মোরশেদ খান, মীর নাছিরসহ ২৭ জনের আপিল

আজ থেকে তিন দিন শুনানি

শুকলাল দাশ

বৃহস্পতিবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৫:২৪ পূর্বাহ্ণ
659

চট্টগ্রামে বাছাইকালে বাতিল হওয়া ৪৬ জন প্রার্র্থীর মধ্যে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে তিন দিনে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের ২৭ জন প্রার্থী আপিল করেছেন। চট্টগ্রামের ১৬ আসনে বাতিল হওয়া বিএনপির সব হেভিওয়েট প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন। আজ থেকে ৩দিন নির্বাচন কমিশনে চলবে শুনানি। শুনানিতে যারাই প্রার্থিতা ফিরে পাবেন তারা আবার নির্বাচনী মাঠে ফিরে আসবেন।
গত ২ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে দুই রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ১৬ আসনের ১৮০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাইকালে ঋণ খেলাপী, বিল খেলাপী, হলফনামায় তথ্য গোপন ও ভুল তথ্য দেয়ায় ৪৬জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এরমধ্যে ২৭ জন সংক্ষুব্ধ প্রার্থী ইসিতে আপিল করেছেন। বাছাই শেষে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে এখন বিভিন্ন দলের ১৩৪ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। খবর নিয়ে জানা গেছে, বাতিল হওয়া বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী এম মোরশেদ খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, আসলাম চৌধুরী, এরশাদ উল্লাহ, সাবেক সাংসদ মোস্তফা কামাল পাশা, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, শামসুল ইসলাম, দুই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম ও নুরুল আমিন আপিল করেছেন নির্বাচন কমিশনে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান আজাদীকে জানান, গত তিনদিনে জেলার ১০ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের কাছ থেকে ১৩ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশ কপি সংগ্রহ করেছেন। আর নগরীর ৬টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নানের কাছ থেকে ১৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশ কপি সংগ্রহ করেছেন। আজ (গতকাল বুধবার) ছিল আপিলের শেষ দিন । বৃহস্পতিবার থেকে নির্বাচন কমিশনে শুনানি শুরু হবে।
চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে বিএনপির প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপ আসনে বিএনপির মো. মোস্তফা কামাল পাশা ও জাসদের মো. আবুল কাশেম, চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসনে বিএনপির আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসনে বিএনপির মীর মো. নাছির উদ্দিন ও তার ছেলে মীর হেলাল উদ্দিন, জমিয়তে উলামায়ের মো. নাসির উদ্দিন ও স্বতন্ত্র এ্যাডভোকেট মাসুদুল আলম বাবলু, চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে মো. সামির কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে বিএনপির আবু আহমেদ হাসনাত ও বিএনএফের মো. আব্দুল আলীম, চট্টগ্রাম-৮ বোয়ালখালী আসনে বিএনপির এম মোরশেদ খান ও এরশাদ উল্লাহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের মো. দুলাল খান, জাতীয় পার্টির মোরশেদ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-ডবলমুরিং) আসনে জাতীয় পার্টির মো. ওসমান খান ও জাতীয় পার্টির (জেপি) আজাদ দোভাষ, চট্টগ্রাম-১১( বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা আবু সাঈদ মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য বাতিলের আদেশ কপি সংগ্রহ করেছেন।
চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনের এলডিপির এম এয়াকুব আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবু তালেব হেলালী, চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনের বিএনএফের নারায়ন রক্ষিত, চট্টগ্রাম-১৫ লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল জব্বার এবং চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম আপিলের জন্য রিটার্নিং অফিসার থেকে মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশ কপি সংগ্রহ করেছেন।
বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা আজাদীকে জানান, তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইসিতে আপিল করেছেন। আপিল শুনানিতে তারা প্রার্থিতা ফিরে পাবেন বলে আশা করছেন।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রেসব্রিফ্রিংয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, গত তিনদিনে সারাদেশ থেকে ৫৪৩ জন প্রার্থী আপিল করেছেন। প্রথম দিনে ৮৪টি আবেদন জমা পড়েছে, দ্বিতীয় দিন ২৩৭টি এবং তৃতীয় দিনে ২২২টি আবেদন ইসিতে জমা পড়েছে।
ইসি সচিব বলেন, প্রতিটি আবেদনের আপিল শুনানি শেষে সঙ্গে সঙ্গেই রায় জানিয়ে দেয়া হবে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যদি উচ্চ আদালতে কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান, তাহলে তাকে রায়ের নকল কপি দিয়ে দেয়া হবে।

প্রার্থী প্রতি সময় সাড়ে ৪ মিনিট!
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ-বাতিল নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনব্যাপী শুনানি শুরু করছে নির্বাচন কমিশন ইসি। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, মোট ৫৪৩টি আপিল আবেদন পড়েছে। ৬ ডিসেম্বর (আজ) প্রথমদিন ১ থেকে ১৬০ নম্বর আপিল আবেদনের শুনানি হবে। ৭ ডিসেম্বর (আগামীকাল) দ্বিতীয় দিনে ১৬১ থেকে ৩১০ নম্বর এবং ৮ ডিসেম্বর (শনিবার) শেষ দিনে ৩১১ থেকে ৫৪৩ নম্বর আবেদনের শুনানি হবে। খবর বাংলানিউজের।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুনানি শুরু হয়ে শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে। তিনদিনের শুনানিতে তৃতীয় দিন সবচেয়ে বেশি শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে প্রথমদিন যদি টানা ১২ ঘণ্টা শুনানির সময় হিসেব করা হয়, সেক্ষেত্রে মোট সময় হবে ৭২০ মিনিট। এক্ষেত্রে প্রতিটি শুনানির জন্য পাওয়া যাবে মাত্র সাড়ে ৪ মিনিট।
হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছে, শুনানির সময় মধ্যাহ্নভোজের বিরতিও থাকবে। অর্থাৎ সময় আরো কমে যাবে। এক্ষেত্রে ৪ মিনিটের নিচে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আপিল আবেদনকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছেন ঋণ খেলাপি। তারপরেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর। তারা ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন দেখাতে না পারায় বাতিলের খাতায় পড়েছেন।
ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, প্রার্থী যতই হোক, আমরা শেষ করবো। যতক্ষণ লাগুক। কেননা, ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। আমাদের হাতে সময় কম।
এরইমধ্যে শুনানির জন্য নির্বাচন ভবনের ১১তলায় এজলাস কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ২ হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬টি অবৈধ বলে ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এগুলোর মধ্যে বিএনপির ১৪১টি, আ.লীগের ৩টি এবং জাতীয় পার্টির ৩৮টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ৩৮৪টি। ৩৯টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে এবার ৩০৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা পড়ে মোট ২ হাজার ৫৬৭টি ও স্বতন্ত্র ৪৯৮টি। আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ। আর ভোট গ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর।

x