মোহাম্মদ জহির (বঙ্গবন্ধুর হাতের স্পর্শ)

বুধবার , ১৫ আগস্ট, ২০১৮ at ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ
57

: ১৫ আগস্ট এলে আমি অন্যরকম স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি। একটি হাতের স্পর্শ অনুভব করি। যে অনুভব আমাকে নিয়ে যায় একেবারে শৈশবে। ১৯৭৫ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাঙামাটি জেলার বেতবুনিয়ায় ভূউপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধন করতে যান। ফেরার পথে বঙ্গবন্ধুকে রাউজান কলেজ মাঠে তৎকালীন রাউজানের সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ গণসংবর্ধনা দেন। অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ আমার বাবা। দৈনিক আজাদীর প্রয়াত সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ তখন রাউজানের সাংসদ ও বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রবর্তিত বাকশাল সরকারের উত্তর জেলার গভর্নর। বঙ্গবন্ধুর আগমন উপলক্ষে সেদিন রাউজানে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় । রাউজানের নানা প্রান্ত থেকে দলে দলে লোক রাউজান কলেজ মাঠে সমবেত হচ্ছে। সবাই বঙ্গবন্ধুকে কাছ থেকে এক নজর দেখতে চায়। সেদিন বঙ্গবন্ধুর আগমনকে কেন্দ্র করে বড়দের মধ্যে যে কৌতূহল উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছিল তা আমাদের ছোটদের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়। বিশেষ করে আমরা যে সব স্কুল ছাত্র বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানানোর জন্য নির্বাচিত হয়েছিলাম তাদের মধ্যে দারুণ উত্তেজনা।সেদিন বঙ্গবন্ধুকে ফুলের মালা পরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয় আমাকে। বঙ্গবন্ধুকে আমি যখন মালা পরিয়ে দিচ্ছিলাম সে মুহূর্তের অনুভূতি আমার পক্ষে অনির্বচনীয়। মালা পরিয়ে দেয়ার পর তিনি আমার সাথে হ্যান্ডশেক করলেন। আমার জন্য সে মুহূর্তটি অবিস্মরণীয়।

এত বছর পরও আমি বঙ্গবন্ধুর সে হাতের স্পর্শ অনুভব করি। বিশেষ করে ১৫ আগস্ট খুব বেশি অনুভব করি। মর্মাহত হই তাঁর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য। আজ বঙ্গবন্ধু নেই । তবে তার অবর্তমানে তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার দিকে। যে দেশ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন হয়েছে। সে দেশ তারই সুযোগ্য উত্তরাধিকারীর হাত ধরে সমৃদ্ধির পথে যাবে তাই তো স্বাভাবিক। বাংলাকে সোনার বাংলায় পরিণত করার যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছেন তার বাস্তব রূপ দেয়ার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশব্যাপী উন্নয়নের মহাযজ্ঞ শুরু করেছেন। কিন্তু এ সব বানচাল করতে তৎপর ষড়যন্ত্রকারীগণ। বঙ্গবন্ধুকে আমরা অসময়ে হারিয়েছি। কিন্তু শেখ হাসিনাকে সে ভাবে হারাতে চাই না। এই জন্য আমাদের উচিৎ তাকে সর্বোত সমর্থন দিয়ে যাওয়া। আজ বঙ্গবন্ধু নেই কিন্তু তিনি আছেন এবং চিরদিন থাকবেন বাঙালির হৃদয়ে। ঘাতকদের শত চেষ্টা সত্ত্বেও গণমানুষের নেতা বঙ্গবন্ধুকে সাধারণ মানুষের অন্তর থেকে মুছে ফেলা যায়নি। আজকের এই শোকের দিনে শোককে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশের সুযোগ্য কাণ্ডারী শেখ হাসিনার হাত ধরে এগিয়ে যেতে হবে সমৃদ্ধির পথে। বঙ্গবন্ধু এবং ১৯৭৫সালের এই দিনে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

x