মেয়েকে তো ফিরে পাবেন না, কৃত্তিকার মা বিচার পাবেন কী?

অনামিকা চৌধুরী

শনিবার , ১১ আগস্ট, ২০১৮ at ৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ
56

আবারও রক্ত হিম করার মতো একটি খবর। আবারও ঝরিয়ে দেওয়া হলো একটি কোমলমতি শিশুর প্রাণ। বড়ই মর্মান্তিক, বেদনাদায়ক বর্বরতার সাক্ষী হলাম আবারও আমরা। পত্রিকায় প্রকাশগত ২৮ জুলাই রাতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার নয়মাইল নামক এলাকায় বাসার সামনে একটি সেগুন বাগান থেকে কৃত্তিকা ত্রিপুরা (১১) নামের এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ পাওয়া যায়। কৃত্তিকা নয়মাইল এলাকার গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। পত্রিকায় প্রকাশতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্যতাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। অবশ্য, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, ময়মনসিংহসহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকার বিভিন্নস্থান ও সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ মিছিল, মৌনমিছিল, মোমবাতি প্রজ্বলন অব্যাহত রয়েছে। কথা একটাইআইনের প্রয়োগ না হওয়ায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরব ভূমিকার কারণে শিশু ও নারীদের ওপর একের পর এক খুন, ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটেই চলেছে।

আচ্ছাএসব কি চলতেই থাকবে? আবারও একটি মায়াময় কোমলমিষ্টি মুখে হায়নার ছোবল। এ কি মানা যায়? কতোটুকু নৃশংস হলে পুরুষ নামের এইসমস্ত জানোয়ার এমন কাজ করতে পারে? আমরা লক্ষ করছিপাহাড়ে এ ধরনের ঘটনা ক’দিন পরপরই ঘটছে। পার্বত্যনিউজডটকম নামের একটি অনলাইন নিউজপোর্টালে প্রকাশকৃত্তিকা ত্রিপুরা হত্যার মাত্র পাঁচদিনের ব্যবধানে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ফের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গত ২ আগস্ট সন্ধ্যায় দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ধর্ষক পলাতক। একইদিন মানে ২ আগস্ট রাঙামাটির কাউখালীর ঘাগড়া ইউনিয়নের বেতছড়ি উপজাতীয় পাড়ায়ও ১৬ বছরের এক চাকমা স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই নিউজপোর্টালের অপর এক খবরে। এ ব্যাপারে ধর্ষিতার বাবামা রাতে থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নিলেও স্থানীয় কার্বারী, মাতব্বর ও নানা ভয়ভীতির কারণে মামলা না করেই বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু এভাবে আর কতোদিন? বিচারহীনতার সংস্কৃতি যেভাবে আমাদের ঘিরে রেখেছেসেখানে কৃত্তিকা ত্রিপুরাসহ অন্যান্য ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে অভিযুক্তরা কোনো শাস্তি কি পাবে না? যখন পত্রিকায় দেখি কৃত্তিকার মা অনুমতি ত্রিপুরা বাকরুদ্ধ কণ্ঠে বলছেন, ‘আমার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন চার বছর আগে। অন্য দুই ছেলেমেয়েকে লেখাপড়া করাতে পারিনি। তাই কৃত্তিকাই আমার প্রধানতম অবলম্বন ছিল। লেখাপড়াতেও ভালো ছিল। এই স্বপ্নহীন জীবনে শুধু দেখে যেতে চাই, আমার মেয়ের খুনিদের উপযুক্ত বিচার।’

তখন আমরা কি উত্তর দেই এই মাকে? সত্যিই এর বিচার কি নিশ্চিত করতে পারবো আমরা? ইতিমধ্যে, কৃত্তিকা ত্রিপুরাকে ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনায় জড়িত খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শেখ শহিদুল ইসলামের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশরত্ম শেখ হাসিনা, তিনিওতো একজন মা। একজন সবহারানো মমতাময়ী মা। তাঁর উপর তো আস্থা রাখতে পারি আমরা। তিনি এর বিহিত করবেন কি? কৃত্তিকা ত্রিপুরার মায়ের এই গগনবিদারী আহাজারি তাঁর কাছে পৌঁছুবে কি?

x