মালয়েশিয়া থেকে প্রবাসীরা সহজেই রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন মাইক্যাশঅনলাইনে

শাব্বির আহমেদ তামীম

সোমবার , ১৩ মে, ২০১৯ at ৯:৪০ অপরাহ্ণ
192

কবির মিয়া আগে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠাতেন অনেক কষ্টে। টাকা পাঠাতে তাকে যেতে হতো শহরে আর খরচও হতো বেশি। আর এখন ১০ মিনিটে দেশে টাকা পাঠান মাইক্যাশের মাধ্যমে আর খরচও অনেক কম। এমন এক লক্ষ কবির মিয়া দেশে টাকা পাঠানোর জন্য বেছে নিয়েছেন মেহেদি হাসান সুমনের মাইক্যাশকে।

শুধু বাংলাদেশের অভিবাসীরাই নয় ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া আর পাকিস্তানের অভিবাসীরাও দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন মাইক্যাশের সাহায্যে।

বাংলাদেশে ২০০৭ সালে মেহেদি হাসান সুমন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে মালয়েশিয়ার সফটওয়্যার ফার্মে যোগ দেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশের অভিবাসীদের সমস্যা সমাধানে কিছু একটা করার চিন্তা করেন। বাজার গবেষণা করে জানতে পারেন মালয়েশিয়ার জনসংখ্যার ১৯ শতাংশ অভিবাসী এবং এর মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ বাংলাদেশী। বেশিরভাগ কাজ করে কারখানা শ্রমিক হিসেবে। আর মাসিক ২০০০ রিঙ্গিত (৪০,০০০) টাকা আয় না করলে ব্যাংক একাউন্ট করা যায় না এবং ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠানো যায় না।

তাই দেশী ভাইদের সমস্যা সমাধানে চালু করলেন মাইক্যাশ অনলাইন যার মাধ্যমে অল্প খরচে দেশে টাকা যেমন পাঠানো যায় তেমনি মোবাইল টপআপ, বাস-বিমানের টিকেট কাটা থেকে শুরু করে ই-কমার্স পেমেন্টেও বিল পে করা যায়।

২০১৬ সালে যাত্রা করা মাইক্যাশ শুরু থেকেই অনাবাসীদের মাঝে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মালয়েশিয়ার ব্যাংকগুলো যেহেতু শহরভিত্তিক তাই প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনাবাসীরা সহজেই মাইক্যাশের সেবা গ্রহণ করতে পারছে নিজ এলাকা থেকে।

বর্তমানে মাইক্যাশের মাধ্যমে মাসে লেনদেন হয় প্রায় ২০ কোটি টাকা। রেজিস্টার্ড গ্রাহকের সংখ্যা ৯০ হাজার। আটশ’ এজেন্টের মাধ্যমে এই ৯০ হাজার গ্রাহক বিশ্বের ৫৫টি দেশে টাকা পাঠাতে পারবেন ১০ মিনিটে।

২০১৬ সিডস্টারের মালয়েশিয়ার প্রতিযোগিতায় অনেক স্টার্টআপকে পেছনে ফেলে মাইক্যাশ চ্যাম্পিয়ন হয়। পিচইন ক্রাউড ফান্ডিংয়ের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ২০১৮ সালে ১.২৫ কোটি টাকা ফান্ডিং পায় মাইক্যাশ যা মালয়েশিয়ায় তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তারে ব্যয় হয়।

সম্প্রতি সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ায় মাইক্যাশ তাদের যাত্রা শুরু করেছে। সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশিরা এখন মাইক্যাশের মাধ্যমে টাকা দেশে পাঠাতে পারবেন।

মাইক্যাশের প্রতিষ্ঠাতা মেহেদি হাসান সুমন বলেন, ‘আমরা যেমন অনাবাসী বাংলাদেশীদের সহজে দেশে টাকা পাঠানোর সুযোগ করে দিচ্ছি কম খরচে তেমনি তাদের পাঠানো টাকা আমাদের দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে অনেক। এভাবে মাইক্যাশ দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। দেশের বাইরে থাকলেও আমি সবসময় দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি এটাই আমার বড় প্রেরণা। দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণে অবদান রাখতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি।’

বর্তমানে মাইক্যাশে ১২ জন পূর্ণকালীন কর্মী কাজ করছে পাশাপাশি ৫ জন খণ্ডকালীন কর্মীও আছে। অতিসত্তর মাইক্যাশ মধ্যপ্রাচ্য, লিথুয়ানিয়া ও ভিয়েতনামেও কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানা যায়।

লেখক: বিনিয়োগ বিশ্লেষক ও উদ্যোক্তা

x