মিতুর ডায়েরি

নুর আঙ্গেস

শুক্রবার , ৩ মে, ২০১৯ at ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ
78

বিয়ের একুশ দিনের ভিতর একটি রাতের ও কাছে আসেনি রিফাত। হাসি মুখেই মিতু তার ধর্য্য পরীক্ষায় এখনো আছে। সদ্য বিবাহিত নতুন দিন যে ভাবে যায়। তার এতোটুকু ব্যাতিক্রম হতে দেয়নি। সবাই জানে বেশ আছে রিফাত মিতু।
তোমার চা। অফিসের জন্য বিছানাতেই রাখা আছে শার্টপেন্ট। মানিব্যাগ রুমাল টেবিলেই আছে। ওয়াশ রুম হয়ে টেবিলে এসো।
মিতুর চলে যাওয়ার পথের দিকে এখনো তাকিয়ে রিফাত। ভোরের গোসলের চুল এখনো ভাল করে শুকায়নি। তারই কয়েক ফোঁটা পানি বিন্দু বিন্দু হয়ে পড়ছে শাড়িতে। রিফাতের তৃষ্ণার্থ চোখে মায়া জমে। শুধু জমেই যায়। কোন ভাবে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ! না তা হবার নয়। যুদ্ধটা নিজের সাথে নিজের। বিজয়ের জন্য যদি অনন্তকাল প্রতিক্ষায় থাকতে হয়। থাকতেই হবে। তার অধিকার তাকে দিতেই হবে।
সকালের নাস্তার টেবিলে সকলেই একসাথে। মাখন লাগানো ব্রেড শাশুড়ির দিকে এগিয়ে দেয় মিতু। সাথে সব্জি আর ডিম।
ভাইয়া ভাবীকে নিয়ে কোথাও যাসনা কেনরে। পানিশূন্য গ্লাস টেবিলে নামিয়ে রেখে আদিবার কথা বলা। আমিও ভাবীর সাথে গল্প করার সময় হয় না।
আমার ও তাই মনে হয় রিফাত। সোনালি রং এর চাটা নিজের দিকে এগিয়ে নিয়ে সালমা বেগম বলেন। ছুটি নিয়ে কয়েক দিন ঘুরে আয় না কোথাও।
মৌমাছির হুল ফোঁটে রিফাতের বুকে। সর্বনাশ মা এখনো জানে ওরা বেশ আছে। যদিও মিতুর অভিনয়ে ধরা পড়ার সম্ভাবনা খুব কম। রিফাতের চোখ মিতুর চোখে। ঐ চোখ জোড়ায় কি লুকিয়ে আছে কোন প্রশ্ন? ঘন পাঁপড়ির সুন্দর ঐ চোখ কি জানতে চায়। একটু কাছে পেতে চায় কি মন? একটু আদর।
এই দুপুরের সময়টুকু একলা মিতুর। নিজের মতো করে থাকা। আর তাই নিজের না বলা কথাগুলো বন্ধী করে শব্দের মাঝে নীল ডাইরিতে। বেশ লাগে নিজের সাথে নিজের কথা বলতে। আজও যখন রিফাত চলে গেল উত্তর শূন্যের মাঝে। সকলের সামনে নিজেকে কেমন অপ্রস্তুত মনে হলো। ভাবনায় পেয়ে বসলে কষ্ট পাবে মন। একটু প্রস্তুতি না থাকলে কি লিখা যায়। মুঠোফোনে বেজেই চলে নিজের পছন্দের গান।
যাবার বেলায় কিছু বলে গেলে না—
নীরবে শুধু রইলে চেয়ে—
কিছু কি বলার ছিল না—-।
এক মনে লিখে চলে মিতু। এ কেমন খেলায় মেতে আছি আমরা। পাশাপাশি আছি একই বিছানায়। হাজার তারা আকাশে প্রদীপ হয়ে সঙ্গী হয় চাঁদের। জোছনা তার আলো ছড়ায় সারা পৃথিবীময়। রজনীগন্ধার সৌরভ সেতো আছেই। হাত বাড়ালেই যাকে ছোঁয়া যায়। কাছে পাওয়া হয়। তবুও মনে হয়। এতো যোজন যোজন দূর। এই পথ পেরিয়ে আসতে চলে যাবে কতো বসন্ত। ক্ষতি কি। মিতু না হয় সেই প্রথম রাতের মতো বিসর্জন দিয়ে যাবে, আরো কিছু সময়, মুহূর্ত, ঘণ্টা। চাঁদের আলোয় নাইবা সিক্ত হলো দুটি মন। তবুও তুমি আছ একান্ত আমার হয়ে হৃদয়ের কাছাকাছি। দেখতো রিফাত কি হাবিজাবি লিখে যাচ্ছি। এবার তোমাতেই ফিরে আসি। সকালের নাস্তা তোমার ভালো ভাবে খাওয়া হয়নি। চা সেতো পরেই থাকলো। আমি জানি আমার এতো কেনর জবাব তোমার জানা নেই। শরীরের প্রয়োজন মনের চাইতেও বেশি। প্লিজ দুপুরের খাবারটা ঠিক ভাবে খেয়ো। না চাইলেও অস্থিরতা নিজেকে ব্যাকুল করে তুলে। মন জানতে চায় কেন এতো অবহেলা! না– সেতো তুমি করো না। অনীহা যে আছে সেটা খুব বুঝতে পারি। ভয় পেও না। নির্জনতাকে আমি সবসময় ঘৃণা করি। যা আমার সে আমার হবেই। আমি অপেক্ষায় রইবো। রিফাত আমার এই ছোট্ট তরী তোমার হৃদের ঘাটে কোনদিন ভিড়বে কি? তুমি তোমার প্রথম স্পর্শ আমার হাতে দিয়ে বলবে। এসো আমরা দুজন হারিয়ে যাই গভীর অরণ্যে। ছুটির দিনের রান্নাটা একটু আলাদা হওয়া চাই। তাই সেই ভাবেই ব্যস্ত মিতু ইলিশ পোলাও নিয়ে। বিয়ের পর এই প্রথম পোলাও রান্না। ফুলকপি দিয়ে আলুর ডালনা। ইলিশ ভাজা, সব্জী এখনো বাকি। রিফাত ঘরে পেপারে ডুবে আছে। ফুটন্ত পানিতে চা পাতা দিয়ে কাপে দুধ চিনি নেয় মিতু। এই সময় শাশুড়ির এককাপ চা না হলে চলে না। কাজের মেয়েকে ফরমাস দিয়ে এককাপ নয়। দুকাপ চা নিয়ে যায় মিতু। শাশুড়ির ঘর ঘুরে এসে অন্য কাপটা বাড়িয়ে দেয় রিফাতের দিকে।
এই সময় চা! আগ্রহ নিয়ে হাত বাড়ায় রিফাত। অসময়ে চা তুমি কি অপছন্দ করো। এই টাইমে অফিসে নিশ্চয় খাওয়া হয়। হ্যাঁ মন চাইছিল। কিচেনের কাছে গিয়েও ঘুরে এলাম। তুমি ব্যস্ত ছিলে তাই বলা হয়নি। তাই বুঝি। এই সময় এমনিতেই মায়ের জন্য চা হয়। বললেই পারতে। কথার ফাঁকে আলমারি থেকে বের করে পায়জামা পাঞ্জাবী। টাওয়ালও থাকে সাথে। তোমার কাপড় রেখে গেলাম। চা শূন্য কাপটা নিয়ে দরজার দিকে এগোতেই রিফাতের কন্ঠ।
একটু শুনবে। কেন নয় বলো।
আমার এক বন্ধুকে দুপুরে খেতে বলেছি। তোমার কি খুব অসুবিধে হবে?
না- তা কেন। তবে আগে বললে হয়তো ব্যবস্থাটা অন্য রকম হতো। ভেবো না। আমি ঠিক সামলে নেব।
এই প্রথম রিফাত কাউকে খেতে বলেছে। মেনুটা আরো একটু ভারী হওয়া চাই। ফ্রিজ খোলে বের করে বড় চিংড়ী। চিকেন ও বাদ থাকে না। শেষ পাতে পুডিং হলেও চলবে। দ্রুত হাতে রান্না শেষ করে মিতু। অতিথি আসার আগেই প্রস্তুতি শেষ। গোসল সেরে নিভাঁজ শাড়ি পরনে। খোলা চুল পিঠময় ছড়ানো। কানে ছোট একজোড়া দুল। হাতে সোনার চুড়ি। কাঁচা হলুদ রঙের শাড়িটার সাথে যেন গায়ের রঙ মিশে আছে। বেশ লাগছে দেখতে। রিফাতের মুগ্ধ চোখ দুএকবার কি খেয়াল করেছে মিতুকে। হয়তো বা।
ডাইনিং টেবিল রকমারি খাবারে ভরপুর। রিফাতের বন্ধু আহিলের পাতে এটা সেটা তুলে দেয় মিতু। রিফাতও বাদ যায়না।
ভাবী আপনার রান্নার প্রশংসা না করলেই নয়। খুব ভালো আপনার রান্নার হাত। রিফাত চুপ কেন কথাটা কি মিথ্যে বললাম।
না তা কেন। ওতো সবসময় ভাল রান্না করে।
কই কখনো বলোনি তো। আহিলের দিকে পুডিং এর প্লেটটা এগিয়ে দিয়ে মিতুর কথা বলা। নীরবে খেয়েই তো ওঠে যাও।
তুমিও কি কখনো জানতে চেয়েছো? এটা দিব ওটা দিব বলে পরিবেশনে ব্যস্ত। কই বলোনি তো ছোট মাছটা কেমন হয়েছে। মাংসে ঝাল কি একটু বেশি হয়ে গেল। টুকটাক কথা বলা আর আনন্দের মাঝেই খাওয়ার পর্ব শেষ। আহিল চলে যাওয়ার পরও রিফাতের কথার রেশ শিহরণ তুলে মনে।
বেশ কিছুদিন পর মিতু নিজের ডাইরিতে শব্দ বন্দী করে। চলে যাওয়া দিনগুলো আর ফিরে পাব না জানি। তবুও কোথায় যেন একটা কষ্ট থাকে। আমার কল্পনার দিনগুলো কার জন্য রঙিন ছিল। স্বপ্নগুলো কি সব হারানোতেই থাকবে। একটা মন বোঝতে তোমার আর কতো সময়ের প্রয়োজন। আমার নারীত্ব প্রকাশে আমিও যে মা হতে চাই। এই অনুভূতি একান্ত চাওয়া শুধুই আমার। খুব ভালো লেগেছিল সেদিন। আমরা তিনজন যখন ডাইনিং এ কথার ঝড় তুলেছিলাম। তোমার বন্ধুটিও কম নয়। কথার প্যাঁচে কথা বের করে কেমন। তুমিও তো কম রোমান্টিক কথা বলো না। আমরা দুজন হলে তোমার কথা কোথায় হারায়। অসময়ে ডোর বেলের সংকেতে কলম বন্ধ হয় মিতুর। খোলা দরজায় দাঁড়িয়ে রিফাত।
বুকিংটা আগে থাকাতে রুম পেতে কোন অসুবিধা হয় না ওদের। মিতু খানিকটা অবাক হলেও রিফাত স্বাভাবিক। দুম করে কোন কথা ছাড়াই প্লেনের দুটো টিকিট ধরিয়ে দেয় মিতুকে। কাল আমরা কঙবাজার যাচ্ছি। তোমার মানা নেই তো? যে মিতুকে রিফাত এখনো ছোঁয়েও দেখেনি। কাছে আসেনি। কথার মাঝেই শুধু ভালোলাগা। ভাবনার। সাগরে মিতু যেন নিজের অস্তিত্বই ভুলে যায়।
মিতু চুপ করে আছে। যেতে আপত্তি আছে। রিফাত শার্ট খোলে জায়গা মতো রাখে।
তুমি হঠাৎ আমাকে নিয়ে ভাবছো। আমাকে সময় দিচ্ছ। যেন বিশ্বাস করতেও ভয় হয়। স্বপ্ন নয় তো। বেশ তো আছি রিফাত তুমি আমি।
মিতু এমন কিছু কথা থাকে। জায়গা বিশেষে না বললে। পরিবেশ অনুকূলে না থাকলে হয়তো নিজেকে প্রকাশ করা যায় না। কি ভাবনায় ফেললাম তো। একটু কৌতূহল রহস্য না থাকলে মনে হয় না দাম্পত্যটা ঠিক ভাবে চলে না। রোজকার রুটিন যেন একঘেঁয়ে জীবন।
আলমারি থেকে ব্যাগ নিয়ে টিকিট রাখে মিতু। দাম্পত্য শব্দটা কি কোন অর্থ বহন করে তোমার কাছে রিফাত। মিতুর চোখ রিফাতের দিকে।
জবাবটা জমা থাক মিতু। হয়তো তুমিই একদিন এর উত্তর খুঁজে নেবে।
দরজায় নক হওয়াতে দুজনেই ফিরে চায়। বেয়ারা চায়ের ট্রে হাতে দাঁড়িয়ে। ওর্ডারটা রিফাতই দিয়েছিল। ব্যাগ খোলে প্রয়োজনীয় জিনিষ বের করে মিতু। পেস্ট, ব্রাশ, সেভিং সেট। রিফাতের কাপড়। নিজের গুলোও বাদ থাকে না। ওয়াশ রুম ঘুরে এসে রিফাতকে তাড়া দেয়।
সাবান, টাওয়েল রাখা আছে। হাত মুখ ধুয়ে চেঞ্জ করে এসো। চা খেতে খেতেই। কথা চলে টুকটাক।
দুপুরের খাবার কি রুমে দিতে বলবো? আমার মনে হয় রুমেই দিতে বলি। তুমি কি বলো।
বেশ হয়। তাই বলো।
দুপুরের বিশ্রামটাও ঠিক ভাবে হয় না মিতুর। হাজারো প্রশ্ন নিজেকে বিদ্ধ করে। কি বলতে চায় রিফাত। একটু একটু করে যে ভালোবাসা জমে আছে ওর জন্যে। অনুভবের মাঝে যে বাঁধনে জড়িয়েছ রিফাতকে। এ বাঁধন টিকবে তো? নাকি শুধুই মরীচিকা। তবে কি খেলাঘর তার খেলা ভাঙলো বলে। বুকের মাঝে যেন জমাট বেঁধে আছে পাথর। তন্দ্রার মতো ভাবটাও চলে গেল মিতুর। রিফাত গ্লাসে পানি ডালছে। মিতু চোখ মেলে চাইতেই বলে।
চলো মিতু ঘুরে আসি। দেরী করলে সমুদ্রের আসল সুন্দরটাই আমরা মিস করবো।
রিফাতের সাথে এই প্রথম কোথাও যাচ্ছে। মনের মাঝে কি কালো মেঘ জমে আছে। অথবা হারানোর ভয়। কি কথা কইবে রিফাত একান্তে। সমুদ্র সাক্ষী রেখে।
নীল শাড়িতেই আবদ্ধ মিতু। নিজেকে সাজাতেও মন চাইছে না। চোখ জোড়ায় কাজলের রেখা একে হালকা লিপিস্টিক ছোঁয়ায় ঠোঁটে। খোলা চুল আর কবরী বাঁধে না। রিফাত তার হালকা আকাশী রঙ এর শার্টে বোতাম লাগাতে লাগাতে আড় চোখে চায়। মিতু কি বিষণ্ন। উচ্ছ্বাস কি হারিয়ে ফেললো।
প্রচণ্ড ঢেউ এসে তীরে ভাঙে। মিতু পা ডুবায় সমুদ্রে। রিফাত হাটে পাশাপাশি। মিতুর খোলা চুল হাওয়ায় উড়ে। হাত ধরে প্রেমিক প্রেমিকার দল বসে আছে পাথরে। বিষণ্নতা মিলিয়ে গেছে কখন। ভালোলাগায় যেন জুড়ে আছে মন। রিফাত তার সংগী হয়ে থাকবে তো। নাকি ক্ষণিকের এই ভালোলাগা সমুদ্রের ঢেউর মতো আছড়ে পড়বে।
বসে আছে ওরা দুজন পাশাপাশি নয়। কাছাকাছি। অস্ত যাওয়া সূর্য্য তার লাল আভা ছড়িয়েছে সমুদ্রে। খানিক পরেই বিদায় নিবে। আগামীর অপেক্ষায়।
মিতু। রিফাতের আবেগ ভরা কন্ঠে ফিরে চায় মিতু। চোখ রাখে চোখে। রিফাতের হাতের মুঠোয় মিতুর হাত। একসাথে থেকেও যেন আমরা অনেক দূরের। আজ এতোদিন পর এই প্রথম আমি তোমার হাত আমার হাতে নিলাম। তোমার। ভালো লাগছে মিতু।
রিফাতের চোখ জোড়ায় হারায় মিতু। কি আবেগ মিশে আছে ঐ চোখে। এই তার। সংগী। সব ভালোলাগা কি আমার একার? তোমার অনুভব কি থাকতে নেই?
মিতুর কথায় রিফাত মৃদু হাসে। কাছে টানে মিতুকে। তোমাকে কিছু কথা বলার আছে আমার।
মিতুর ভিতরটায় একটা শূন্যতা অনুভব হয়। রিফাতের মন আর কোথাও বন্ধী নয়তো। তার ভালোবাসা কি অন্যের হয়ে যাবে। তোমার সব কথা শুনবো বলেই তো তোমার পাশে আছি রিফাত। এবার তুমি বলো।
মিতু সম্পর্কের বন্ধনে একটা অধিকার থাকে। সেই অধিকার আমি তোমাকে দিতে পারিনি। তুমিও কোনদিন জানতে চাওনি। কেন মিতু। তোমার কি কখনো মনে হয়নি। আমাদের কোথাও একটা কিন্তু আছে।
আজ এসব কথা কেন। তুমি কি আমাকে কিছু বলতে চাও?
তোমাকে হারানোর ভয় আমাকে সবসময় আচ্ছন্ন করে রাখে। তোমাকে ভালোবাসি মিতু। খুব খুব ভালোবাসি। অক্ষমতা আমাকে কখনো তোমার কাছে আসতে দেয়নি। বারবার হেরেছি নিজেই নিজের কাছে। তোমার ঘুমন্ত মুখের দিকে চেয়ে কতো রাত জেগেছি। হাত বাড়াতে গিয়েও প্রচণ্ড ইচ্ছেটাকে দমন করে নিয়েছি নিজের ভিতর। তোমাকে ছোঁব। তোমার ইচ্ছেকে জাগিয়ে তুলবো। যদি হেরে যাই। দাম্পত্য শব্দের ভিতর দৈহিক মিলনকে অদৃশ্য করে স্বার্থপরের মতো ভেবেছি এই ভালো। নাই বা হলো আমাদের দৈহিক মিলন। তবু তুমি তো আছ আমার একান্ত কাছাকাছি। মিতু তোমাকে আমি হারাতে চাই না। কোনভাবেই না। এরপরও কি আগামী দিনের পথ চলার সঙ্গী হবে কি মিতু।
কিছুটা সময় নীরবতার পর আরও কাছে আসে মিতু। রিফাতের কাঁধে মাথা রেখে আরো ঘনিষ্ঠ হয়। এবার রিফাতের হাত মিতুর হাতে। আলতো ঠোঁট ছোঁয়ায় সে হাতে। ইচ্ছে জাগে সেই হাতে তার প্রথম চিহ্ন আঁকতে। ভরসা দিতে চায় মন। তোমায় আমি পেয়েছি প্রিয়। শূন্যতার খাতায় না হয় বাকিটুকু থাকলো। চোখ রাখে মিতু রিফাতের চোখে। শুধু এইটুকু। এইটুকুর জন্যে তুমি এতো কষ্ট পেয়েছ। স্বার্থ ছাড়া কি ভালোবাসা যায় না রিফাত।
যাক মিতু। তবে একটা ক্ষীণ আশা কি জান। আমার ডাক্তার বন্ধু। যার সাথে তুমি এতো কথা বললে। তার কথাতেই তোমাকে এখানে নিয়ে আসা। সময়ের ব্যবধানে আমিও একদিন বাবা হতে পারবো। সেই দিনের আশায় আমি তোমাকে ধরে রাখতে পারবো তো মিতু। তুমি আমার হয়ে আমার কাছে থাকবে তো মিতু?
মৃদু হাসিতেই জবাব থাকে মিতুর। সে তুমি বোঝে নিও। এসো কিছুটা সময় আমরা হাত ধরে হাঁটি।
প্রচণ্ড হাওয়ায় উড়ে মিতুর খোলা চুল। শাড়ির নীল আঁচল। হাওয়ায় ভেসে যাক আরো কিছু। হাত ধরে আনমনে হাটে রিফাত মিতু। রিফাতের মন বলে এ বাঁধন কোনদিন খোলার নয়।

x