করা হবে কি হবে না তা নয়, বিষয়টি ছিল প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে সফল করা। তাই আমরা দলে দলে জনসভায় যোগ দিয়েছি।

নগর ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান তারেক বলেন, আমরা বিশাল দলসহ গিয়েছি। এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের কয়েক হাজার নেতা কর্মী সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। আমরা দিনভর পটিয়ায় থেকে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ সফল করার চেষ্টা করেছি।

এভাবে গতকাল অন্তত এক লাখ মানুষ নগরী ছেড়েছেন। এতে করে নগরীর রাস্তাঘাট ছিল যানজট মুক্ত ছিল। স্কুল কলেজে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিও কম ছিল। বহু অভিভাবক পটিয়ায় চলে যাওয়ায় সন্তানসন্ততিদের স্কুলে নেন নি। এছাড়া কলেজবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের বেশিরভাগই গতকাল পটিয়ায় ছিলেন। সবকিছু মিলে গতকাল নগরবাসী যেন ঈদের ছুটির আমেজ অনুভব করেছেন।

x