মায়ের হাতে পগবার বিশ্বকাপ ট্রফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বুধবার , ১৮ জুলাই, ২০১৮ at ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ
107

ফ্রান্স ফুটবল দলটা একটি বহুজাতিক কোম্পানী। যেখানে কেউ আফ্রিকান, কেউ ইউরোপিয়ান। যেমন জিনেদিন জিদান ছিলেন আলজেরিয়ান। এবারের দলে পল পগবা যেমন এসেছে আফ্রিকান দেশ গিনি থেকে। মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া পগবা মা দিবসে নিজের টুইটারে লিখেছিলেন, ‘আমি ভাগ্যবান যে তোমার ছেলে হতে পেরেছি। কারণ ছোট বেলায় পগবার বাবা তার দুই যমজ ভাই সহ তার মাকে ছেড়ে চলে যান। তার মায়ের নাম ইয়ো মরিবা। খুব ছোটবেলায় অনেক কষ্ট করে পগবাসহ তাদের তিন ভাইকে মানুষ করেন এই নারী। আর তাই পগবার কাছে তার মাই সব। বিশ্বকাপের ফাইনালের দিন পগবা মাঠেই নিয়ে এলেন তার মা এবং দুই ভাইকে।বিশ্বকাপ জয়ের পর পল পগবা মাঠে যে নজির স্থাপন করলেন তা বর্ণনাতীত। তিনি মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বিশ্বজয়ের স্মারণ এবং বিশ্বকাপ ট্রফি। মায়ের হাতে ট্রফি তুলে দিয়ে, দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ছবি তুললেন পগবা। মাতৃভক্তি এবং পরিবার ভক্তির অনন্য নজির স্থাপন করলেন পগবা।

বিশ্বকাপের আগে পল পগবাকে নিয়ে আলোচনাসমালোচনা ছিল বিস্তর। ম্যানইউর হয়ে তার পারফরম্যান্স ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। যতটা না প্রতিভা, তার চেয়ে দিতে পারেন কম। ক্লাব এবং জাতীয় দলের অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্সই পগবাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। সমালোচনাও কম হয়নি। মাঠে তার আচরণ খেলার সৌন্দর্য নষ্ট করে তেমন অভিযোগও ছিল। ইতালিয়ান ফুটবলার বালোতেল্লির মত মাঠে নানা নেতিবাচক কাজের জন্য প্রসিদ্ধ পগবাও। তাইতো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাকে পুরো ৯০ মিনিট খেলানোর ব্যাপারে শংকিত থাকে। তবে অন্যরা যত সমালোচনাই করুক না কেন কোচ দিদিয়ের দেশম সে সব সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে পগবার ওপর আস্থা রেখেছিলেন। ম্যানইউর এই তারকা সেই আস্থার প্রতিদান দিলেন পুরোপুরি। পুরো বিশ্বকাপে অসাধারণ খেলার পাশাপাশি ফাইনালে করলেন দুর্দান্ত এক গোল। ক্রোয়েশিয়ার প্রবল পরাক্রমে যেভাবে ম্যাচে ফ্রান্সের ওপর চেপে বসেছিল, তখন এক শঙ্কা সবার মধ্যে তৈরি হয়ে যায়। ফ্রান্স না আবার হেরে যায়।

গ্রিজম্যানের পেনাল্টি থেকে নেয়া গোলের পর কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, সেটাকে নিশ্চিত একটা জায়গা নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে সেই প্রয়োজনীয় কাজটা করলেন পগবাই। করলেন দারুণ এক গোল। ফাইনালে গোল করার দারুণ কৃতিত্বের অধিকারী হয়ে গেলেন তিনি। ক্রোয়েশিয়াকে ৪২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয় করলো পগবার ফ্রান্সই। ব্যক্তিগত জীবনে খুবই ধার্মিক পল পগবা বিশ্বকাপের আগে ওমরাহ পালন করে এসেছেন। বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে অর্জিত সব অর্থ দিয়ে দিয়েছিলেন একটি চ্যারিটি ফান্ডে। সেই ছোট বেলা থেকে অনেক কষ্ট করে মানুষ হওয়া পগবা এখন বিশ্বের অণ্যতম ধনী ফুটবলার। কিন্তু ছোট বেলায় মা যে কষ্ট করে মানুষ করেছে সেটা ভুলে যাননি। তাইতো যেখানেই যান না কেন মাকে ভুলেননা এই ফরাসি ফুটবলার। কারন মা যে তার কাছে সব। তাইতো নিজের বিশ্বকাপ স্মারকটা মায়ের গলায় পরিয়ে দিয়ে সান্তনা পেলেন । ১৯৯০ সালে তার গিনির নাগরিক বাবা আর কঙ্গোর নাগরিক মা শরণার্থী হিসেবে ফ্রান্সে চলে আসেন। সেই থেকে ফ্রান্সের নাগরিক তারা। ১৯৯৩ সালে জন্ম হয় পগবার। শত ঝড় ঝঞ্ঝা কাটিয়ে এখন সুখি পরিবার পল লাবিলে পগবার।

x