মেয়েরা নিগৃহীত: মূল উৎপাটনই জরুরি

মঙ্গলবার , ১৮ জুন, ২০১৯ at ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ
16

দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত (১০ জুন) সংবাদে জানা যায়, রাউজানে ইভটিজার ও মাদক বিক্রেতাকে ভ্রাম্যমান আদালতের কারাদন্ড। সংবাদপত্রে প্রায়ই দেখা যায় ইভটিজারদের লঘু কারাদন্ড দেওয়ার সংবাদ। আমাদের সমাজে এ অপরাধটি যেমন অপ্রতিরোধ্য তেমনি এর শাস্তিও তেমন দৃষ্টি গোচর নয়। ছেলেদের হাতে মেয়েদের নিগ্রহ শুধুই শারীরিক কারণে নয়। সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ও এখানে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ছেলে শিশুরা যে পরিবেশে বেড়ে উঠে, পরিবার মা-বাবার কাছে যে শিক্ষা বা মূল্যবোধ অর্জন করে সেটিও কম প্রভাব ফেলে না মনোজগতে। অতএব বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। আমাদের প্রধান সংকট হচ্ছে যে আইন আছে তারও তেমনি যথাযথ প্রয়োগ নেই।
অন্যদিকে আইনের ফাঁক ফোকর ছাড়াও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে এ ধরনের অপরাধীদের বিচার প্রহসনে পরিণত হয়। অনেক সময় মেয়ে নিগ্রহকারীরা রাজনৈতিক দল ক্ষমতার কারণে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। গত কয়েক বছর আগে এক শ্রেনীর এই অপরাধের কারণে প্রায় ৬০ জন তরুণীর আত্মহত্যার খবর বেরিয়ে ছিল পত্র-পত্রিকায়। এসময় সারাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫০০ বখাটে। কিন্তু প্রকৃত অপরাধীর বেশির ভাগেরই শাস্তি হয় না। একদিকে আইনগত কাঠামোর কারণে অন্যদিকে সমাজের প্রতিষ্ঠিত অধিষ্ঠিত শক্তিধরদের হাতে অপরাধীরা পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন বলে আমাদের মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। যদিও তারা জনসংখ্যার অর্ধেক কিংবা তারও বেশি। তবু তারা পিছিয়ে আছে। জীবনের নানা ক্ষেত্রে শিক্ষা, দীক্ষা করে নানা পেশায় প্রবেশ করে মেয়েরা ঘর থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। পুরুষের মতোই জীবনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছে। এ চ্যালেঞ্জে অনেকেই সফল। ঠিক এ মুহূর্তে প্রবল মহামারির মতো তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে এক শ্রেণির বখাটেরা। যার মূলউৎপাটনই জরুরি। বহু সংখ্যক মেয়ে বখাটেদের উৎপাতে তাদের লেখাপড়া ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বহু সংখ্যক মেয়ে লজ্জা ও যন্ত্রণায় আত্মাহুতি দিয়েছে। অনেক শিক্ষক অভিভাবক প্রতিবাদ করায় নিগৃহীত হয়েছেন। এদের কেউ কেউ জীবন দিয়েছেন। কিন্তু কতজন তাদের অপরাধের শাস্তি পেয়েছে তা কি আমরা বলতে পারবো? পারব না। কারণ একটি ঘটনা ঘটার পর তাৎক্ষণিক যে প্রতিক্রিয়া হয় আমরা তাতেই আশ্বস্ত হই নতুন ঘটনা না ঘটনা পর্যন্ত। এ প্রবণতা শুভ নয়। এটা রোধ করতেই হবে।
এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x