মৎস্য সংকট ও করণীয়

শুক্রবার , ১২ জুলাই, ২০১৯ at ৭:৫০ পূর্বাহ্ণ
15

মাছে ভাতে বাঙালি প্রবাদটি বাংলাদেশের সংস্কৃতির পরিচয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলেও বর্তমানে আর সে দিনটি নেই। বর্তমানে মাছের মৌসুমে বিভিন্ন মাছের আকাশ চুম্বী দামের কারণে মৎস্য ভোজীরা রীতিমত হতাশ। বাজারে মিঠা পানির মাছের বড় আকাল চলছে। মাছ ও ভাত বাঙালির প্রধান খাদ্য। নদী মাতৃক দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এক সময় মাছ সহজলভ্য ছিল বলেই মাছ আমাদের প্রধান খাদ্য হতে পেরেছে। এদেশের বেশীর ভাগ লোক মাছের স্বাদ ভুলতে বসেছে। সে প্রবাদ প্রচলিত ছিল তার সত্যতা অনেকটা ক্ষয়ে গেছে। অভাবের তাড়নায় পেটের ভাত যোগাড় করতে যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে সে ক্ষেত্রে মাছ মাংস ক্রয় করার তো প্রশ্নই উঠে না। তবে বাংলাদেশে মাছ চাষের উপযুক্ত জলাশয়ের সংখ্যা কি কম?
যে বিপুল সংখ্যক জলাশয় ও নদী নালা রয়েছে সেখানে ঠিকমতো মাছ চাষ করলে মাছের ঘাটতি থাকার কথা নয়। পরিকল্পিত মাছ চাষের পাশাপাশি মাছ সংরক্ষণ কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দরকার। বাংলাদেশের পুকুর দীঘির সংখ্যা ১৭ লক্ষ ৬৯ হাজার হাওর বাওরের সংখ্যা ২ হাজার ৪৬৪ এবং নদী নালার সংখ্যা ৩ হাজার ২০৫ যার দৈর্ঘ্য বড় কম নয়। তাছাড়া দেশে অন্যান্য জলাশয় রয়েছে ২২ হাজার ৪শ। এসব জলাশয়ে মাছ চাষের ব্যাপক পদক্ষেপ নেয়া একান্ত প্রয়োজন। বেপরোয়া মৎস্য শিকার, পোনা মারা ও কীটনাশক ওষুধের যত্রতত্র ব্যবহার প্রতিরোধসহ মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে। তাছাড়া বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় দেশি-বিদেশি ট্রলার ও যান্ত্রিক নৌকাসমূহের বেপরোয়া মৎস্য শিকার ও সামুদ্রিক পাচার কঠোর হস্তে দমন করার জন্য সরকারকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়,
কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x