মুক্তিযুদ্ধে এম এ হান্নানের অবদান অতুলনীয়

আলোচনা সভায় বক্তারা

বৃহস্পতিবার , ১৩ জুন, ২০১৯ at ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ
16

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রেরিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের প্রথম পাঠক, চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জননেতা এম এ হান্নানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গতকাল বুধবার সকালে চৈতন্যগলি কবরস্থানে মরহুমের কবর জেয়ারত করেন ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। কবর জেয়ারত শেষে মেয়র স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রয়াত এম এ হান্নানের অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ ও তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করে মুনাজাত করেন। এসময় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সহ সভাপতি নঈম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, সফিক আদনান, এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, সফিকুল ইসলাম ফারুক, আবুল মনছুর, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, আবদুল লতিফ টিপু, নিছার উদ্দিন আহমদ মনজু ও শেখ শহীদুল আনোয়ারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ : জননেতা এম.এ হান্নানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে গতকাল ১২ জুন বিকেলে দোস্ত বিল্ডিংস্থ দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. মঈনুদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম.এ সালাম। সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন শাহের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ, এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, আলাউদ্দিন সাবেরী, মহিউদ্দিন রাশেদ, জাফর আহমেদ, শওকত আলম, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মো. সেলিম উদ্দিন, উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সাবেক সভাপতি বখতেয়ার সাঈদ ইরান, বর্তমান সভাপতি তানভির হোসেন তপু, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাসান শহীদ মিলন, অধ্যাপক খুরশিদ আলম, জামাল পাশা শওকত প্রমুখ। এম.এ সালাম বলেন, ইতিহাসের চরম সত্যকে যারা অস্বীকার করে তারা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। এর আগে নেতৃবৃন্দ চৈতন্য গলিস্থ করবস্থানে মরহুমের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, ফাতেয়াপাঠ ও জেয়ারত করেন।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ : চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী চেতনায় মরহুম এম এ হান্নান অতুলনীয় অবদান রেখে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার সঠিক ব্যাখা দিয়ে তিনি সমগ্র চট্টগ্রামে ৬ দফার সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হন। ২৬ মার্চ তিনি সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র হতে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। জিয়া-এরশাদ গংরা এদেশের রক্তক্ষয়, শাসন, শোষণ ও ইতিহাস বিকৃতি করে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাসকে পদদলিত করেছে। কিন্তু ইতিহাসের বিচারে তারাই আজ ধিকৃত, বিকৃত ও খণ্ডিত হয়ে পড়েছে। তিনি গতকাল ১২ জুন সকাল ১০টায় নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ সংগঠন কার্যালয়ে এম এ হান্নানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, এম এ হান্নান শুধু চট্টগ্রামে নয় সারা দেশে স্বাধীনতাকামী মানুষের কাছে পরিচিত ছিলেন। সেই সময় এম এ হান্নান তাঁর কর্মকাণ্ডের গুণে জাতীয় নেতার আসন লাভ করতে সমর্থ হন। রাজনীতিতে নেতার অবদানকে সম্মান করলে শুদ্ধ রাজনীতি চর্চা হয় উল্লেখ করে তিনি অপরাজনীতিকে বিদায় জানানোর আহ্বান জানান। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, এড. জহির উদ্দিন, প্রদীপ কুমার দাশ, আবু জাফর, মোস্তাক আহমদ আঙ্গুর, সৈয়দ জামাল আহমদ, শৈবাল বড়ুয়া, আবদুল মোনাফ মহিন প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতা স্মৃতি পরিষদ : বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতা স্মৃতি পরিষদের আয়োজনে মরহুম এম এ হান্নানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে গতকাল বিকেলে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি প্রফেসর ড. জিনবোধি ভিক্ষুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথি ছিলেন। এতে মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সফর আলী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর মো. জাকির হোসেন, সিডিএ বোর্ড মেম্বার কে বি এম শাহজাহান, এম আর আজিম, শরফুদ্দিন চৌধুরী রাজু ও একে জাহেদ চৌধুরী আলোচনায় অংশ নেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহিম এম.এ. হান্নানের জীবনীর উপর একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আলোচকগণ বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ থেকে আজীবন তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে বিরল অবদান রেখে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। তারা বর্তমান প্রজন্মকে এম এ হান্নানের চরিত্র থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানান।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সাহিত্য চর্চা পরিষদ : জননেতা এমএ হান্নানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গতকাল বিকেল ৪ টায় চৈতন্য গলিস্থ কবরে জিয়ারত ও শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সাহিত্য চর্চা পরিষদ নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সভাপতি এম নুরুল হুদা চৌধুরী, অগ্রণী ব্যাংক লিঃ অফিসার্স সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক, ডা. এ কে এম ফজলুল হক সিদ্দিকী, ডাঃ চন্দন দত্ত, নিতু দত্ত, সালমা বেগম নূপুর, এস এম হাসান, রফিকুল ইসলাম রুবেল, মোরশেদ চৌধুরী বাহাদুর, টিপলু বড়ুয়া প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট : বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে মরহুম এম.এ হান্নানের ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের সহ সভাপতি কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল।
তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদে যদি এম এ হান্নানের ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণা পাঠের মুহূর্তটিকে স্বীকৃতি দেওয়া হত তাহলে ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ থাকত না এবং জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে চিহ্নিত করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অবকাশ থাকতো না। গতকাল বিকেলে নগরীর আগ্রাবাদে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ভবন কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু সাংষ্কৃতিক জোট এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সংগঠনের সহ সভাপতি সুমন দেবনাথের সভাপতিত্বে এ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এড. আহসান উল্লাহ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মফিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম। জালালউদ্দিন আহমেদ রানার সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আবদুল হালিম, হাসান মুরাদ সেলিম প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন রাশেদুল কবির বাবু, মো. জনি, ইমতিয়াজ আফফাছ, মো. জাকির হোসেন, মো. রিপন, মো. সায়েম, মো. অভি প্রমুখ। স্মরণসভার শুরুতে এম.এ হান্নানের আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।

x