মেডিকেলে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা, ভুয়া চিকিৎসক আটক

আজাদী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ
134

নিজেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে কৌশলে সম্পর্ক গড়ে কয়েকজনের সাথে। পরে মেডিকেলে চাকরি দেওয়ার নামে ১০ জনের কাছ থেকে আবেদনপত্র বাবদ জনপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয় রুমা আক্তার (২২) নামে এক ভুয়া চিকিৎসক। তবে গতকাল সন্ধ্যায় নিউমার্কেট মোড়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশের হাতে আটক হয় সে। এ সময় তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে প্রেসার মাপার মেশিনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। আটক রুমা আকতার ভোলা জেলার লালমোহন থানার গজায়রা এলাকার রফিকের মেয়ে। বর্তমানে সে কর্ণফুলী থানার বোটবাজার এলাকার আব্বাস কলোনিতে বসবাস করে।
কোতোয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সজল দাশ আজাদীকে বলেন, ধৃত রুমা চমেক হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণা করে আসছিল। তিনি বলেন, আটক ওই নারীর কাছ থেকে কয়েকটি অ্যাপ্রোন, চিকিৎসার সরঞ্জাম ও চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র জব্দ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। সজল দাশ বলেন, রুমা আক্তার সমপ্রতি চাকরির দেওয়ার নামে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা দশজনের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন। পরে সে গা ঢাকা দেয়। পরে আবিদা বেগম বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। সোমবার দুপুর দুটার দিকে আবিদা বেগমের ভাগ্নে ফয়সাল বিন মান্নান আকতারকে ফোন করে নিউ মার্কেট এলাকায় আসতে বলেন। সন্ধ্যায় রুমা আকতার আসলে অন্য চাকরি প্রত্যাশীরা সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় পুলিশ কিছুটা আঁচ করতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো বিষয়টি জেনে ওই ভুয়া চিকিৎসককে আটক করে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার এসআই সজল কান্তি দাশ।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় কোন একটি চক্র থাকতে পারে। তদন্তে মূল বিষয়টি বেরিয়ে আসবে।
রুমা আক্তার আজাদীকে জানায়, বোটবাজারে বাবা-মা ও ভাই বোন নিয়ে থাকে সে। তার ১০ মাস বয়সী একটি বাচ্চাও রয়েছে। স্বামী থাকে রাউজানে। চার মাস হচ্ছে সে রাউজান থেকে চট্টগ্রামে এসেছে। গত ডিসেম্বরে চাকরি দেওয়ার নামে এ প্রতারণা শুরু করে সে।
পরিবারের দুই বোনের লেখাপড়া খরচ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাবা-মা’র ভরণ-পোষণের খরচের জন্যই সে এ অন্যায় কাজটি করেছে বলে আজাদীর কাছে স্বীকার করে।
তার কাছ থেকে যে আবেদনপত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে সেটা ইংরেজি লেখায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেলোয়ার হোসেন নামে পরিচালক বরাবরে ম্যানেজমেন্ট পোস্টের জন্য আবেদা বেগম নামে এক ভুক্তভোগী আবেদনটি করেছিল। চারবছর আগে ওই ভুক্তভোগীর সাথে মহসিন কলেজের এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে পরিচয় হয় রুমার। তবে সে কোনো চক্রের সাথে জড়িত নয় বলে দাবি করে।

- Advertistment -