মানবিক চিকিৎসক

মুনিয়া মুন

শনিবার , ৩১ আগস্ট, ২০১৯ at ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
76

চিকিৎসকরা সেবা দেয়! সেবা দিবে এটাই স্বাভাবিক! মানুষ এটা ভেবেই অভ্যস্থ। আর যদি কোন চিকিৎসক সেবা দিতে গিয়ে ভুল চিকিৎসা দিয়ে ফেলেন তবে সাড়ে সর্বনাশ! কোন রোগীর স্বজন তা কি আর মেনে নিতে পারে? কিভাবে মেনে নিবে? কেউ কি তার আপনজন হারাবে ভুল চিকিৎসায়? একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায় এ ধরনের অবস্থায় চিকিৎসকের কী পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়। এই ইস্যু কেন্দ্র করে হসপিটাল ভাংচুরও হয়। চিকিৎসকবৃন্দ রোগী দেখা বন্ধ করে দেন। শুরু হয় আরেক মানবেতর জীবন! কিন্তু দায়িত্ববান চিকিৎসকরা খুব কষ্ট-তিক্ত বিরক্ত থেকে সেবা থেকে সরে দাঁড়ান। বিশেষ করে সরকারি চিকিৎসক সমাজ কতটা কষ্ট করে তা নিজ চোখে না দেখলে বুঝা মুশকিল। রোজার ঈদে কুরবানির ঈদে ছুটি কাটানোর সুযোগ হয়নি চিকিৎসকদের। বেশিরভাগই হাসপাতালে দায়িত্বে ছিলেন। কুরবানি ঈদের দ্বিতীয় দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে কয়েক ঘণ্টা সময় কাটালাম আমার এক চিকিৎসক বান্ধবীর সাথে। কি পরিমাণ কাজের ব্যস্ততা দেখলাম তার এবং তার কলিগদের। নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হতো না।একবার কক্ষে রোগী দেখছে, একবার জরুরি রোগী দেখতে দৌঁড়াচ্ছে! ফাইল দেখছে! আবার কোন রোগী এসে অভিযোগ দেয় নার্সরা কথা শুনে না। এবার আবার ডাক্তাররা নার্সদের ডাকতে ডাকতে ক্লান্ত। রোগীরা স্যালাইন লাগাতেও ডাক্তারের কাছে ছুটে আসে। কি একটা পরিস্থিতি। তার উপর একের পর এক রোগীর চাপ। আমি শুধু কয়েকটি ছবি তুলে রাখলাম। ভাবলাম এতো কষ্ট? হতে পারে চিকিৎসক কিন্তু তারাও আমাদের মত মানুষ। তাদেরও পরিবার আছে, আছে সুখ দুঃখ। ডাক্তার বলেই যে ডাক্তার অসুস্থ হন না, কিংবা সমস্যা থাকতে পারে না তা কিন্তু নয়। অসুস্থ শরীরেও সেবা দেয়। এই যে চারিদিকে ডেঙ্গু জ্বরের প্রভাব। হাসপাতালে রোগীর চাপ। তবু চিকিৎসকরা সেবা দিতে নিরলস প্রস্তুত। বলতে হবে চিকিৎসকরা অপরিসীম ভূমিকা রেখেছেন এবং রাখছেন। জন্মমৃত্যু সময়ে এ পেশা মহান পেশার পরিচয় দেয়। এটা রোগী এবং চিকিৎসক সবারই মনে রাখা দরকার। যাই হোক, এ পেশার মানুষকে কসাই না বলে জীবন মরণের বন্ধু ভাবা উচিত। কিছু সংবাদ মাঝে মাঝে চোখে পড়ে কত চিকিৎসক বিনা পয়সায় সেবা দেন। অথচ তাদেরও শুনতে হয় কসাই! কেন সবাইকে একই দৃষ্টিতে দেখা হবে? কোন কোন চিকিৎসক আচার ব্যবহার খারাপ, তার মানে সবাই একই রকম নয়। দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন হোক এ প্রত্যাশাই রইল।

x