যত দ্রুত সম্ভব ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দ্রুতগামী ট্রেন চালু করা হোক

শনিবার , ১৩ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
173

বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট হলো ‘চট্টগ্রাম-ঢাকা’ রুট। এই রুটে বিরতিহীন দ্রুতগতির ট্রেন চালুর পরিকল্পনা চলছে আজ অনেক বছর ধরে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হলো না বলে নানা রকম প্রশ্ন জাগছে জনসাধারণের মনে। গত ১১ এপ্রিল দৈনিক আজাদীতে ‘চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে বিরতিহীন দ্রুতগতির ট্রেন কবে’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে এই প্রশ্নটির কথা তুলে ধরা হয়েছে।
যেকোনো দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ যাতায়াতের ক্ষেত্রে রেলের ওপর আস্থা অপরিসীম। পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি সাশ্রয়ী নিরাপদ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে রেল একটি জনপ্রিয় পরিবহন। আমাদের সীমিত সম্পদ, জনসংখ্যার আধিক্য, নিম্ন আয় ও কৃষিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থায় রেলের গুরুত্ব ব্যাপক। যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে, পণ্য পরিবহনে, অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞের ব্যাপক প্রসার এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে রেলকে আধুনিকায়ন ও জনপ্রিয় করে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দু’শ বছরের শাসনকাল থেকে যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে রেলপথ ছিল কেন্দ্রীয় ভূমিকায়। এরই মাঝে ঘটেছে শিল্পায়ন, নগরায়ন, বেড়েছে জনসংখ্যা। তার সাথে সঙ্গতি রেখে বেড়েছে জনগণের চাহিদা, সড়ক পথের ঘটেছে অভূতপূর্ব বিস্তার। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে আমাদের শহর জীবন হয়েছে জনাকীর্ণ, অতি যান্ত্রিকতায় পূর্ণ এবং এখানে জনসংখ্যা বেড়েছে অতি মাত্রায়। ফলে সড়ক পথের ওপর পড়ছে অতিরিক্ত চাপ, প্রাইভেট গাড়ির আধিক্যও কম নয়। গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে ঠিক কিন্তু দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে তালে তাল মিলিয়ে।
এ দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ বাস করে দারিদ্র্যসীমার নিচে। এই দরিদ্র মানুষগুলোর যোগাযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করাও অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। অন্যদিকে আজকের বৈশ্বিক বাস্তবতায় চলছে জ্বালানি সংকট। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে জ্বালানি একটি বড় সমস্যা এবং তা শুধুমাত্র বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতেও প্রভাব বিস্তার করবে। দেশের জ্বালানির একটা বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে সড়ক পথে চালিত পরিবহনে। উপরন্তু অতিরিক্ত পরিবহন ব্যবহারের কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। আমাদের দেশে সড়ক পথে অধিকাংশ সময় যানজট লেগে থাকে। যে কারণে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। কিন্তু রেল লাইনে সাধারণত কোনো যানজট থাকে না। সুতরাং নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো যায়। রেল একটি আরামদায়ক পরিবহন ব্যবস্থা। এর লাইনগুলো সাধারণত মসৃণ। যে কারণে যাতায়াতে ঝাঁকি কম লাগে। কম ঝুঁকিপূর্ণ। রেল যোগাযোগে দুর্ঘটনা, মৃত্যু এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম। সুতরাং জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্নেরও রেল যোগাযোগে গুরুত্ব প্রদান করা হয়।
সারা দেশের বিবেচনায় চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটটি অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। অনেকগুলি রেল এই রুটে চলাচল করলেও দ্রুতগামী একটি রেলের অভাব অনুভব হচ্ছে অনেক আগে থেকে। সরকারও তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুতগামী ট্রেনের চলাচলের পরিকল্পনা নিয়েছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে যাত্রীরা অনেক দিন ধরে অপেক্ষায় থেকেও বিরতিহীন দ্রুতগতির ট্রেন এখনো পাচ্ছেন না। অথচ বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-রাজশাহী রুটে চালু হতে যাচ্ছে একটি বিরতিহীন দ্রুতগতির ট্রেন। আগামী ২০ এপ্রিলের পর যে কোন দিন রাজশাহী-ঢাকা রুটে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নামের দ্রুতগতির ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
যদিও রেলওয়ের ডিজি কাজী মো. রফিকুল আলমের বরাত দিয়ে আজাদীর প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরোটা ডুয়েলগেজে রূপান্তর হয়ে গেলে দ্রুতগতির ট্রেন সার্ভিস চালু হবে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের আখাউড়া-লাকসাম সেকশনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের কাজ চলমান রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের অবশিষ্ট অংশের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও ডিটেইল ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। আমরা সবসময় আশার বাণী শুনি। বাস্তবায়ন দেখি না। এবার সেই আশার বাস্তবায়ন দেখতে চাই। দ্রুতগামী ট্রেন চালু হলে শুধু যাত্রীরা উপকৃত হবেন না, এ অঞ্চলের সার্বিক অগ্রগতি সাধিত হবে। আমরা চাই খুব শীঘ্রই ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দ্রুতগামী ট্রেন চালু হবে, এ জন্য যা যা করণীয়, তা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

x