মেলানিয়াকান্ড-নীতির ক্ষয় ও আজাদী

মোস্তফা কামাল পাশা

মঙ্গলবার , ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
17

বাস্তবেই দেশের আর্থ-সামাজিক,রাজনৈতিক সেক্টরে দূষণকাল চলছে। রূপপুর পরমাণু তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের বালিশকন্ড, স্বাস্থ্য দফতরের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় বিপুল অনিয়ম নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা হচ্ছে। সর্বশেষ মেডিক্যাল কলেজের সার্জারির ৫৫০০ টাকার প্রতিটি বই ৮৫,৫০০ টাকায় কেনার অবিশ্বাস্য তথ্য উঠে এসেছে কিছু মিডিয়ায়। ত’ছাড়া বান-পানির দেশে পুকুর খনন অভিজ্ঞতা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের ক’দফায় কোটি-কোটি টাকার বিদেশ সফর নিয়েও প্রশ্ন ভাসছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে আমাদের অর্থনীতির বৈশ্বিক বাস্তবতায় এখন আরো জোরালো উত্থানের সংকেত দিয়েছে আন্তর্জাতিক আর্থিক থিঙ্কট্যাঙ্কগুলো। কিন্তু খেলাপি ঋণের বোঝার চাপে পঙ্গু আর্থিক সেক্টর ঠিকভাবে সাড়া দিতে পারে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে তাদের। প্রিয় দেশের মহান জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালা উদযাপন চলছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর জীবন, কর্ম, আদর্শ ও বাণী দলীয় নেতা-কর্মীদের রক্তে ছড়িয়ে দেয়ার অনুশীলন ও চর্চার দীনতা হতাশাজনক। নানা প্রদর্শনীর জমকালো চটক-চমকে ঢাকা পড়ে গেছে বঙ্গবন্ধুর বিশাল উদ্ভাবনী কর্মযজ্ঞ, অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগ ও অবদানের বাস্তব অনুশীলনক্রম। বঙ্গবন্ধু ভক্ত দলীয় নেতা-কর্মীদের জানা উচিত, প্রদর্শনী ও আবেগের রসে ডোবানো কথামালার ফেনা দ্রুতই উবে যাবে। এখন দরকার ঘরে ঘরে বঙ্গবন্ধু চর্চা, পাঠ, অনুশীলন ও স্কুলিং।
যাহোক, এ’ নিয়ে প্রচুর শব্দক্ষয় হয়েছে, আপাতত অন্য প্রসঙ্গ। ক’দিন পর দৈনিক আজাদীর হীরক জয়ন্তী উৎসব, অর্থাৎ ৬০তম বর্ষপূর্তি! ৫ সেপ্টেম্বর আজাদী ৬০ তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করবে। এটা বিশাল খুশির খবর! একটা আঞ্চলিক দৈনিক বিশেষ করে স্বাধীনতার প্রথম দৈনিক আজাদী বহু বাধার প্রাচীর টপকে হীরক জয়ন্তীর দোরগোড়ায়। অস্বীকার করার উপায় নেই, আজাদী স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির নৈতিক সাহস, উদ্দীপনার পুষ্টি যোগানোর সবচে’ কঠিন কাজটি করে যাচ্ছে একটানা। অসংখ্য প্রতিকূলতার কাঁটায় ক্ষত-বিক্ষত হয়েও! পুষ্টি বা সেবাগ্রহীতারা কদ্দূর কী নিয়েছেন এটা তাদের দায়, সেবাদাতার নয়। পত্রিকাটির সুযোগ্য সম্পাদক এম এ মালেক সাহেব চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দৈনিক দাবি করলেও আজাদী জনপ্রিয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতায় অফ লাইন, অনলাইন সব সংস্করণেই দেশের অন্যতম দৈনিক দাবির হকদার। আমার সৌভাগ্য, ৮২ সালের শুরুতে আজাদীর সাথে যুক্ত হয়ে সাংবাদিকতার ‘এ থেকে জেড’ সবকিছু তালিম নেয়ার অবাধ সুযোগ পেয়েছি। ৯৭ সালের মাঝামাঝি নিজ থেকে সরে যাই, লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগানোর স্বপ্নের টানে। স্বপ্নকে কতটুকু বাস্তবতার জমিনে নামাতে পেরেছি, এনিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু সাংবাদিকতাকে আজকের দিন পর্যন্ত রক্তের সাথে একীভূত করতে পেরেছি, এটাই বড় সাফল্য। গত প্রায় ১৩ বছর ধরে আবারো আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠানে টানা প্রতি সপ্তাহে লিখে যাচ্ছি, এটাও কম সৌভাগ্য নয়। প্রথম ১০ বছর দুটো কলাম, পরে একটি বিভাগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি করে চলছে। প্রতি মুহূর্তে শিখছি, নিজকে ভাঙচুর করছি। বিশ্ব সাংবাদিকতার সর্বশেষ গতি প্রকৃতির সাথে তাল রেখে চলছি। পাঠকদেরও ভাগ দিচ্ছি। ছোট্ট ওকফোটা জীবনে আর কী চাই? আজাদীইতো আমার ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে। সুযোগ করে দিয়েছে সর্বত্র বিচরণ করার অবাধ স্বাধীনতার। যা’হোক হীরক জয়ন্তী তথা ৬০তম বর্ষপূর্তিতে প্রিয় দৈনিকটি সকল সীমাবদ্ধতা জয় করে চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের মিডিয়া দিগন্তে হাজার বছর সত্য সুন্দরের প্রোজ্জ্বল আলোর ঠিকানা হয়ে বেঁচে থাকুক-এটাই একমাত্র কামনা।
মেলানিয়াকান্ড!
Playboy শব্দটা কোন শিয়াল পণ্ডিতের আবিষ্কার
জানিনা! কিন্তু এখন পদক, পুরস্কার, সম্মাননা, খ্যাতি, বিত্তের পাগড়ির লম্বা লেজ ঝুলানো মহা পণ্ডিতরাও কথিত ‘বড়লোক’ এর মত Playboy শব্দটা ব্যবহার করতে দু’বার ভাবেন না! চোর, ছ্যাঁচড়, বদমাশ, গাঁটকাটা, লুচ্চা, ভাঁড়, ভণ্ড, জোকার বা ফুটপাতে শিয়াল-কুকুরের হাড্ডি সাজানো ক্যানভাসারও কোন যাদুমন্ত্রে বিপুল অর্থ-বিত্ত হাতাতে পারলেই নাকি ‘বড়লোক’! পদবিটা আবার আমাদের ‘প্রাতঃস্মরণীয়’ [ওয়াশরুম নয়, জনাব] লেখক, কবি, সাহিত্যিক, কথাশিল্পী এবং বিদগ্ধ সমাজ বেশুমার ব্যবহার করছেন! তো,সংক্রমিত সাধারণ মানুষও এই বজ্জাৎ ছ্যাঁচড়দের বড়লোক জ্ঞানে ইজ্জত সম্মান বিলায় অকাতরে। তাদের দোষ কী! কীর্তিতো সমাজ চিন্তকদের। নামী-দামি কথাশিল্পীর (বাংলাদেশের) জনপ্রিয় গল্প-উপন্যাসের পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় হাস্যকর এই গজব শব্দ খুঁজে পাবেন।
অসুখটা হয়তো ওনারা বুঝে বা না বুঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন সমাজের পুরো কাঠামোয়। তো, চোর, বাটপার, জোকারদের আর পায় কে! তারা দলে দলে যে কোনভাবে ‘বড়লোক’ হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। রাজনীতি থেকে শুরু করে সব সেক্টর দখলে নিচ্ছে। রক্তে একবার ভয়াল ‘বড়লোকি’ ভাইরাস ঢুকে গেলে যত সহজে, যত কৌশলে টাকা লুটপাট বা হাতানো যায়, তার অনুশীলন চলছে সামাজের প্রতিষ্ঠিত বিধিবিধান ভেঙেচুরে। কারণ, বড়লোক পদবি পাওয়া মানেই শ্রেণি উত্তরণ! চারপাশে দেখুন, এই ভাইরাসটি ডেঙ্গুর চে’ হাজারগুণ বেশি শক্তি নিয়ে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে দেশে। আর বড়লোক হয়ে গেলেতো সবকিছুই চাইবার আগেই আদায় উশুল হয়েই যায়! তখন মিডিয়া আপনার গীত গাইবে, বাণী প্রচার করবে। সাক্ষাৎকার ছাড়বে সম্মান ও যত্ন-আত্তির বিপুল আড়ম্বরে! আবার এই “বড়লোক” গ্যাঁজালরাই কেউ কেউ মিডিয়া ব্যরনও বটে!
বড়লোক মানে কী লুটেরা, ছ্যাঁচড়, জোকার, ভাঁড় লোফার, লুচ্চা, বদমাশ! তো শব্দটা পচানো বা গ্যাঁজানোর মহান দায়িত্ব আন্‌জাম দিল কেন, আমাদের তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজ? নিশ্চয়ই স্বার্থ আছে, তারাতো স্বার্থ ছাড়া সেবাদান করেন না। বড়লোক মানে যে অনেক বড়কিছু-এটা কী বুঝেন না তাঁরা! এঁদের কীর্তির পাগড়ির লেজ কোন কোবরেজের মোদকে এত লম্বা হলো, তাহলে? যেদেশে শত শত ধনী বাছাই করে দু’একজন বড়লোক মিলবেনা, সেখানে বড় বাড়ি, বড় গাড়ির রঙের হাটে বড়লোকের নিলামতো হবেই! সমাজের সব অসঙ্গতি নিজে তৈরি করে আবার সমাজ সংস্কারকের ভেক ধরেন সুশীলরা। ‘হায় আফসোসের শব্দ গাজনের টক শোতে ঘন ঘন হেচকি তোলেন-টিস্যু পাল্টান’। কী অদ্ভুত বিপরীত আচরণ! এরা নাকি সমাজের শিরোমনি, চিন্তাবিদ বুদ্ধি বেপারি
বড়লোক শব্দটির মজেজা অনেক বিশাল, মহান। এঁরা ক্ষণজন্মা। সবখানে যাঁরা আলো ছড়িয়ে দেন, মানবতাই যাঁদের ব্রত, নাড়ির স্পন্দনে যাঁদের দেশপ্রেমের সূর মূর্ছনার সৌরভ তাঁরাই বড়লোক। এঁদের ধমনীর হিমোগ্লোবিনের প্রতিটি কোষ শুদ্ধ! দুষণ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে সেলাম ঠুকে পথ মাপে। এখন গুণে দেখুন ক’ জন মিলে? এদের মিলিয়নার, বিলিয়নার হতে হয়না। শতকোটি টাকার প্রাসাদে থাকতে হয়না। দিনে আনি, দিনে খেলেও যা, অর্থ-বিত্ত থাকলেও তাই তাঁরা। ওনারা নিজের মত আলো বিলাবেনই। কে দেখে বা দেখেনা, এসব জাগতিক হিসাবও কম বোঝেন।
ধ্যাৎতেরিকা! কোন মুল্লুক থেকে কোন মুল্লুকে ঢুকে গেলাম। লোকে “গাধা বলে কী আর সাধে”! কথা হচ্ছিল Playboy নিয়ে-ঢুকে গেলাম কিনা ভিআইপি পল্লিতে!তো ট্রাম্পের মত চুয়াত্তুরে বুড়োকে কোন আক্কেলে Playboy লেখা যায় বলুনতো? Playboy শব্দ আট/দশ বছরের নির্দোষ খেলাধুলাপ্রিয় বাচ্চাদের জন্য মানানসই। কিন্তু মেয়ে শিকারি ধাড়ি পুরুষদের জন্য কেন? অথচ তাই হয়েছে। নিশ্চয়ই কোন মিডিয়া বাহিত শব্দ এটি। কোন ইংরেজি ট্যাবলয়েড কাটতির লোভে বিশেষ সেঙ স্ক্যামে জুড়ে দিয়েছে। আর এটা পৃথিবীব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে গেছে। আমরাও ছাগলের মত কাঠালপাতাটি চিবুচ্ছি। ভাগ্য ভাল, কোন মেজাজী বালক মানহানির মামলা ঠুকে দেয়নি। দিলে খেলাটা অন্যরকম দেখতে হতো। অবশ্য সুযোগটা এখনো আছে। তাই সতর্ক হচ্ছি, ট্রাম্প আসলে আমাদের সাবেক অর্থমন্ত্রীর ভাষায় প্লে-বোগাস, প্লে-রাবিশ! না হলে শত শত যৌন স্ক্যামের নায়কের ‘তরুণী’ বউ মেলানিয়া কী করে খোলা ফটোশেসনে এমন আকাম করেন? জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর নেতাদের ফটোসেশনে ট্রাম্প বউয়ের আঁচল থুড়ি হাত ধরে আছেন, আর বউ কীনা গভীর আবেশে সম্মোহিতা হয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাষ্টিন ট্রুডোকে চুমু খান! ট্রাম্প রাগে ভ্রূ কুঁচকে চিবুক নামিয়ে নিচে কার্পেট দেখছেন! হায় খোদা, ট্রাম্প Play old gold হলেতো মেলানিয়া দেখছি এক্কেবারে পুরো ভূগোল কাঁপানো Playlady ! খোলা ময়দানে অগুনতি ক্যামেরার সামনে এমন আবেশেমাখা চুমু! তাহলে আড়ালে কতজন খেলোয়াড় লাগে মেলানিয়ার? কল্পনা করে দেখুনতো, তল পান কিনা! বোঝাই যাচ্ছে, ট্রাম্প আসলে রাবিশ অ্যান্ড বোগাস ওল্ডখবিস, বলদও! তুলনায় মেলানিয়া টগবগে আরবী ঘোটকী। মেয়ে ইভাঙ্কা রটনার বাইরে-কিন্তু ঘটনা নাকি অনেক! দেখুন না, মেলানিয়াকে পৃথিবীর কথিত বাদশাহ হাত ধরে রাখলেও ফার্ষ্টলেডি ক্যামন কামদেবীর পুতুল! ওয়াক Trump!! Play rubbish DUMBO!

x