মায়েদের ঈদ আনন্দ

আয়েশা পারভীন চৌধুরী

শুক্রবার , ১৫ জুন, ২০১৮ at ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ
181

ঈদ আনন্দকে যিনি সর্বাধিক অর্থবহ করে তোলেন তিনি হচ্ছেন প্রাণময়ী মা। মা ও আনন্দ এই শব্দ দুইটিকে আলাদা করা অসম্ভব। সন্তানের মুখ দেখে যেমন একজন মা প্রসব বেদনা ভুলে যান তেমনি সেই সন্তানের হাসিতেই যেন রাজ্যের সব আনন্দ লুকিয়ে আছে। সমাজের শ্রেণিভেদে মায়ের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থান হয়ত আলাদা কিন্তু সন্তানের কাছে মায়ের অবস্থান অন্য সব কিছুর উর্ধ্বে। সন্তানের মুখের হাসি দেখার জন্য একজন মা সবোর্চ্চ চেষ্টা করে যান। যতক্ষণ পর্যন্ত শরীরে শক্তি থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত শুধু সন্তানের আরামআয়েশের কথা ভেবে ভেবে পরিশ্রম করেন। আর যখন বিছানায় তার শেষ আশ্রয় হয় তখন সন্তানের শুভ কামনায় দিনক্ষণ গুণতে থাকে। সন্তানের সুখ শান্তির জন্য নিজের অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট করে ফেলে। আবার সেই সন্তানের জন্য নিজের শখআল্লাদ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকে। সন্তানের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনায় অধিকাংশ সময় সর্বশক্তিমানের কাছে আর্জি পেশ করে। এভাবে মায়েদের চাওয়া পাওয়াগুলো যেন সন্তানের নিশ্চিত জীবনকে ঘিরে। জীবনের প্রতিটি আনন্দ আয়োজনে সন্তানের সবচেয়ে বড় বন্ধু হচ্ছেন একজন মা। বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবগুলোতে মায়েরাও যেন এই শিশু সন্তানের মতই আনন্দে ভরে উঠেন। সন্তানের চাওয়া পাওয়া ও পছন্দ অপছন্দকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে অনেক সময় অন্যের বিরক্তের শিকার হন। মায়ের আনন্দগুলো তখন সন্তানকে ঘিরে থাকায় একজন মা তখন নিজের বয়স ও অবস্থান ভুলে যান। বাচ্চার জন্য এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেয় যা অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় না। বিশেষ করে ঈদের কাপড়চোপড় কেনাকাটা থেকে সেলাই পর্যন্ত মায়ের ভূমিকা পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে অনেক বেশি। সন্তানের হাসিমুখ দেখার জন্য একজন মা সকল আপত্তিকে উপেক্ষা করে নিজের সাধ্যের মধ্যে সবকিছু করতে প্রস্তুত থাকে।

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময় এই আনন্দের যেন কোন শেষ নেই। এক মাস সিয়াম সাধনার পর যখন ঈদের চাঁদ দেখা যায় তখন সকলেই মহা খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায়। শেষ রোজার ইফতারের পর পর সকলেই আকাশের দিকে বার বার তাকাতে থাকে। ঈদের চাঁদ দেখার মধ্যে যে আনন্দ তা আর কোন কিছুতেই পাওয়া যায় না। চাঁদ দেখার জন্য সবার মধ্যে আগ্রহের সীমা থাকে না। এই চাঁদ দেখার পর রাতের সময়টুকু যেন শেষ হতে চায় না। কখন সকাল হবে এই আশায় সময় গুণতে থাকে। এক্ষেত্রে মায়েদের আয়োজনটা অন্য সবার থেকে আলাদা। ঈদের দিনে ভাল ভাল ও সুস্বাদু খাবার তৈরির জন্য নানা ধরণের আয়োজন নিতে থাকে। সংসারের সকলের প্রিয় খাবারগুলোর তালিকা মাথায় রেখে রমজানের মাঝ থেকেই প্রস্তুতি নিতে থাকে। ঘরের ছোট শিশুটি থেকে শুরু করে বৃদ্ধ মানুষটির পছন্দকে প্রধান্য দিয়ে খাবারের তালিকা প্রস্তুত করেন। তাছাড়া যারা বেড়াতে আসবে তাদের জন্যও অনেক ধরনের নাস্তার ব্যবস্থা করে থাকেন। এই একদিনের আনন্দ যেন মায়েরা সারা রমজান মাসের প্রতিটি ক্ষণকে কাজে লাগাতে ব্যস্ত থাকে। একটি একটি উপাদান সামগ্রী সংগ্রহ ও রক্ষণ করে সবকিছুকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের এই দিনটির জন্য তৈরি করে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে একজন মায়ের ব্যস্ততা আরো বেড়ে যায়। ঈদ পূর্ব সারা রাত জেগে জেগে ও ভোর হওয়ার সাথে সাথে একজন মা তার সকল প্রস্তুতি নিয়ে থাকে।

ঈদ আমাদের মধ্যে যে আনন্দ বার্তা বয়ে আনে তা ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব যেন একজন মায়ের। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ বার্তাটুকু শুরু হয় পরিত্র শবে বরাতের পর পরই। বিপনী বিতানগুলোতে মায়েদের পোশাক নির্বাচন ঘিরে এক ধরণের সাংসারিক যুদ্ধ চলতে থাকে। যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল তাদের ক্ষেত্রে এক ধরণের পোশাক নির্বাচন যুদ্ধ এবং যারা আর্থিকভাবে তেমন সচ্ছল নয় তারাও এই যুদ্ধের মধ্যে টিকে থাকতে আপ্রাণ চেষ্টা করে। একদিকে ক্রেতার আর্থিক অবস্থা অন্য দিকে বিক্রেতার মুনাফা লাভের দ্বন্দ্বে একজন মাকে বেশ হিমশিম খেতে হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত সন্তানের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পাওয়া না যায় ততক্ষণ পর্যন্ত এক দোকান থেকে অন্য দোকানে, এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে ঘুরে বেড়াতে থাকে। এখানে ঘুরে বেড়ান বলতে কষ্ট হচ্ছে। কারণ এই ঘুরে বেড়ানোর সাথে স্বাদ ও সাধ্যের দ্বন্দ্ব। দোকানীদের চরম দর কষাকষিতে মায়েদের অবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই খুব করুণ হয়ে যায়। তবুও সন্তানের হাসি মুুখের জন্য বার বার দোকানীর অপমানজনক ব্যবহারের সম্মুখিন হতে মায়েরা দ্বিধা করেন না। এখানে উল্লেখ করতে হয়, যারা ক্রেতা তারাও পছন্দের জিনিসটা নির্বাচন করতে দোকানীদের বেহাল অবস্থা করেন। শুধুমাত্র একটা পোশাক নির্বাচন করার জন্য তাক থেকে একে একে সকল কাপড় নামাতে বাধ্য করা হয়। যদিও অপরাধবোধ কাজ করে তবুও চোখের তৃপ্তি মেটানোর জন্য পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে একজন মা ও দোকানীর মধ্যে চলে এক ধরণের দ্বন্দ্ব।

ঈদ যেহেতু আনন্দময় একটি উৎসব এই দিনটিকে আরো আনন্দময় করার জন্য মায়ের চেষ্টার কোন শেষ নেই। তাইতো পোশাক নির্বাচনের পর চলে সেই পোশাকের সাথে মিল রেখে নানা প্রসাধনী সংগ্রহ। রং ও ডিজাইনের সাথে মিল রেখে নানা প্রসাধনী ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতেও মায়েদেরকে যতেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়। তবুও মায়ের আনন্দ বলে কথা। সন্তানের আনন্দের মধ্যে যে আনন্দ একজন মা খুঁজে পান অন্য কোন ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। তাইতো একজন মা তার সাধ ও সাধ্যের মধ্যে রেখে নিজের রুচির পরিচয় দিয়ে যান। শুধুমাত্র সন্তান নয় পরিবারের অন্য সদস্যদের পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে একজন মায়ের ভূমিকা প্রশংসনীয়। বাড়ীর কাজের মেয়ের পোশাকটিও একজন মায়ের স্নেহমায়ায় কেনা। ঘরের কাজের মানুষটিকে ঈদের দিনে খুশিতে দেখতে একজন মা তার সাধ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব তা চেষ্টা করে। কারণ তারাও আমাদের পরিবারের একজন। তাই একজন মাই পারেন সকলের মুখে হাসি ফোটাতে। এই আনন্দ ধরে রাখতে মায়েদেরকে অনেক সময় বাবাদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। কারণ আর্থিক দিকটা তখন বেশ বড় হয়ে দাঁড়ায়। সকলের জন্য কিছু না কিছু কেনাকাটা করতে করতে কখনো কখনো বাজেট অতিক্রম করে। তবু যেন মা তার সকল সামর্থ্যকে কাজে লাগাতে চেষ্টা করে। এই মায়েরা যুগে যুগে তাদের সকল ধ্যান ধারণায় সন্তানের আনন্দকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে কখন যে নিজের কথা ভুলে যায়। অনেকেই হয়ত আমার এই কথাটিতে আপত্তি তুলতে পারে। মায়েরা মেয়ে জাত। ঈদে পোশাক কিনবে না, তা কী হয়? আমি স্বীকার করছি মায়েরাও নিজের জন্য ঈদের পোশাক কিনে। অন্যান্য সামগ্রীও কিনেন। কিন্তু শুরু থেকেই থাকে সন্তান ও অন্যান্য সদস্যদের প্রাধান্য। ফাঁকে ফাঁকে পছন্দ হলে নিজের জন্য ঈদের কেনাকাটা করেন।

ঈদে মায়ের আনন্দের কথা লিখতে গিয়ে বার বার আমার মায়ের কথা মনে পড়ছে। আমার মায়ের ঈদ আনন্দ ছিল আমাদেরকে নিয়ে। সেই পোশাক নির্বাচন থেকে শুরু করে খাবারের তালিকা তৈরিতে আমাদের পছন্দটুকু প্রধান্য পেত। শেষ রমজানের রাতে সে কি ব্যস্ততা! আমরা আমাদের কাপড়চোপড় নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। আর আম্মা ঘরদোড় পরিষ্কার পরিছন্নের সাথে সাথে মজার মজার খাবার তৈরিতে ব্যস্ত থাকত। আমরা এক ঘর থেকে অন্য ঘরে বাব বার এলোমেলো করতে থাকতাম। আর আম্মা বারবার ঠিক করতে থাকতেন। ঈদ, তাই কোন বকাবকি করতেন না। আমাদের আনন্দটা ছিল নিজের পোশাকআশাক নিয়ে। আর আম্মার আনন্দ ছিল আমাদের আনন্দময় হইচই দেখে। কখনো কখনো বিরক্ত হলেও বকা দিতেন না। আমরাও ফাঁকে ফাঁকে মায়ের কাজে বেঘাত ঘটাতাম। রান্না ঘর থেকে ভেসে আসা মজাদার খাবারের সুগন্ধতে আমরা বার বার তাকে বিরক্ত করতাম। একটু করে খেয়ে স্বাদ নেওয়ার জন্য কত যে পিছু পিছু ঘুরতাম। তখন আম্মা আমাদেরকে রান্না ঘর থেকে বের করে দিতেন। এভাবে রাত গড়িয়ে যখন ভোরের আলো দেখা যেত তখন মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙ্গত। আমরা দৌড়ে ফুল কুড়াতে যেতাম। ততক্ষণে মায়ের সকালের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমাদেরকে ফুলের মালা তৈরিতে সাহায্য করতে এগিয়ে আসতেন। এত কাজের পরও আমাদের ফুলগুলোকে সুন্দর করে সাজিয়ে দিতেন। এরপর শেষে ঈদের পোশাক পরিয়ে দিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। সবাই তৈরি হলে নিজেও নতুন শাড়ি পরতেন।

কার বাচ্চা কত বেশি সেলামি পেয়েছে তা নিয়ে চলে গবেষণা। কাপড়চোপড়, খাবারদাবারের পাশাপাশি ঈদ সেলামি নিয়ে মায়ের আনন্দের সীমা নেই। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বাচ্চাদের ঈদ সেলামীর একমাত্র মালিক হচ্ছে স্নেহময়ী মা। যদিও মাঝে মাঝে বাচ্চাদের জবাবদিহিতার সম্মুখিন হতে হয় তবুও সন্তানের ঈদ সেলামী রাখার একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য স্থান হচ্ছে মায়ের ব্যাংক। কাজের ফাঁকে প্রতিবেশী খালাম্মাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য ছুটে যেতে হয়। এ যেন অন্য রকম আনন্দ। যে যার অবস্থান থেকে মায়েদের খুশী প্রকাশ করতে থাকেন। কে কাকে একটু আপ্যায়ন করতে পারে এতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রতিবেশী খালারা ঈদ বকশিশ দিয়ে নিজ সন্তান ও তাদের বন্ধুদের কাছে টেনে নিতেন। ঐ সেলামী নিয়ে বাচ্চারা আবার তাদের মায়ের কাছে ছুটে যেত। মা সন্তানের মধ্যে ঈদ সেলামি নিয়ে চলে এক ধরণের প্রতিযোগিতা। মায়ের অতীত স্মৃতিতে তার শৈশব বার বার ধরা দেয়। এই স্মৃতিকে অবলম্বন করে মা তার আদরের সন্তানকে আরো বেশি আনন্দ দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এই ব্যস্ততার কোন আক্ষেপ নেই। বরং এই ব্যস্ততা একজন মায়ের ঈদ আনন্দকে আরো বেশি আনন্দময় করে তোলে।

আমার মায়ের মত সকল সকল মায়ের একটি ব্যস্ত দিন কাটে এই পবিত্র ঈদের দিনে। সকলকে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বেশ যত্ন নেয় একজন মা। বিশেষ করে বার বার থালাবাসন ধুতে ধুতে মায়ের হাতের অবস্থা যে করুণ হয়ে পড়ে। তবু মা তার সকল আনন্দ হাসির মধ্যে আমাদেরকে দেখতে পছন্দ করে। নিম্ন আয়ের মায়ের ক্ষেত্রেও সেই একই অবস্থা। যতটুকু সামর্থ্য তা দিয়ে সন্তানকে সাজাতে চেষ্টা করেন। এই দিনে অন্তত সন্তানকে সুন্দর করে সাজিয়ে দিতে চেষ্টা করেন। নিজের সাধ্যের মধ্যে 

ভালমন্দ খাবার তৈরি করে সন্তানকে খাওয়াতে চেষ্টা করেন। যারা শ্রমজীবী গরিব মা তারাও তাদের সন্তানকে ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত করেন না। বরং নিজেকে অন্য সব আনন্দ থেকে বঞ্চিত করে সন্তানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরাই তারাও সকল প্রচেষ্টা চালিয়ে যায় যাতে তাদের আদরের সন্তানটুকু ঈদ আনন্দে দিনটা কাটাতে পারে। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, সরকারী নির্দেশে সব কয়টি শিশু পার্ক খুলে দেওয়া হয় এই গরীবদুঃখী অসহায় অনাথদের জন্য। যাতে অন্তত এই একটি দিন তারাও আনন্দে কাটাতে পারে। যারা বিভিন্ন বাসা বাড়িতে কাজ করেন তারাও তাদের সন্তানদেরকে নতুন কাপড় কিনে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যান। যতক্ষণ সুস্থ থাকেন ততক্ষণ আরো বেশি পরিশ্রম করেন যাতে কিছু বাড়তি উপার্জন হয়। এই বাড়তি উপার্জন দিয়ে রমজানের শেষ দিকে বিপনীতে ছুটে যান। আমরা সাধারণত রমজানের শেষের দিকে সচ্ছল মানুষদেরকে তেমন মার্কেটে দেখি না। কারণ তারা অনেক আগেই ঈদের শপিং সেড়ে ফেলেন। শেষ দিকে ঢল নামে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের। এই স্তরের মায়েদের কর্দমাক্ত মুখ তাদের কষ্টের ও আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। শত কষ্টের পর যখন সন্তানকে একটা নতুন জামা কিনে দিতে সক্ষম হয় তখন সেই মায়ের কাছে আনন্দের আর কোন সংজ্ঞা থাকে না। বাসা বাড়ী থেকে দেওয়া ভাল ভাল খাবার দাবারগুলো নিজে না খেয়ে সন্তানের জন্য নিয়ে আসেন সেই মা। ঈদের আনন্দটুকু সন্তান ও পরিবারের মধ্যে বিলিয়ে দিতে একজন মা অবিরাম পরিশ্রম করে যান। এই পরিশ্রম অন্যদিনের পরিশ্রমের মত নয়। এই পরিশ্রমের মধ্যে আছে ঈদের দিন পরিবারকে আরো বেশি আনন্দময় করে তোলার জন্য। সারাদিনের ঘুরাঘুরি ও ব্যস্ততার পর যখন সবাই রাত্রে একত্রিত হয় তখনও মাকে ঘিরে সন্তানের আনন্দ প্রকাশ। সন্তান তার সারাদিনের আনন্দের ঘটনা প্রকাশ করতে করতে মায়ের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে থাকে। সন্তানের আনন্দময় দিনের ঘটনা শুনতে শুনতে এক সময় মা তা নিজের শৈশবে ফিরে যান। নিজের অজান্তেই তার শৈশবের ঈদের দিনের অভিজ্ঞতার সাথে সন্তানের অভিজ্ঞতাকে মিলাতে থাকে। মায়ের সময়ের ঈদ আনন্দ ও সন্তানের সময়ের ঈদ আনন্দে বেশ পার্থক্য থাকলেও সন্তানের আনন্দটাই মায়ের কাছে মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়।

লেখক : অধ্যাপক, ইংরেজী বিভাগ, ডাঃ ফজলুলহাজেরা ডিগ্রী কলেজ, চট্টগ্রাম

x