ম্যাচিং ফান্ডের শর্ত ছাড়াই ১২৩০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

মেয়রের অনুরোধ রাখলেন প্রধানমন্ত্রী

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ১২ অক্টোবর, ২০১৮ at ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ
57

‘ম্যাচিং ফান্ডের’ শর্ত ছাড়াই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণসহ সড়ক উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি বছরের জুলাই থেকে আগামী ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল শেরে বাংলা নগরে এনইসি’তে এ একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন, ‘প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিপিপিতে ‘ম্যাচিং ফান্ড’ হিসেবে চসিকের জন্য ধার্যকৃত অর্থও সরকারিভাবে দেয়ার জন্য। এসময় মেয়র চসিকের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।’ প্রধানমন্ত্রী মেয়রের এ অনুরোধ রাখেন। এবং জিরো ম্যাচিং ফান্ডে প্রকল্পের অনুমোদন দেন। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন দৈনিক আজাদীকে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম শহরের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, যানজট নিরসন ও পরিবেশ উন্নয়নের জন্য বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, রাস্তার উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য আরো গতিশীল এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা হবে। মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের ভার নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন। তিনি তাঁর ওয়াদা পূরণে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে চট্টগ্রামকে নিজের মত সাজিয়ে তুলছেন। তিনি এ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে বিজয়ী করে সরকার গঠনে সহযোগিতা করার জন্য চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আহবান জানান।
প্রসঙ্গত, প্রকল্পের ডিপিপিতে জিওবি ফান্ডে ৯৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং ২৪৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা চসিকের নিজস্ব ফান্ড থেকে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এখন জিরো ম্যাচিং ফান্ড করায় প্রকল্পে সম্পূর্ণ অর্থায়ন করবে সরকার।এর আগে একনেকে অনুমোদিত চসিকের সবচেয়ে বড় আকারের প্রকল্প ছিল ৭১৬ কোটি টাকায়। চসিক প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণসহ সড়ক উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পটির আওতায় শহরের ৩২০ দশমিক ০৭ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন করা হবে। এতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৫৫ কোটি ১৩ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। বিভিন্ন ‘এ্যাপ্রোচ রোড উন্নয়নসহ ব্রিজ নির্মাণ’ করা হবে ৩৭টি। এতে ব্যয় হবে ১৩৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বাস-ট্রাক টার্মিনালের অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হবে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, টার্মিনাল এর জন্য ড্রেনেজসহ ইয়ার্ড নির্মাণে ব্যয় হবে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ভূমি ক্রয় করা হবে ২৬০ কোটি ৫ লাখ টাকায়।’ প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা। র্দীঘদিন ধরেই নগরীতে ট্রাক টার্মিনালের নিমার্ণের দাবি ছিল বিভিন্ন মহলের। বন্দর থাকায় চট্টগ্রাম শহরে প্রতিদিন গড়ে চার হাজার ছোট-বড় ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি আসা-যাওয়া করে। এর সঙ্গে আছে তিন পার্বত্য জেলা, কঙবাজারসহ আন্ত:জেলার যানবাহন। টার্মিনাল না থাকায় যত্রতত্র ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতিতে মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন ট্রাক টার্মিনালের উদ্যোগ গ্রহণ করে। গৃহীত প্রকল্পটির আওতায় বায়েজিদের অঙিজেন এলাকার কুলগাঁও এলাকায় ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। ট্রাক টার্মিনালটি নির্মাণ করা হবে ৮ দশমিক ১০ একর জায়গায়।

x