মীরসরাইয়ে খুঁটি নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ ও বন বিভাগের দ্বন্দ্ব

রাত জেগে পাহারা গ্রামবাসীরা

মাহবুব পলাশ, মীরসরাই

শুক্রবার , ১২ অক্টোবর, ২০১৮ at ৮:১৮ পূর্বাহ্ণ
57

খুঁটি, ট্রান্সফরমার, তার, মিটার সবই স্থাপন করা হলেও শুধু সংযোগ পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। মীরসরাইয়ে পল্লী বিদ্যুৎ ও বন বিভাগের দ্বন্দ্বে বিদ্যুৎ বঞ্চিত উপজেলার করেরহাটের দেড়শ’ পরিবার। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি এবং সংযোগ প্রদানে টালবাহানার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর গ্রামের অধিবাসীরা জানান, সকল নিয়ম মেনে দক্ষিণ অলিনগর গ্রামের প্রায় ১৫০টির অধিক পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করে। যাবতীয় কাগজপত্র ও তথ্য প্রমাণাদি সংযুক্ত করা হয় এবং প্রতিটি মিটারের ৪৫০ টাকা এবং খাস জমির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত আরো ৫০০ টাকা হারে বর্ধিত ফি জমা দেওয়া হয়। এছাড়াও দ্রুত সংযোগ প্রদানের কথা বলে মিটার প্রতি আরো অতিরিক্ত নগদ ৭০০ টাকা হারে গ্রামবাসী থেকে আদায় করে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এরপর বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে খুঁটি (পিলার), ট্রান্সফরমার স্থাপন, তার টানানো, মিটার স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়। প্রতিটি ঘরে অনুমোদিত ইলেক্ট্রিশিয়ানের মাধ্যমে ওয়্যারিংয়ের কাজও সম্পন্ন করেন গ্রাহকরা। কিন্তু পরবর্তীতে পল্লী বিদ্যুত সমিতি-৩ এর জিএম (সীতাকুণ্ড অফিস), তৎকালীন মীরসরাই পল্লী বিদ্যুৎ-৩ এর ডিজিএম এমাজ উদ্দিন সরদার, ইঞ্জিনিয়ার রুপম বাবু সরেজমিন পরিদর্শনে এসে সংযোগ চালু করা যাবে না বলে জানান। কারণ হিসেবে তারা জানান, বন বিভাগ এই জমি ‘রিজার্ভ ফরেস্ট’ দাবি করে আর.ই.বি ঢাকা অফিসে একটি অভিযোগ করেছে। তারা আমাদের লিখিত দিতে হবে। প্রকৃতপক্ষে আবেদনকৃত মিটারগুলো পূর্ব হিঙ্গুলী মৌজার বিএস-৩১১৩ ও ৩৯৪৬ এর অভ্যন্তরে, যা রিজার্ভ ফরেস্টের আওতার বাইরে। সংরক্ষিত বনায়ন থেকে উভয় দাগের দূরত্ব এক কিলোমিটারেরও বেশি। ভুক্তভোগীরা বন বিভাগের করেরহাট রেঞ্জ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলে সংযোগ চালু করলে তাদের আপত্তি নেই বলে জানান। ভুক্তভোগী গ্রাহক নুর মোহাম্মদ চৌধুরী, হাবিবুর রহমান, রবিউল হক বাহার, ফয়েজ আহম্মদ, আব্দুল কাদের দাবি করেন, উল্লিখিত দুই কর্তৃপক্ষকেই বাদ দিয়ে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট তৃতীয় কোন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করা সম্ভব হলে দ্রুততার সাথে এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে। তারা বলেন, প্রয়োজনীয় সব উপকরণ স্থাপনের পরও সংযোগ চালু না করায় স্থাপিত ট্রান্সফরমার, তার, মিটার, খুঁটি প্রভৃতি চুরি হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা থাকায় বর্তমানে গ্রামবাসীকে পালা করে রাত জেগে এসব পাহারা দিতে হচ্ছে।
এই বিষয়ে বনবিভাগের করেরহাটের এসিএফ এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, বনবিভাগ বাধা দিলে খুঁটি স্থাপনের সময় বাধা দিত। শুধু শুধু আমরা পল্লী বিদ্যুতকে লিখিত দিতে যাবো কেন? চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ-৩ এর সভাপতি আলী আহসান পল্লী বিদ্যুৎ ও বন বিভাগের রেশারেশির কারণে মীরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর গ্রামের দেড়শ’ পরিবার বিদ্যুৎ পায়নি বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে বঞ্চিত দেড়শ’ পরিবার যেন দ্রুত বিদ্যুৎ পায় সে বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেব।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার মো. ছাদেক জামান এই বিষয়ে জানান, ওই এলাকার সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ আমাদের জানিয়েছে যে, বনবিভাগের ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। তাই বন বিভাগের অনুমতি ব্যতীত যেন ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া না হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও বন মন্ত্রণালয়ের সাথে কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। এই সমস্যাটি শুধু এই এলাকার নয়, এ ধরনের সমস্যা আরো কয়েকটি এলাকায় রয়েছে। সব মিলিয়ে উক্ত আইনি সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি দ্রুত এর সমাধান হয়ে যাবে।
মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল কবির বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ ও বনবিভাগ উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করছি, শীঘ্রই সংকটের অবসান হবে।

x