মিয়ানমারকে আরো দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে বান কি মুন

উখিয়া প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ১১ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
630

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে মিয়ানমারকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তাদের অনেক বেশি কিছু করার আছে। যাতে নির্যাতিতরা নির্ভয়ে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে পারেন সে ব্যবস্থা মিয়ানমার সরকারকেই করতে হবে। গতকাল বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির অবস্থা ও তাদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় পরিবেশের ওপর এর কী প্রভাব পড়ছে তা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট ড. হিলদা সি হেইন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল। এর আগে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বিকেল ৫টার দিকে তাদের বহনকারী ২টি বিশেষ হেলিকপ্টার উখিয়ার কুতুপালং মেগা এক্সটেনশন-২০ ক্যাম্পের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে অবতরণ করে।
এছাড়া কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ। নির্যাতনের মুখে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়ার আশ্বাস মিয়ানমার দিলেও তাতে কোনো অগ্রগতি নেই। রাখাইনে নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাসের নিশ্চয়তা চায় রোহিঙ্গারা। কিন্তু মিয়ানমার সেই পরিবেশ তৈরিতে গা করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এজন্য মিয়ানমারকে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
সাংবাদিকদের বান কি মুন বলেন, মিয়ানমার সরকারকে আন্তরিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে রোহিঙ্গারা স্বাধীন মনে তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী হয়। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের মানুষের প্রশংসা করেন তিনি।
বান কি-মুন বলেন, আমি যখন জাতিসংঘে কাজ করেছি, তখন আমি লক্ষ লক্ষ শরণার্থীকে সাহায্য করেছি। এরমধ্যে সিরিয়ার শরণার্থীরাও ছিল। কিন্তু আজকে যা দেখলাম এখানে, এটা সত্যিই হৃদয়বিদারক। রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বিশেষ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (এফএও) এবং শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
জাতিসংঘ মহাসচিব থাকার সময় ২০০৮ সালে প্রথম বাংলাদেশ সফরে আসেন বান কি-মুন। ২০১১ সালে দ্বিতীয়বার বাংলাদেশ সফর করেন তিনি। দুই দফায় জাতিসংঘ মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের পর গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি; যে সংস্থাটি মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কাজ করে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়াটা বাংলাদেশের জন্য ‘বিরাট বোঝা’ উল্লেখ করে বান কি-মুন বলেন, দীর্ঘ সময়ের জন্য বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে বিনিয়োগ করেছে, তার প্রশংসা করেন মুন।

x