মামলার অগ্রগতিতে ‘সন্তুষ্ট’ বাদী ও পুলিশ

আসামিরা আত্মগোপনে

সোহেল মারমা

শনিবার , ১২ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:২৯ পূর্বাহ্ণ
36

পাহাড়তলীতে গণপিটুনিতে নিহত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন সোহেলকে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আসামি কাউন্সিলরসহ ১৭৭ জন। এর মধ্যে ৫ জনকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। মামলা দায়েরের প্রথম দুই দিনে তারা গ্রেপ্তার হয়। পরদিন আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে পুলিশ বলছে, মামলার অগ্রগতি হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে বিষয়টি মনিটরিং করার পাশাপাশি পুলিশ আন্তরিক থাকায় এ মামলার তদন্ত কাজ সু্‌ষ্ঠুভাবে এগিয়ে চলেছে। এদিকে একটি সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্য আসামিদের বেশিরভাগই বর্তমানে আত্মগোপনে আছে। তাতে আসামি ধরতে পুলিশের বেগ পেতে হচ্ছে। গত সোমবার সকালে পাহাড়তলী বাজারে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে মহিউদ্দিন সোহেলকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করে পরিবার। পরদিন রাতে ডবলমুরিং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় প্রধান আসামি ১২ নং সরাইপাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পাহাড়তলী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক সাবের আহম্মেদ, জাতীয় পার্টির নেতা ও বাজার কমিটির সদস্য ওসমান খানসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাত আরো দেড়শজনকে আসামি করা হয়। নিহতের ছোট ভাই শাকিরুল ইসলাম শিশির বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ও মামলার দুই নম্বর আসামি ওসমান খানকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আরো চার আসামিকে পাহাড়তলী বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের সবাই বিভিন্ন দোকানের কর্মচারী। এরা হলেন আজাদ, মামুন, মোবারক হোসেন ও সাহাবুদ্দিন। তবে এই মামলার আসামি হিসেবে তালিকায় সাহাবুদ্দিনের নাম নেই বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, মামলার তদন্ত কাজ চালাতে গিয়ে সাহাবুদ্দিনের নাম আসায় তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক করা হয়েছে। গতকাল এ মামলায় অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়নি পুলিশ। এর আগের দিন আলোচিত হত্যাকাণ্ডটির প্রধান আসামি কাউন্সিলর সাবের আহম্মেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি আলোচনা হয়। তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে এলাকায় গুজব ছড়ায়। ওইদিন রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।
প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডবলমুরিং থানার ওসি (তদন্ত) মো. জহির হোসেন আজাদীকে বলেন, পুলিশের অন্য কোনো টিম হয়ত তাকে গ্রেপ্তারের জন্য যেতে পারে। কিন্তু আমরা তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারিনি। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কাজ যথাযথ প্রক্রিয়ায় এগিয়ে চলছে। অগ্রগতিও হচ্ছে। এ ঘটনায় সব আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।
এদিকে গতকাল কাউন্সিলর সাবের আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. সাইফুল বলেন, ঝামেলার কারণে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি জানান, তিনি গ্রেপ্তার হননি। এ নিয়ে এলাকায় গুজব ছড়িয়েছিল। কিছুক্ষণ আগে তিনি বাসায় এসে বিশ্রাম নেন বলে জানান সাইফুল।
এদিকে, নিহতের ছোট ভাই শাকিরুল ইসলাম শিশির গতকাল আজাদীকে বলেন, বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। সুতরাং এ বিষয়ে আমার বেশি কিছু জানার সুযোগ নেই। উনারা এখনই কিছু জানাতে চাচ্ছেন না। তবে পুলিশ মামলাটির ব্যাপারে আন্তরিক আছে।

x