মুনমুন বড়ুয়া (শুভ কামনা)

বৃহস্পতিবার , ১০ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ
23

: চট্টগ্রামে আধুনিক শিক্ষাবিস্তারের রূপকার কে? এই প্রশ্নের উত্তরে যাঁর নাম পাওয়া যাবে, তিনি হলেন আমাদের সাবেক নগরপিতা জনাব এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী । চট্টগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী মানুষ । নগর পিতা থেকে তিনি সবসময় চাইতেন তাঁর প্রাণের চট্টগ্রামের প্রতিটি শিশু সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের সম্পদে পরিণত হোক । তিনি মেয়র থাকাকালীন আমার মতে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে ‘স্বর্ণযুগ’ পার করেছে। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর নানামুখী উদ্যোগ কখনো বলে শেষ করা যাবে না। আমার নিজের দেখা কয়েকটির কথা যেন না বললেই নয় – সিটি করপোরেশন স্কুলগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ব্যাপারে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। নারী শিক্ষা বিস্তারে তার উদ্যোগ ছিল যুগান্তকারী । স্কুল পাসের পর মেয়েরা যাতে ভালোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তিনি সিটি করপোরেশনের স্বনামধন্য স্কুলগুলোকে স্কুল এন্ড কলেজে রূপান্তর করেছেন। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মানেই সবার ধারণা -“ ওখানে ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান ছাড়া পড়াশোনা করা সম্ভব নয়। ” এই ধারণা বদলে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়’ যা নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পরিবার, সবার সামর্থের মধ্যে উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান পীঠস্থান হয়ে চট্টগ্রামের বুকে সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে । আধুনিক যুগে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানলাভের ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী যাতে পিছিয়ে না পড়ে সে কথা ভেবেছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। তাঁর উদ্যোগে চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গড়ে উঠেছে কম্পিউটার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। চট্টগ্রামে শিক্ষাবিস্তারে নিবেদিত প্রাণ এই মানুষটি গতবছর আমাদের ছেড়ে পৃথিবীর সব মায়া কাটিয়ে চলে গেছেন। আমাদের এই প্রিয় মানুষটি হয়তো আর আমাদের মাঝে নেই, তবে তাঁর স্বপ্নগুলো রয়ে গেছে আমাদের মাঝে। স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা প্রত্যেকেই যেন একেকজন যোদ্ধা। আমরা আজ আমাদের সহযোদ্ধা হিসাবে পেতে চলেছি মহিউদ্দিন চৌধুরীরই সুযোগ্য পুত্র ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল কে। শিক্ষা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব তার কাঁধে । একজন শিক্ষানুরাগী পিতার যোগ্য উত্তরসূরী হিসাবে তিনি নিজেকে প্রমাণ করবেন এটাই প্রত্যাশা।

- Advertistment -