মিয়ানমারকেই রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে

কক্সবাজারে বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

কক্সবাজার প্রতিনিধি

শুক্রবার , ৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৩:৫৪ পূর্বাহ্ণ
18

আটকে থাকা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কক্সবাজারে শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। গতকাল সকালে তিনি এ বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে দুপুরে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করেন রাষ্ট্রদূত। এর আগে গত মঙ্গলবার ও বুধবার তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। রাষ্ট্রদূতের সাথে সকালে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারস্থ শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং শরণার্থী প্রত্যাবাসনে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান আবুল কালাম, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন ও পুলিশ সুপার মাসুদ হোসাইন।
বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিং এ রবার্ট মিলার বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকেই নিজ দেশে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘কেবল রোহিঙ্গাদের জন্য নয়; বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণেও কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।’ এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশের জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মিলার বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠির যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে দিতে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র।’ মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘কেবল রোহিঙ্গাদের জন্য নয়; কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের জন্যও যুক্তরাষ্ট্র সরকার সহায়তা অব্যাহত রাখবে।’ ৩ দিনের সফরের শেষ দিনে গতকাল সকাল ১০টায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে যান। সেখানে আরআরআরসি কর্মকর্তাদের সাথে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। এরপর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান রাষ্ট্রদূত। সেখানে জেলা প্রশাসকসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। এরপর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে
গিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথেও বৈঠক করেন মিলার।
এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে তিনদিনের সফরে কক্সবাজার আসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ওই দিন বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ির ঘুমধুম-তমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখার কোনার পাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বালুখালী ট্রানজিট ক্যাম্প, কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তিনি। পরদিন টেকনাফের লেদা, নয়াপাড়া ও শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজারের পাওয়ার হাউস এলাকায় বেসরকারি সংস্থা ইপসার শেল্টার হোম পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রদূত। তিনদিনের সফর শেষে গতকাল দুপুরে কক্সবাজার ত্যাগ করেন তিনি।

x