মীরসরাইয়ে অর্থনৈতিক জোন সুরক্ষায় ২০ লক্ষ বৃক্ষ রোপণ

মাহবুব পলাশ, মীরসরাই

শনিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ
14

মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চল এখন দেশের সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক জোন। এখানে চলছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিদেশি অনেক উদ্যোক্তাদের ব্যাপক বিনিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান, চলছে বেপজা ও বেজার নানান উন্নয়ন কার্যক্রম। সরকারের উদ্যোগে ইতিমধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় বেড়িবাঁধ সমপ্রসারণ, অর্থনৈতিক জোনের অবকাঠামো বিনির্মাণ, সড়ক উন্নয়নসহ নানান কার্যক্রম দৃশ্যমান।

গত ২১ জুলাই মীরসরাই এর উপকূলীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দের অধীনে বেজা কর্তৃক ২০ লক্ষ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়।

উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ, অর্থনৈতিক জোন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীসহ চট্টগ্রাম ও ফেনী জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এই বৃক্ষ রোপণ তো শুধুমাত্র অর্থনৈতিক জোন এলাকার পরিবেশ সমৃদ্ধকরণ ও প্রাকৃতিক সমৃদ্ধ সবুজায়ন। কিন্তু উপকূলকে সবুজ বেষ্টনী দ্বারা আবদ্ধকরণের উদ্যোগ বাঞ্চনীয় ছিল বলে সচেতন মহল মনে করেন। অথচ এই অর্থনৈতিক জোন অঞ্চল যেখানে এখন দেশি বিদেশি সহস্র লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলমান সেখানে সমূদ্রের প্রাকৃতিক যে কোন বৈরিতার জন্য সবার আগেই আমলে আনা উচিত। নচেৎ বিশালাকারের ট্রাজেডির অবতারণায় দায় থেকে আমরা ও নিস্তার পাবো না হয়তো তখন।

বিজ্ঞ পর্যবেক্ষক হাইতকান্দি ইউনিয়নের রণজিত ধর জানান, ৬২ সালে তিনি তখন ছোট তবু ও ঝড়োতাণ্ডবে এই উপকূলে শত শত মানুষের মৃতদেহ এর কথা মনে পড়লে এখনো তাঁর শরীর শিউরে উঠে। অথচ ১৯৭৯ সালে এখানে মীরসরাইয়ের ইছাখালী হতে উপকূলের অন্তত শত বর্গ কিলোমিটার জুড়ে সীতাকুণ্ডের কুমিরা উপকূল পর্যন্ত সৃজন করা হয়েছিল দেশের বৃহত্তম এই তৃতীয় সুন্দরবন। সমতল হতে বেড়িবাঁধ হয়ে সর্পিল আঁকা বাঁকা নানান খাল ছরা এই বন পেরিয়ে পৌঁছেছে বঙ্গোপসাগরে। নৌকা দিয়ে এইসব এলাকা ঘুরে বেড়াতে নান্দনিক নানান দৃশ্য খুলনার সুন্দরবনকেও হার মানায়। এই বনে বৃক্ষের পাশাপাশি হরিণ, বানর, অজগর, পাখপাখালি সহ হরেক রকমের জীববৈচিত্র্য এখনো দৃশ্যমান এখানে। এখনো হাজার হাজার হরিণের নিরাপদ অভয়ারণ্য আছে এখানে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি এই বন সৃজন করা হয়েছে দুই উপজেলাকে সামুদ্রিক জলোচ্ছাস কিংবা দুর্যোগ থেকে বাঁচাতে। যা আজ হুমকির মুখে।

ইতিমধ্যে ইছাখালী ও মঘাদিয়া উপকূলীয় জোনে কয়েক হাজার হেক্টর উপকূলীয় এলাকাসহ পতিত জমিতে গড়ে তোলা প্রকল্পাধীন অর্থনৈতিক জোনে চলছে নানান মেগা উন্নয়ন কার্যক্রম। সরকারের এমন সব উন্নয়নমুখী উদ্যোগের পাশাপাশি সবুজ বেষ্টনীর আয়তন ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

x