যাত্রী হয়রানি রোধে চার স্পটে বিআরটিএর সাঁড়াশি অভিযান

বাড়তি ভাড়া ফেরত, জরিমানা

আজাদী প্রতিবেদন

রবিবার , ১১ আগস্ট, ২০১৯ at ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
38

দ্বিগুন ভাড়া আদায়সহ যাত্রী হয়রানি রোধে আবারো মাঠে নেমেছে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল শনিবার বিকেলে অভিযান শুরু করেন চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক। তিনি পুরো নগরীর প্রবেশ মুখসহ তিন স্পটে অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে পরিবহন মালিক ও চালককে জরিমানার পাশাপাশি বাড়তি নেওয়া ভাড়া ফেরত প্রদানে বাধ্য করেছেন। এদিকে যাত্রী হয়রানি রোধে নতুন করে অভিযান শুরু করায় সাধারণ যাত্রীরাও বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সাধুবাদ জানিয়েছে। অলংকার এলাকায় রাত ১১টা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযান চলে।
প্রসঙ্গত, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে যাত্রী হয়রানি রোধে গত ৪ আগস্ট অভিযান শুরু করেন বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওইদিন অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অপরাধে হানিফ এন্টারপ্রাইজসহ তিন পরিবহনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক। এর পরপরই ওইদিন রাত আটটা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটসহ চট্টগ্রামের ৬৮ রুটে ধর্মঘট শুরু করে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। ধর্মঘট শুরুর পর জেলা প্রশাসনের সাথে সমঝোতা বৈঠকে জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে চার ঘন্টা পর রাত ১২টা থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয় পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।
এরপর থেকে কোন প্রকার ঘোষণা ছাড়াই নগরীর পরিবহন কাউন্টারগুলোতে অভিযান পরিচালনা বন্ধ রাখে বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। মূলত কোরবানিকে সামনে রেখে কাউন্টারগুলোতে অভিযান পরিচালনা থেকে বিরত থাকার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে বিআরটিএকে অলিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এরপরই বন্ধ হয়ে যায় কাউন্টারগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। তবে বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সরাসরি মনিটরিং করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ মনিটরিং সেল।
অভিযোগ উঠে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীদের চাহিদার সুযোগে এবং প্রশাসনের যোগসাজশে প্রভাবশালী পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের উৎসবে মাতে।
এদিকে ৫ আগস্ট থেকে কাউন্টারগুলোতে অভিযান বন্ধ থাকার সুযোগে পরিবহনগুলো পুনরায় দ্বিগুণ তিনগুণ ভাড়া নেওয়ার নৈরাজ্যে মেতে উঠে। এতে গত পাঁচদিন ধরে সচেতন যাত্রীরা পুলিশের হটলাইন ৯৯৯ এবং বিআরটিএ’র হটলাইন ০১৫৫০০৫১৬০৬ নম্বর বাদেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যক্তিগত মুঠোফোনেও ভুক্তভোগীরা যাত্রী হয়রানির নানান অভিযোগ দেন। এরপরই যাত্রী হয়রানি রোধে গতকাল শনিবার অফিসিয়াল বন্ধের মধ্যেও অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক।
গত কয়েকদিন ধরে যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে দৈনিক আজাদীসহ স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশ মুখ শাহ আমানত সেতুর গোলচত্বর থেকে শনিবার ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোতে অনেকটা শৃংখলা ফিরেছে। বিশেষ করে পটিয়া রুটে এর আগে চরম নৈরাজ্য থাকলেও শনিবার ৩০ টাকা ভাড়ায় বাসা-মিনিবাসগুলো ছেড়ে গেছে। শনিবার নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে ১০টা বেশি নিলেও যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে বাঁশখালীর গুনাগরি ও জলদিগামী বাস এবং লোহাগাড়া ডলুব্রিজগামী বিলাসী সার্ভিসের বাসগুলোর বিরুদ্ধে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বাঁশখালীর গুণাগরি নিয়মিত ভাড়া ৫৫ টাকা হলেও শনিবার যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করেছে ১০০ টাকা করে। ডলুব্রিজগামী সুগন্ধা পরিবহনের চট্টমেট্রো-জ-১১-০২৩৫ নম্বরের বাসটি যাত্রীদের কাছ থেকে দেড়শ টাকা করে ভাড়া আদায় করে। ওই বাসের যাত্রী আরেফিন বলেন, নিয়মিত ভাড়া ৮০ টাকা হলেও এখন দেড়শ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে বিলাসি মালিক সমিতির নেতারা বলেন, বিলাসী সার্ভিসকে ডলুব্রিজ যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ১২০ টাকা ভাড়া নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, বিকেল তিনটায় নগরীর বায়েজিদ এলাকায় উত্তরবঙ্গগামী দুটি কাউন্টারে অভিযান চালান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক। এসময় ৯শ টাকার ভাড়া ১৪শ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ায়। অতিরিক্ত নেওয়া ৫শ টাকা উপস্থিত যাত্রীদের ফেরত দেওয়া হয়। এসময় দুই কাউন্টারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালত। এরপর অঙিজেন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার জন্য কাউন্টারগুলোকে সতর্ক করা হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নতুন ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালান একই আদালত। এসময় যাত্রী হয়রানির অভিযোগে ৭ বাসকে ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’
রাত আটটার পর থেকে একে খান মোড় ও অলংকার এলাকায় অভিযান শুরু করেন একই আদালত। এসময় পাবনা এঙপ্রেস নামের কাউন্টারকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাছাড়া বেশ কয়েকটি কাউন্টারে নেওয়া বাড়তি ভাড়া ফেরত দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক দৈনিক আজাদীকে বলেন, গত পাঁচদিন কাউন্টারগুলোতে অভিযান না চালানোর কারণে তারা যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমাফিক ভাড়া আদায় করেছে। এতে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর যাত্রীদের চাপের মুখে বাধ্য হয়েই পরিবহনগুলোতে অভিযান চালিয়েছি। এতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের যাত্রীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, শনিবারের অভিযানে কয়েকটি কাউন্টারকে জরিমানা করা না হলেও বাড়তি নেওয়া ভাড়া উপস্থিত যাত্রীদের ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়েছে। রবিবার সকালেও তিনি অভিযান চালাবেন এবং ঈদের পরেও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন এ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

x