মাহবুব-উল আলম : সাহিত্যের সনিষ্ঠ সাধক

বুধবার , ৭ আগস্ট, ২০১৯ at ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
31

কথাশিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক হিসেবে বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে মাহবুব-উল আলম একজন সনিষ্ঠ শিল্পী, একাগ্র সাধক। প্রচারবিমুখ এই সাহিত্যপ্রেমী কলম ধরেছিলেন বিশ শতকের বিশের দশকে। সেই থেকে আমৃত্যু তিনি এর চর্চা করে গেছেন। সমাজ ও রাজনীতি সচেতনতা এবং প্রগতিমনষ্কতা তাঁর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য। আজ মাহবুব-উল আলমের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী।
্ল্ল্লমাহবুব-উল আলমের জন্ম ১৮৯৮ সালের ১লা মে চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ গ্রামে। ১৯১৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কিছুকাল চট্টগ্রাম কলেজে অধ্যয়ন করেন তিনি। এ সময় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে মাহবুব-উল আলম ঝোঁকের মাথায় হঠাৎ করেই সেনাবাহিনিতে নাম লেখান এবং ৩৯ নম্বর বাঙালি পল্টনের সদস্য হিসেবে ইরাকের সমরাঙ্গনে যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধ শেষে চট্টগ্রামে ফিরে যোগ দেন সরকারি চাকরিতে। চাকরির পাশাপাশি নিবেদিত ছিলেন একনিষ্ঠ সাহিত্য সাধনায়। তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে উপন্যাস, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা, ইতিহাস, ভ্রমণচিত্র, জীবনী, ব্যঙ্গ রচনা প্রভৃতি। মাহবুব-উল আলমের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যসৃষ্টির মধ্যে রয়েছে: ‘পল্টন জীবনের স্মৃতি’, ‘মোমেনের জবানবন্দী’, ‘মফিজন’, ‘গাঁয়ের মায়া’, ‘তাজিয়া’, ‘পঞ্চ অন্ন’, ‘গোঁফ সন্দেশ’, ‘আলাপ’, ‘সংকট কেটে যাচ্ছে’, তিন খণ্ডে রচিত ‘চট্টগ্রামের ইতিহাস’, ‘বার্মার হাঙ্গামা’, ‘চট্টগ্রামের অলি দরবেশ’, ‘চট্টগ্রাম রোসাঙ্গ’ চার খণ্ডের ‘বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের ইতিবৃত্ত’ ইত্যাদি। ‘মোমেনের জবানবন্দী’ তাঁর আত্মজৈবনিক রচনা। এটি তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। তাঁর প্রতিটি রচনাই সাহিত্য-শিল্প মূল্য বিচারে অনন্য। বাঙালির স্বাধীকার চেতনা ও মুক্ত মানস গঠনে তাঁর প্রয়াস ছিল দীপ্র ও সাহসী। চট্টগ্রামে বেশ কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠায় তাঁর উদ্যোগী ভূমিকা ছিল। ছিলেন উদার, মানবতাবাদী – মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল সীমাহীন। ১৯৮১ সালের ৭ই আগস্ট মহান ব্যক্তিত্ব মাহবুব-উল-আলম প্রয়াত হন।

x