মামলা নিতে ফটিকছড়ি থানার ওসিকে আদালতের নির্দেশ

গৃহকর্মী কুসুম হত্যা

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

সোমবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ
427

নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় কুসুম আক্তার (২০) নামে ফটিকছড়ির এক গৃহকর্মীকে খুনের অভিযোগে হোমিও চিকিৎসক দমপতি ও তাদের মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা নিতে ফটিকছড়ি থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৫ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক শহীদুল্লা কায়সার এ আদেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট এমরান নাঈম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ওসি ফটিকছড়িকে নির্দেশ দিয়েছেন। গত বছরের ১ নভেম্বর চট্টগ্রামের বিচারিক হাকিম শিপলু কুমার দে’র আদালতে একটি সিআর মামল নং ৩১১/১৮ দায়ের করেন নিহত কুসুমের বাবা রমজান আলী। উক্ত মামলায় আসামি করা হয় মোহাম্মদ মোস্তফা মজুমদার (৫০), তার স্ত্রী ফেরদৌস মজুমদার (৪৫) ও তাদের মেয়ে স্মৃতি মজুমদারকে (২৮)। তারা ফটিকছড়ি সদর পৌর সভার বিবিরহাট কোর্টের পাড় এলাকার বাসিন্দা। চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
বাদীর আইনজীবী এডভোকেট এমরান নাঈম বলেন, বিবাদী স্বামী-স্ত্রী দুজনই হোমিও চিকিৎসক। আদালত উক্ত মামলাটি গ্রহণ করে ফটিকছড়ি ও খুলশী থানার ওসিকে এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, বাদী রমজান আলী ফটিকছড়ির উপজেলার কাঞ্চননগর রক্ত ছড়িকুল এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় ভ্যান চালক। তার মেয়ে কুসুম জিইসি মোড়ে আসামিদের বাসায় মাসিক দেড় হাজার টাকায় গৃহকর্মী হিসেবে মৃত্যুর সাত মাস পূর্বে থেকে কাজ করে আসছিলেন। গত বছরের ২৪ অক্টোবর রাত ৩টায় আসামিরা বাদীকে ফোন করে জানান, কুসুম গুরুতর অসুস্থ। এর দুই ঘণ্টা পর আসামিরা বাদীর বাড়ির উঠানে গিয়ে বাদীকে ডেকে তোলেন। তারা বাদীকে জানান, তার মেয়ে বেঁচে নেই, তারা লাশ নিয়ে এসেছেন। এরপর তারা কুসুমের লাশ উঠানে রেখে কৌশলে চট্টগ্রাম চলে যান। গ্রামের লোকজন লাশ কবর দিয়ে দেয়। কুসুমের মৃত্যু সমপর্কে আসামিদের সাথে বাদী যোগাযোগ করলে একেক সময় একেক কথা বলেন। এতে বাদীর সন্দেহ হওয়ায় ফটিকছড়ি থানায় এজাহার দিতে যান বাদী। থানায় মামলা না নেয়ায় আদালতের আশ্রয় নেন রমজান আলী। এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি থানার ওসি বাবুল আকতার বলেন, এ বিষয়ে মামলা নেয়ার ব্যাপারে কোর্ট কতৃক কোনো আদেশ আমার কাছে এখনও আসেনি।

x