মোস্তাফিজের হলফনামা ৫ বছর আগে-পরে জমির মূল্য একই!

সোহেল মারমা

বুধবার , ৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ
162

অতীতে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হননি বলে দাবি করেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ আসন বাঁশখালী থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। পাঁচ বছর আগে পাওয়া পৈতৃক সম্পত্তি ও রাজউকের বরাদ্দ ৩ কাঠা অকৃষি জমি এবারের হলফনামায়ও স্থাবর সম্পদ হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। এছাড়া অকৃষি জমি নিয়ে পাঁচ বছর আগেকার দেখানো মূল্য এবারের হলফনামায়ও একই দেখানো হয়েছে। অথচ প্রতি বছর জায়গার দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় এমন তথ্য জানা গেছে। হলফনামায় দেওয়া সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা না থাকা মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী অতীতেও তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে হলফনামায় উল্লেখ করেন।
পাঁচ বছর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়েরকৃত হলফনামা অনুযায়ী, ওই সময় প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের খাতুনগঞ্জ শাখার মহাব্যবস্থাপক থাকা মোস্তাফিজুর রহমান বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক হিসেবে আছেন। আগে কৃষি জমি থেকে প্রতি মাসে ১ হাজার টাকারও কিছু বেশি আয় দেখিয়েছেন। বর্তমানে এই খাত থেকে মাসে চার হাজারের মতো আয় হয়। বার্ষিক হিসেবে তা দাঁড়ায় ৪৫ হাজার টাকা। আয়ের উৎস হিসেবে একমাত্র কৃষি জমি খাত তিনি এবারও দেখিয়েছেন। যদিও গত পাঁচ বছরে তিনি ও তার স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর উভয় ক্ষেত্রে সম্পদ বেড়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোস্তাফিজুরের চেয়ে তার স্ত্রী তিন গুণ সম্পত্তির মালিক ছিলেন। এবার হলফনামায় সংসদ সদস্য প্রার্থী ও তার স্ত্রী মিলে মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১ কোটি ৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে মোস্তাফিজুরের সাড়ে ৮৪ লাখ এবং তার স্ত্রীর ১৯ লাখ ৫০ হাজার।
পাঁচ বছর আগে মোস্তাফিজুর রহমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭ টাকা। একই সময় স্ত্রীর শুধু অস্থাবর সম্পদ ছিল ৪৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার মতো। দুজনে মিলে ওই সময় মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৯ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭৭ টাকা। এছাড়া ব্যাংক ঋণ বা অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট তার কোনো দায়-দেনা নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

x