মিয়া হাজী দৌলতের মাজার এলাকার সৌন্দর্য মুগ্ধ করে সবাইকে

এম নুরুল ইসলাম : আনোয়ারা

সোমবার , ৮ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
60

পীর আউলিয়ার জনপদ বলা হয়ে থাকে চট্টগ্রামকে। যুগে যুগে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে এই চট্টগ্রামে আসেন বহু পীর, আউলিয়া, সাধক পুরুষ। এর মধ্যে আনোয়ারায় শাহ মোহছেন আউলিয়া, কানু শাহ, চারপীর আউলিয়া, মিয়া হাজী দৌলত সমৃদ্ধ করেছেন এই জনপদ।
আধ্যাত্মিক সাধক শাহ ছুফি হাজি দৌলত (র.) এর মাজার সাঙ্গু নদের তীরে আনোয়ারার হাইলধর গ্রামে। এই মহান সুফি সাধকের আপন ভাই হযরত মাওলানা নুরুদ্দিন (র.), তিনিও কামিল পীর ছিলেন।
মুসলমান কর্তৃক ভারত উপমহাদেশ বিজয়ের পর ৭ জন অলি আরব দেশ থেকে ভারতবর্ষে আসেন। জনশ্রুতি আছে, হযরত মাওলানা নুরুদ্দিন (র.), হযরত মাওলানা হাবিবুল্লাহ (র.) ও মিয়া হাজী দৌলত (র.) বাঁশখালী উপজেলার বরুমছড়া গ্রামে বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন।
এলাকায় প্রচার রয়েছে, হযরত মিয়া হাজী দৌলত আধ্যাত্মিক কর্মকান্ড নিয়ে বেশি মশগুল থাকতেন। একদিন বড় ভাই হযরত নুরুদ্দিনের সঙ্গে অভিমান করে মিয়া হাজী দৌলত ঘর ছেড়ে সাঙ্গু নদের পানিতে ভেসে ভেসে হাইলধর গ্রামে চলে আসেন। তীরে দাঁড়িয়ে নদীতে সাতটি ঢিল মারেন। এর কিছু দিনের মধ্যে নদী বক্ষে বিশাল চর জেগে উঠে। যা ‘ফকিরের চর’ নামে পরিচিতি পায়। মৃত্যুর পর এখানে তাঁর মাজার প্রতিষ্ঠিত হয়।
মাজারকে কেন্দ্র করে এখানে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রসিদ্ধ ফকির হাট। হাটে অনেকে নিজের ক্ষেতের সবজি, ফসল নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন হাজারো ভক্ত এখানে এসে মাজার জেয়ারত করেন। নিজেদের মনোবাসনা জানিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
বাঁশখালীর চাঁনপুর গ্রামের হামিদ ফকির রচিত ‘বারমাস’ নামের পুঁথি ও ফারসি ভাষায় রচিত ‘দেওয়ানে হামিদী’ গ্রন্থেও মিয়া হাজি দৌলতের বংশ পরিচিতি উল্লেখ আছে। তাতে দেখা যায়, তিনি সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী হযরত আবু হোরায়রা (রা.) এর বংশধর।
একদিকে মিয়া হাজী দৌলত (র.) মাজার ঘিরে ধর্ম বিশ্বাস অন্যদিকে মাজারের পাশে সাঙ্গু নদের তীরে দৃষ্টিনন্দন বেড়িবাঁধ। সেই সঙ্গে ফকিরহাটের পুরোনো ঐতিহ্য। সবমিলিয়ে আনোয়ারা হাইলধরের মিয়া হাজী দৌলতের মাজার ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা।
সরকারি উদ্যোগে সদ্য সংস্কার হয়েছে সাঙ্গু নদের তীর। আনোয়ারা-কর্ণফুলীসহ উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের মেগা প্রকল্পের আওতায় মাজার লাগোয়া হাইলধর গ্রামের সাঙ্গু নদের তীরে বসানো হয়েছে কংক্রিট ব্লক। চোখ মেলে তাকালে মনে হবে নদীর তীর যেন মিশে গেছে দিগন্ত রেখায়। এখান থেকে চোখের সামনে ধরা পড়বে আনোয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার মিলনস্থল। একটি নদী খুব কাছ থেকে সংযোগ ঘটিয়েছে চার উপজেলার। চাইলেই নৌকা নিয়ে নদীতে ভ্রমণ করা যায়।
মিয়া হাজী দৌলত মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল হান্নান বলেন, মাজার ঘিরে এলাকার মানুষের মধ্যে যে সমপ্রীতি দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে সেটাই এখানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এখানে সব ধর্ম বর্ণের লোকেরা আসেন জেয়ারতে। সেই সঙ্গে নদী তীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে।
পটিয়া থেকে হাজী দৌলত মাজার জেয়ারত করতে আসেন গৃহবধূ অঞ্জলি দে। সাফ সুতরো করে মাজারের দেয়ালের কাছে দাঁড়িয়ে জ্বালালেন আগরবাতি। তিনি বলেন, “পরম্পরায় আমাদের বাড়ির বধূরা এই কাজ করেন পীরের অলৌকিক শক্তির উপর আস্থা রেখে।”

x