মুহুরী প্রজেক্ট, মহামায়া ও ঝর্ণায় দর্শনার্থীদের ভিড়

মাহবুব পলাশ, মীরসরাই

মঙ্গলবার , ১১ জুন, ২০১৯ at ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
32

ঈদের আনন্দে এবার ও মীরসরাইয়ের ঝর্ণাধারাগুলোতে লক্ষ করা গেছে দর্শনার্থীদের ভিড়। ইতিমধ্যে ঈদের কয়েকদিন অতিবাহিত হবার পরও মীরসরাইয়ের মুহুরী প্রকল্প এলাকা, মহামায়া লেক ও ঝর্ণাগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষণীয়।
পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সেসব ঝর্ণা দেখতে দিনে দিনে বেড়েই চলছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন। প্রাকৃতিক রুপ বৈচিত্রময় এখানকার খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, হরিণাকুন্ড এবং রূপসী ঝর্ণায় পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ঈদের দিনে দুপুরের পর থেকে প্রতিদিনই খৈয়াছরা ঝর্ণার পথে দলে দলে ভিড় জমাচ্ছে দর্শনার্থী। তরুণ-তরুণী, বয়োজ্যেষ্ঠ, পরিবার-পরিজন আবার কেউ কেউ সহকর্মী, সহপাঠিদের নিয়ে ছুটছেন ঝর্ণার পথ ধরে।
বিভিন্ন স্তরের সুন্দরে বৈচিত্রময়তায় সমৃদ্ধ এসব ঝর্ণাগুলো। এসব ঝর্ণার মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় খৈয়াছড়া ঝর্ণা, নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা, ছোটকমলদহ ঝর্ণা, বড় কমলদহ ঝর্ণা, বাওয়াছরা ও মহামায়াসহ আরো অনেক ছোটবড় ঝর্ণা। মীরসরাই থেকে বড়তাকিয়া, কমলদহ এলাকা এখন ঝর্ণার জন্য পরিচিত দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের কাছে। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী ছুটে আসছেন মীরসরাই উপজেলার মনোরম ঝর্ণাগুলো দেখতে। উচ্চতায় দেশের সর্বোচ্চ ঝর্ণা খৈয়াছরার ঝর্ণাটি। পথ ধরে যেতে গহীন বন, পাখ-পাখালির কলরব, বড় বড় পাথর বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, পাহাড়ি পথ, বন-বাদাড়, পাথুরে ছরা বেয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে চলা সব মিলিয়ে ভিন্ন মাত্রার সাহসী অভিযাত্রা বলা যায়। প্রতিটি ঝর্ণা দেখতে অন্তত চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার হাঁটতে হয়। কিন্তু দর্শনার্থীরা বিরক্ত না হয়ে বিমুগ্ধ হয়ে সারাদিনই কাটিয়ে দিচ্ছেন। গত কয়েক বছর ধরেই এই ঝর্ণা দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। দর্শনার্থীদের আগমনের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে অনেকটা ঝর্ণা ট্যুরিস্ট সিটি হয়ে উঠছে এই মীরসরাই। কিন্তু পাশাপাশি সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে গেছে এখানকার থাকা, খাবার এবং সৌচাগার।
এতকিছুর পরও ঝর্ণার ছল ছল শব্দ আর এখানকার পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দর্শনার্থীরা যেন আরও তৃষ্ণার্ত হয়ে ওঠেন মহামায়ার অপরুপ সৌন্দর্য দেখতে। কেউ কেউ ছুটে যেতে চান সমুদ্র উপকূলসহ অর্থনৈতিক জোন এলাকায়।
এরপর আবার ঝর্ণা এলাকায় ঘুরতে গিয়ে প্রাকৃতিক বৈচিত্রতা দেখে সবাই মুগ্ধ হয়ে পুরো দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু দিন শেষে বেশ ক্লান্ত হওয়ার পর মীরসরাই সদর কিংবা বড়তাকিয়াসহ আশপাশের কোথাও আবাসিক হোটেল না থাকায় ঝর্ণাগুলো দেখতে আসা পর্যটকরা গভীর রাতে যাত্রা করে ভোরে আসেন। ফের রাতে স্বদলে তারা রওনা হচ্ছেন আপন গন্থব্যে। এই বিষয়ে মীরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, এখানে অর্থনৈতিক জোনের সম্ভাব্যতা সহ শীঘ্রই আন্তর্জাতিক মানের হোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আশা করছি শীঘ্রই সকল সংকটের অবসান হবে।
আবার ঝর্ণাগুলোর সতর্কতার বিষয়ে মীরসরাই থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন, ঝর্ণাগুলোর বিভিন্ন স্তরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে অসতর্কতা ও ঝুঁকিপূর্ণ উচু স্থানে পড়ে অনেকেই দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছেন। তাই নিজেরাই সতর্কতা অবলম্বনের কোন বিকল্প নেই।

x