মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা প্রসংগে

সোমবার , ৮ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
20

মেয়াদোত্তীর্ণ ভেজাল ও নকল ওষুধের ব্যাপক বিস্তারে দেশের জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। সংঘবদ্ধ এবং প্রভাবশালী চক্র বছরের পর বছর ধরে নকল এবং ভেজাল ওষুধ বাজারজাত করে আসছে। ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও থেমে নেই ভেজাল ওষুধ তৈরিতে। আসল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকায় জনস্বাস্থ্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভেজাল ওষুধে কেবল বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না শিশু ও মহিলাসহ বহু মানুষের প্রাণহাণি এবং লাখ লাখ সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। ওষুধ কিনেও চিকিৎসা না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। ডাক্তারের বিধান অনুসারে ওষুধে কিনে সেবন করে রোগীরা। কিন্তু সে ওষুধই এখন জীবন কেড়ে নিচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। দেদার বিক্রি হচ্ছে ওষুধের দোকানে। অনেকেই এই ওষুধ সেবন বা ব্যবহারের পর আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু এদের দমন বা নিয়ন্ত্রণে জোরদার কোন উদ্যোগ নেই। ফলে এই সব ওষুধ খেয়ে অল্প দিনের মধ্যেই বিকল হয়ে যাচ্ছে কিডনি, হার্ট ও লিভার। এক শ্রেণির অসৎ ও মুনাফালোভী ব্যবসায়ী বাজারে বিক্রি করছে এই মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এই ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ব্যবসা জমজমাট। সারাদেশে লাখ লাখ ওষুধের দোকান রয়েছে। আইনের হাত থেকে বাঁচার জন্য তাদের লাইসেন্স আছে ঠিকই। তবে অনেক কোম্পানির ওষুধের গুণগত মান নেই। অর্থাৎ নাম সর্বস্ব কোম্পানি। দেশে বর্তমানে নানা ধরনের ওষুধ বাজারে বিক্রি হচ্ছে। মানুষ সুস্থ হওয়ার জন্যই ওষুধ খেতে বাধ্য হয়। ওষুধের গুণগত মান না থাকলে ওষুধে জীবন ধ্বংসকারী উপাদান থাকলে মানুষ কি করে বাঁচবে রোগ ব্যাধির হাত থেকে। এজন্য ওষুধ বাজারজাত করার আগে পরীক্ষা করা জরুরি। এ জন্য দরকার যথেষ্ট ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি।
ওষুধ প্রশাসন ঠিকমতো কাজ করলে বাজারে ভেজাল ওষুধের বিপণন হতো না। ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে ওষুধের দোকানগুলোকে মাঝে মধ্যে জরিমানাও করা হয়। কিন্তু জরিমানা আদায়ের পরও ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধ হয়নি। তাহলে কি মুষ্টিমেয় অসৎ লোকের কারসাজিতে জনজীবন বিপন্ন হবে? ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের পাশাপাশি রয়েছে বাড়তি দামে ওষুধ বিক্রির প্রবণতা। সরকারের অনুমোদন নিয়ে স্বউদ্যোগে দেশে অসংখ্য ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি গড়ে তুলতে হবে। সরকারি-বেসরকারিভাবে প্রতিটি ল্যাবরেটরিতে আমদানি করতে হবে উন্নত মানের যন্ত্রপাতি। যাতে ওষুধ নির্ভুলভাবে পরীক্ষা করা যায়। অন্যদিকে হাইকোর্ট মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বাজার থেকে এক মাসের মধ্যে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে। আমরা শীঘ্রই এ নির্দেশনার বাস্তবায়ন চাই।
এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x