মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী : বাঙালি সংস্কৃতির সেবক

সোমবার , ২২ জুলাই, ২০১৯ at ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
29

মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী – প্রগতিবাদী চিন্তাবিদ, স্থিতধী গবেষক, শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক হিসেবে খ্যাতিমান। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তান হানাদার বাহিনির এদেশীয় দোসর আলবদর বাহিনির হাতে অপহৃত ও নিহত হন বিশিষ্ট এই বুদ্ধিজীবী। আজ তাঁর ৯৩তম জন্মবার্ষিকী।
মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর জন্ম ১৯২৬ সালের ২২ জুলাই নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জনের কৃতিত্বে তাঁকে ‘সুরেন্দ্রনলিনী স্বর্ণপদক’ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান নিয়ে এম.এ পাস করেন। ছাত্রজীবনে বরাবরই মেধার স্বাক্ষর রাখা মোফাজ্জল রবীন্দ্রভবনের বৃত্তি নিয়ে শান্তিনিকেতনেও অধ্যয়ন করেন। এই বিদ্বৎপ্রতিষ্ঠান থেকে তাঁকে ‘সাহিত্য ভারতী’ উপাধি দেওয়া হয়। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজে ভাষাতত্ত্ব অধ্যয়ন ও গবেষণা করেন তিনি। দীর্ঘকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন সাহিত্যচর্চা ও গবেষণা। চেতনায় ছিলেন উদার, মুক্তবুদ্ধি সম্পন্ন এবং অসাম্প্রদায়িক। বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা ও বাঙালি সংস্কৃতি চর্চায় ছিলেন সদা সক্রিয়।
তাঁর প্রকাশিত রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘বাঙলা বানান ও লিপি সংস্কার’, ‘রবি পরিক্রমা’, ‘রঙিন আখর’, ‘সাহিত্যে নবরূপায়ণ’ ইত্যাদি। ১৯৫৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা অনার্সে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপক হিসেবে ‘স্যার আশুতোষ স্বর্ণপদক’ লাভ করেন মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী। প্রবন্ধসাহিত্যে কৃতিত্বের জন্য অর্জন করেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনির এ দেশীয় দোসর আলবদর বাহিনির সদস্যরা বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা অনুযায়ী তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। আর তিনি ফিরে আসেন নি।

x