মানুষের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন

বুধবার , ১০ জুলাই, ২০১৯ at ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
29

এই বছর ঈদ-উল-ফিতর অন্যান্য বছরের মতো আনন্দের সাথে পালন করলাম। ঈদের জামা পরে প্রথমে হামজারবাগ দাদুর বাসায় গেলাম। সবার সাথে খুব মজা করলাম। বড়দেরকে সালাম করলাম এবং কোলাকুলি করলাম। দারুণ মজা হলো! ঈদের পরের দিন কারে করে আমি, আম্মু, আব্বু ও গৃহ সহকর্মী গেলাম বড় খালা, বড় ফুফি ও আমার নানুর বাড়িতে। নানুর বাড়িতে এক রাত থেকেও গেলাম। পরের দিন বিকেল বেলায় সেই কারটি করে গেলাম আমাদের গৃহ সহকর্মীর বাড়িতে তাকে পৌঁছে দিতে। সেখানে আমাদের বসতে বলল এবং নাস্তা খেতে বলল। আমরা সেখানে বসলাম ও নাস্তা খেলাম। চন্দনাইশের খাগরিয়া গ্রামে। সেখানে আমাদের দেখতে অনেক ছোট ছেলেমেয়ে আসল। সবাইকে আমার আব্বু দশ-বিশ টাকা করে বখশিশ দিল। তারপর আমাদের গৃহকর্মীর বড় ভাই এলো। আমার আব্বুর দিকে তিনি করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেন। একটু সংকোচ করছিলেন তিনি। আমার আব্বুর তার সাথে করমর্দন করলেন। হয়তো লোকটি ভাবছিলেন যে, লোকটি বড়লোক হতে পারে। সুন্দর করে সেজেগুজে এসেছেন। আমার সাথে কি তিনি করমর্দন করবেন? আমার আব্বু কিন্তু তার সাথে করমর্দন করলেন। আমরা কিন্তু বড় লোক নই। আমরা হলাম মধ্যবিত্ত। আমার আব্বু খুব ভালো মানুষ। সকল রকমের মানুষের জন্য আমার আব্বুর খুব স্নেহ-মায়া-মমতা-ভালোবাসা আছে। তিনি ধনী-গরিব কোনো ভেদাভেদ করেন না। তিনি মানুষের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। মানুষের টাকা লাগলে তিনি টাকা দিয়ে সাহায্য করেন। তাই গ্রামের বাড়িতে আব্বুর খুব সুনাম রয়েছে। আমার আম্মুও ঠিক সেরকম। আমাদেরকে আমাদের গ্রামের মানুষ অনেক ভালোবাসেন। সেখান থেকে কারে করে আমরা চন্দনাইশের সৈয়দাবাদে আরেক আত্মীয়ের বাসায় রওয়ানা হলাম। কারটির ড্রাইভার খুব ভালো মানুষ। আমাদের গন্তব্যটিতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি রাস্তার গলির ভেতরেও ঢুকে গিয়েছিলেন। সেই গলিটিতে একটু পুকুরের পাশ কেটে তিনি যখন যাচ্ছিলেন তখন গাড়ির চাকা খাদে পড়ে গিয়েছিল। তারপর আমরা গাড়ি থেকে নেমে আত্মীয়ের বাড়িতে যাই। গাড়ির ড্রাইভার আঙ্কেল গাড়িটি খাদ থেকে উঠাতে অনেক চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু পারছিলেন না। যারা দেখছিল তারা বলছিল যে তিনি গাড়িটি সেখানে কেন নিয়ে এসেছেন। সবাই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছিল। একজন বলছিল যে, ‘গাড়ি খাদ থেকে উঠানোর সময় আমার বেড়ার সাথে যেন গাড়ি না লাগে। যদি লাগে তাহলে আমি তোকে দেখে নেব।’ বাবার বয়সী একজন মানুষের সাথে কেমন করে এই তরুণ এমন কর্কশ ভাষায় কথা বলতে পারল? সৃষ্টিকর্তা বলেছেন যে একজনের বিপদে আরেকজন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দাও। অথচ লোকজন ড্রাইভারটির বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিল। শুধু যে তাই করছিল তা কিন্তু নয়। একই সাথে ড্রাইভার আঙ্কেলটিকে তারা তুই সম্বোধন করে বিভিন্ন ধরনের খারাপ কথা বলছিল। এসব কিছু করার মধ্য দিয়ে গুনাহ না করে তারা লোকটির বিপদে সহায়তা করে সওয়াবের অংশীদার হতে পারত। কিন্তু তারা তা না করে শয়তানের প্ররোচনায় খারাপ কাজ করে গুনাহর অংশীদার হলো। তাদের কি পরকালের কোনো ভয় নেই? কথায় আছে, ‘মানুষ মানুষের জন্য’ কিন্তু মানুষই যদি মানুষের বিপদে এগিয়ে এসে সহায়তা না করে বরং মন্দ ও বিশ্রী কথা বলে তাহলে কেন এই পৃথিবী, কেন এই দেশ, কেন এই রাষ্ট্র, কেন এই সমাজ, কেন এই মানুষ? সম্মান দিলেই কিন্তু সম্মান পায়। না হলে কিন্তু সম্মান পাওয়া যায় না। দুনিয়া ও পরকালে মানুষ ব্যর্থ হয়। তাই মানুষের প্রতি সদ্ব্যবহার করা এবং মানুষের বিপদে এগিয়ে এসে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমাদের উচিত মনে সৃষ্টিকর্তার ভীতি রেখে ভালো কাজ করা এবং মন্দ কাজ পরিহার করা।
নূরতাজ তাফহিমা খান, অষ্টম শ্রেণি (দিবা), অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।

x