যাঁদের হারিয়েছি

শনিবার , ৫ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
88

২০১৮ সালে অনেক বিসর্জন আমাদের ব্যথিত করে। এই বছরটিতে আমরা চারজন নারী মুক্তিযোদ্ধাকে হারালাম।

ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী
স্বাধীনতার মাস মার্চেই আমাদের ফেলে চলে গেলেন তিনি। যিনি আমাদের কাছে বীর সেনানীর মর্যাদায় অভিষিক্ত। ১৬ বছরে বাল্য বিয়ের অভিশাপে পড়া এই লড়াকু সৈনিকের মুক্তিযুদ্ধে ত্যাগ স্বীকার ও অতঃপর নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ভাস্কর্য স্থাপত্যে অভূতপূর্ব অবদান রাখায় তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত করা হয়।

কাঁকন বিবি
মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবির প্রয়াণও আমাদের শোকাভিভূত করে। সম্ভ্রম হারানো এই লড়াকু সৈনিক সম্মুখ সমরে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করতেন। শুধু তাই নয়, পাকশিবিরের অনেক গোপন সংবাদও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দিতেন। স্বাধীনতার গৌরব মার্চমাসে তাঁকেও হারালাম আমরা।

রমা চৌধুরী
সেপ্টেম্বর মাসে বিদায় নিলেন ‘একাত্তরের জননী’ বলে খ্যাত রমা চৌধুরী। ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী দ্বারা নির্যাতিত এই বীরঙ্গনা স্বাধীনতার যুদ্ধে তাঁর দুই শিশুপুত্রকেও হারান। সে সময় স্বামী ছিলেন নিরুদ্দেশ। বলতেন- ‘যে মাটিতে তাঁর সন্তানরা শুয়ে আছে, সেখানে আমি কীভাবে জুতো পায়ে হাঁটি?’ দুর্ভোগ আর দুর্যোগের অন্তহীন যাত্রায় স্বাধীন দেশে খালি পায়ে হেঁটে চাপা অভিমানে বাকি জীবনটা কাটান। আমৃত্যু তাঁর সঙ্গী ছিলেন সন্তানতুল্য সংগঠক আলাউদ্দিন খোকন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রমা চৌধুরী বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগি অর্জন করেন। শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে পেশার জগতে অনুপ্রবেশ করলেও পরে তিনি কেবল বই লিখে ও বই পড়েই দিনাতিপাত করতেন।

তারামন বিবি
২ ডিসেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান লড়াকু সশস্ত্র যোদ্ধা তারামন বিবি। ১৯৭১ সালে ছিলেন ১৪ বছরের কিশোরী। সে সময়ই মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে থাকা এই বীরসৈনিক অস্ত্র হাতে সম্মুখ সমরে পাকবাহিনীর মোকাবেলা করেছেন। অস্ত্র চালনায় প্রশিক্ষিত এবং পারদর্শী এই তারামন বিবি স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর সংগ্রামী ভূমিকা পালন করে ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব পান। অস্ত্র হাতে মাত্র দু’জন নারী সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেন। তারামন বিবি সেই দু’জনেরই একজন।

Advertisement