মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আর নেই

আজাদী ডেস্ক

বৃহস্পতিবার , ১১ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
190

লেখক, সাংবাদিক, সমালোচক ও খ্যাতনামা টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশনের নির্বাহী পরিচালক সাংবাদিক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহে…রাজেউন)। ঢাকার আসগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তার ছেলে অপূর্ব জাহাঙ্গীর। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের ছোট ভাই মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে মাইলো ফাইব্রোসিসে (রক্তের ক্যানসার) ভুগছিলেন। গত ৮ জুলাই বেলার ১১টার দিকে তাকে ওই হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। খবর বিডিনিউজ, বাংলানিউজ ও বিবিসির।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র জাহাঙ্গীর সত্তরের দশকে পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে যুক্ত হন টেলিভিশনে। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে বিটিভির লাইভ আলোচনা অনুষ্ঠান অভিমতের সঞ্চালক ছিলেন তিনি। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তার বিচরণ ছিল। ঢাকার দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ ও গণমাধ্যম বিষয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করছিলেন মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা বিষেয় ২৫টি বই লিখেছেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি ছিলেন নাচের সংগঠন নৃত্যাঞ্চল ড্যান্স কোম্পানির সমন্বয়ক, আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইনস্টিটিউট (আইটিআই) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের নির্বাহী কমিটির সদস্য।
গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আছরের পর শান্তিনগরের কুলসুম টাওয়ারের উল্টো দিকের মসজিদে হয় আরেক দফা জানাজা। পরে মিরপুরে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের সাবেক শিক্ষক মুহাম্মদ ইব্রাহীম জানিয়েছেন, মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের জন্ম আনুমানিক ১৯৫০ সালে। তাঁর তিন পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তাঁর গ্রামের বাড়ি হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়ায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক আজাদীতে ‘ঢাকার চিঠি’ নামে একটি কলাম লিখতেন। এরপর লিখতেন ‘চট্টগ্রাম ডটকম’ নামে আরেকটি কলাম।
‘মানুষকে পরিশুদ্ধ করার নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন’
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের এক সময়কার ছাত্র, লেখক আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশের প্রকাশনা এবং সাংবাদিকতা জগতে তার ভিন্নধর্মী একটি ভূমিকা ছিল। কারণ তিনি একই সাথে লেখক ছিলেন, সাংবাদিক ছিলেন, সংবাদভাষ্য লিখতেন এবং টেলিভিশনে গঠনমূলক সমসাময়িক বিষয়ের ওপর আলোচনা করতেন। তার অনুষ্ঠানে বিপরীতধর্মী বা পরপস্পর-বিরোধী মতগুলোকে সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিতেন না। বরং সেই মতগুলোর একটি সুন্দর সমন্বিত উপসংহার টানতে পারতেন। অযথা আক্রমণ করার নীতিতে নয়, মানুষকে পরিশুদ্ধ করার নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। তাঁর সমালোচনার ভাষা এতটাই পরিশীলিত এবং গ্রহণযোগ্য ছিল যে, তিনি যার সমালোচনা করতেন তার কাছেও গৃহীত হতো।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি
চবি প্রতিনিধি জানান, মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ পরিবার এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস)। গতকাল শোক বার্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশের গণমাধ্যম শিক্ষা এবং সাংবাদিকতার বিকাশে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তা পূরণ হওয়ার নয়।
বিভাগের অধ্যাপক ড. সহিদ উল্যাহ বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা ও উন্নয়ন যোগাযোগের বিদ্যায়তনিক প্রসারে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর একজন পাইওনিয়ার।
চবিসাস সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল ও সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের চৌধুরী বলেন, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর দেশের সাংবাদিকতা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতেন। তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিকতা জগৎ একজন অভিভাবককে হারিয়েছে।

x